WB Nipah Virus Guidelines: কাদের হাসপাতালে ভরতি করতে হবে? কতবার পরীক্ষা? নিপা রোধে একগুচ্ছ নিয়ম রাজ্যের
পশ্চিমবঙ্গে নিপার সংক্রমণ রোধে নির্দেশিকা জারি করা হল। তাতে জানানো হয়েছে যে কাদের হাসপাতলে ভরতি করতে হবে। পরীক্ষা করতে হবে কতবার। তারইমধ্যে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, নিপায় আক্রান্ত একজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গে নিপার সংক্রমণ রুখতে নয়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। কেউ যদি নিপা আক্রান্তের সংস্পর্শে আসেন, তাঁদের কী করতে হবে; কতদিন অন্তর পরীক্ষা করতে হবে; কাদের হাসপাতালে ভরতি হতে হবে, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে। তারইমধ্যে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, নিপা ভাইরাসে যে দু'জন আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে পুরুষ নার্সের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু মহিলা নার্সের শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটজনক। স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেছেন, 'পুরুষ নার্সের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু মহিলা রোগীর শারীরিক অবস্থা খুব সংকটজনক। দু'জনেরই চিকিৎসা চলছে আইসিসিইউয়ে।'

এখনও পর্যন্ত বঙ্গে কতজন নিপায় আক্রান্ত হয়েছেন?
তবে তাঁদের সংস্পর্শে আসা কারও শরীরেই আপাতত নিপার হদিশ মেলেনি বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক। তিনি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ যাঁরা যাঁরা ওই দু'জন নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন, আপাতত তাঁদের কারও নিপা রিপোর্ট পজিটিভ আসেনি। এখন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে নিপা আক্রান্তের সংখ্যা হল দুই। পুরো পরিস্থিতির উপরে কড়া নজর রাখছে রাজ্য সরকার। যাঁরা দুই নিপা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আর এই মুহূর্তে তাঁদের রাখা হয়েছে আইসোলেশনে।
নিপা সংক্রান্ত কী কী নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে?
১) স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নিপায় আক্রান্ত বা সন্দেহভাজনের (নমুনা পরীক্ষায় নিপা রিপোর্ট পজিটিভ আসার আগেই মৃত্যু) লালারস, রক্ত, প্রস্রাব বা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে কেউ এলে তাঁকে ‘হাই-রিস্ক’ ক্যাটেগরিতে বিবেচনা করা হবে। যাঁদের কোনও উপসর্গ নেই, তাঁদের বাড়িতেই ২১ দিন কোয়ারন্টিনে রাখতে হবে। কিন্তু যাঁদের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অবিলম্বে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভরতি করতে হবে।
২) কোন কোন ক্ষেত্রে নিপা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন নিপা আক্রান্তর সংস্পর্শে এলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে 'লো-রিস্ক' ক্যাটেগরিতে রাখা হবে, তাও স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যদি নিপা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন নিপা আক্রান্তের সঙ্গে অল্পবিস্তর শারীরিক সংযোগ হয়, লালারস, রক্ত, প্রস্রাব বা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের সংস্পর্শে না আসেন এবং জামা বা পোশাক না ছুঁয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে কম ঝুঁকি আছে বলে বিবেতনা করা হবে।
তবে নিপার উপসর্গ দেখা হলে তাঁদেরও হাসপাতালে ভরতি করতে হবে। আর পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠাতে হবে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে।
৩) কেউ নিপায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হলে তাঁর দ্রুত আরটিপিসিআর পরীক্ষা করতে হবে। একদিনের মধ্যে কমপক্ষে দু'বার নেগেটিভ আসতে হবে রিপোর্ট। সন্দেহভাজনদের নিপা রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাঁদের পাঁচদিন ছাড়া-ছাড়া নমুনা পরীক্ষা করা হবে। পরবর্তীতে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিতে ৯০ দিনের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।
E-Paper











