WB Madhyamik: পিছিয়ে যাচ্ছে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক! জানিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী, পাঠ্যবইয়ে বড় বদলেরও ঘোষণা

ঠিক কবে থেকে পরীক্ষা শুরু হবে, তার চূড়ান্ত সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে পরীক্ষার দিনক্ষণ বদলের পাশাপাশি রাজ্যের স্কুলপাঠ্যক্রমেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। সরকারি পাঠ্যবইয়ে সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

Published on: Nov 5, 2026, 08:38:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ফের ধাক্কা রাজ্যের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের! ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হচ্ছে না। পিছিয়ে যাচ্ছে দুই গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড পরীক্ষা। বুধবার পর্ষদ, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবং স্কুলশিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। তবে ঠিক কবে থেকে পরীক্ষা শুরু হবে, তার চূড়ান্ত সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে পরীক্ষার দিনক্ষণ বদলের পাশাপাশি রাজ্যের স্কুলপাঠ্যক্রমেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। সরকারি পাঠ্যবইয়ে সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

ঠিক কবে থেকে পরীক্ষা শুরু হবে, তার চূড়ান্ত সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ঠিক কবে থেকে পরীক্ষা শুরু হবে, তার চূড়ান্ত সূচি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

কিন্তু কেন পিছিয়ে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক? শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দেশজুড়ে জনগণনার কাজ চলবে। এই কাজে রাজ্যের বহু শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে যুক্ত থাকতে হবে। ফলে একই সময়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষা আয়োজন করা কার্যত কঠিন হয়ে পড়বে। পরীক্ষার কেন্দ্র পরিচালনা, পরিদর্শক নিয়োগ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই পরীক্ষার দিনক্ষণ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দপ্তর।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাধ্যমিক পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২ মার্চ থেকে শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ২ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৬ মার্চ পর্যন্ত পরীক্ষা চলতে পারে বলে খবর। অন্যদিকে মাধ্যমিক পিছিয়ে যাওয়ায় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাও পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিকের চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা ১৬ মার্চ অথবা দোলযাত্রার পর শুরু করার ভাবনাচিন্তা চলছে। শিক্ষা সংসদের সূত্রের খবর, ২২ মার্চ দোলযাত্রার পরেই পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই সংশোধিত পরীক্ষাসূচি প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, জনগণনার দায়িত্বে শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় জনগণনা কর্তৃপক্ষের তরফেও রাজ্যকে অনুরোধ করা হয়েছে, ১ মার্চের আগে যাতে বড় কোনও পরীক্ষা না রাখা হয়। সেই বিষয়টিও পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানা গিয়েছে।

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষকমহলের একাংশে অসন্তোষও তৈরি হয়েছে। শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, SIR, নির্বাচনের দায়িত্ব এবং এবার জনগণনার কাজে বারবার শিক্ষকদের স্কুলের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পড়ুয়াদের প্রস্তুতি এবং পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরিকল্পনাতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

এদিকে শুধু পরীক্ষার সূচি নয়, স্কুলের পাঠ্যক্রমেও বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে ২০২৭ সাল থেকে কম্পিউটার শিক্ষা বা ICT বাধ্যতামূলক পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন বইয়ে থাকবে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এবং কোডিং। সংশ্লিষ্ট স্কুলের কম্পিউটার প্রশিক্ষকরাই এই বিষয়গুলি পড়াবেন। পাশাপাশি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির জন্য সংস্কৃত, আরবি এবং হিন্দি ভাষার তৃতীয় ভাষার বইও প্রকাশ করা হবে।

পাঠ্যবইয়ের ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়বস্তুও বদলানো হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সরকারি পাঠ্যবইয়ে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রগীত বন্দে মাতরম এবং ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস এবং রাজ্য গঠনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানও পাঠ্যক্রমে জায়গা পাচ্ছে। অন্যদিকে পাঠ্যবই থেকে বাদ পড়ছে সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রসঙ্গ।

সব মিলিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আসতে চলেছে। একদিকে জনগণনার কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের সূচি পিছোচ্ছে, অন্যদিকে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পাঠ্যক্রম এবং ইতিহাসের বিষয়বস্তুতে পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। এখন পরীক্ষার্থীদের নজর সংশোধিত পরীক্ষাসূচির চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More