WB Police Transfer: ১৫২ আসনে বিজ্ঞপ্তি জারির আগে ভবানীপুর-কালীঘাট-নন্দীগ্রাম-গিরিশপার্ক সহ ১৭৩টি থানার ওসি বদল
আজ, সোমবার রাজ্যের প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা আসনের ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হচ্ছে। তার আগেই ২৯ মার্চ রাজ্য জুড়ে এই থানাগুলিতে বদলি করা হল পুলিশ আধিকারিকদের।
এবার রাজ্যের একাধিক থানার ওসি বদল করল নির্বাচন কমিশন। নন্দীগ্রাম, ভবানীপুর সহ রাজ্যের ১৫০-র বেশি থানার ওসি বদল করার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভবানীপুরে এবার মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে নন্দীগ্রামেও এবার লড়ছেন শুভেন্দু। এই আবহে আসন্ন নির্বাচনে গোটা রাজ্য তথা দেশের নজর থাকবে এই দুই আসনে। সব মিলিয়ে ১৭৩টি থানার ওসি বদল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আজ, সোমবার রাজ্যের প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা আসনের ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি হচ্ছে। তার আগেই ২৯ মার্চ রাজ্য জুড়ে এই থানাগুলিতে বদলি করা হল পুলিশ আধিকারিকদের।

ভবানীপুর থানার ওসি করা হয়েছে সৌমিত্র বসুকে। এর আগে তিনি কলকাতা পুলিশের এসটিএফে ছিলেন। আর নন্দীগ্রাম থানার ওসি করা হয়েছে শুভব্রত নাথকে। তিনি আগে চন্দননগর থানায় কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বদল করা হয় গিরিশ পার্ক থানার ওসিকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ব্রিগেড সমাবেশের দিনে এই গিরিশ পার্কেই তুমুল ঝামেলা। হাঁসখালি থানার ওসিকেও বদল করা হয়েছে। কালীঘাট, জোড়াসাঁকো এবং ভাঙড়ের থানারও ওসি বদল করা হয়েছে। গিরিশ পার্কে ওসি করা হয়েছে সুমিতকুমার ঘোষকে, হাঁসখালি থানার ওসি হয়েছেন শিয়ালদহ জিআরপি–র মনতোষ গৌড়, কালীঘাটে ওসি হয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের উৎপলকুমার ঘোষ, জোড়াসাঁকোতে ওসি হয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের সুশান্ত মণ্ডল, ভাঙড়ে ওসি হয়েছেন দেবকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে শুধু ১৭৩টি থানার ওসি বদল করার পাশাপাশি ডিস্ট্রিক্ট ইন্টেলিজেন্স ব্র্যাঞ্চের ১১ জন আধিকারিককেও বদলির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের দুটি ব্লক-সহ রাজ্যের ১৮টি জেলার ৮৩টি ব্লকের বিডিও এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে বদলির নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। তাঁরা সকলেই সহকারী রিটার্নিং অফিসার (এআরও) ছিলেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই সবথেকে বেশি ব্লকে বিডিও বদল করা হয়েছে এই দফায়।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ভোট নির্ঘণ্টের পরপরই একাধিক পুলিশ আধিকারিক এবং আমলাকে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই আবহে কমিশনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেছে তৃণমূল। উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ মধ্যরাত থেকেই পুলিশ প্রশাসনে রদবদল শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। প্রথমে রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদে রদবলদ করা হয় রবিবার রাতেই। পরে রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে রদবদল করে কমিশন। পীযুষ পাণ্ডের জায়গায় নতুন ডিজি করা হয় সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে। এবং সুপ্রতিম সরকারের বদলে কলকাতা পুলিশের নয়া কমিশনার হন অজয় নন্দ।
এরপর কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। এরই সঙ্গে রাজ্যের ১২ জায়গায় পুলিশ সুপারকেও পাল্টে দেয় নির্বাচন কমিশন। বীরভূম, ডায়মন্ড হারবার, পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার, মালদার পুলিশ সুপাররা এই তালিকায় রয়েছেন। এরপর ১৮ মার্চ নয়া নির্দেশিকা জারি করে পাঁচ ডিআইজি, দুই পুলিশ কমিশনার এবং একঝাঁক জেলাশাসককে সরিয়ে দেওয়া হয়। রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজিদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ১১ জেলার জেলাশাসকদের সরানো হয়। বিধাননগর এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
তারপর মুরলীধর শর্মা, আকাশ মাঘারিয়া, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের মতো একাধিক আইপিএসকে অন্যত্র বহাল করেছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই নিয়োগ বাতিল করে ভিনরাজ্যের ভোটে অবজার্ভার করে পাঠানোর নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। তবে এই পুলিশ আধিকারিকদের অবজার্ভার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিদের প্রশিক্ষণ অপরিহার্য নয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


