WB Rajya Sabha Vote: ৩ রাজ্যসভা আসনে ভোট, জেতার অঙ্ক BJP-র হাতে! ৮০ MLA থাকলেও TMC প্রার্থী জেতানো কার্যত অসম্ভব কেন?

বিধানসভায় ৮০টি আসন জিতেও এই নির্বাচনে কার্যত কোনও প্রার্থী জেতানোর অবস্থায় নেই তৃণমূল কংগ্রেস বা বিরোধীরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংখ্যার অঙ্ক এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণেই ভোট শুরুর আগেই কার্যত 'ফেল' হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

Published on: Jul 7, 2026, 09:12:50 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

WB Rajya Sabha Election Equation Details: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট। সেই ভাঙনের সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে চলেছে রাজ্যসভার উপনির্বাচনে। রাজ্যসভার তিনটি শূন্য আসনে আগামী ২৪ জুলাই উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বিধানসভায় ৮০টি আসন জিতেও এই নির্বাচনে কার্যত কোনও প্রার্থী জেতানোর অবস্থায় নেই তৃণমূল কংগ্রেস বা বিরোধীরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংখ্যার অঙ্ক এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণেই ভোট শুরুর আগেই কার্যত 'ফেল' হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

বিধানসভায় ৮০টি আসন জিতেও এই নির্বাচনে কার্যত কোনও প্রার্থী জেতানোর অবস্থায় নেই তৃণমূল কংগ্রেস বা বিরোধীরা। (West Bengal Assembly)
বিধানসভায় ৮০টি আসন জিতেও এই নির্বাচনে কার্যত কোনও প্রার্থী জেতানোর অবস্থায় নেই তৃণমূল কংগ্রেস বা বিরোধীরা। (West Bengal Assembly)

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের তিন রাজ্যসভার সাংসদ—সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক—ইস্তফা দিয়েছেন। শুধু সাংসদ পদই নয়, তাঁরা দলও ছেড়েছেন। ফলে তিনটি আসনেই উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়ে পড়ে। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। ১৫ জুলাই হবে মনোনয়নপত্র যাচাই, ১৭ জুলাই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২৪ জুলাই ভোটগ্রহণ হবে।

ইস্তফা দেওয়া সাংসদদের মধ্যে সুখেন্দু শেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইকের রাজ্যসভার মেয়াদ ছিল ২০২৯ সাল পর্যন্ত। অন্যদিকে সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। ফলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই নতুন প্রতিনিধি বেছে নেওয়া হবে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসন জিতে সরকার গঠন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। সাধারণ পরিস্থিতিতে এই সংখ্যার ভিত্তিতে তিনটি আসনের মধ্যে অন্তত একটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকত তৃণমূলের। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সেই সম্ভাবনা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয়েছে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বর্তমানে দলটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির, যেখানে রয়েছেন ৬৫ জন বিধায়ক। অন্যদিকে কালীঘাট তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী শিবিরে রয়েছেন মাত্র ১৫ জন বিধায়ক। দুই পক্ষের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাজ্যসভার ভোটে একে অপরকে সমর্থন করার কোনও সম্ভাবনাই নেই। ফলে তৃণমূলের মোট ৮০টি বিধায়ক থাকলেও কার্যত কোনও একক প্রার্থীর পক্ষে প্রয়োজনীয় ভোট জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে বিধানসভার কার্যকর সদস্য সংখ্যা ২৯২। কারণ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর—এই দুই আসন শূন্য রয়েছে। নন্দীগ্রাম আসন ছেড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং রেজিনগর আসন ছেড়েছেন হুমায়ুন কবীর। ফলে এই দুই আসনে এখনও উপনির্বাচন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে রাজ্যসভার ভোটের অঙ্ক। সাধারণভাবে একসঙ্গে একাধিক আসনের নির্বাচন হলে মোট বৈধ ভোটকে শূন্যপদের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে তার সঙ্গে এক যোগ করে জয়ের ন্যূনতম সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এবার নির্বাচন কমিশন তিনটি শূন্য আসনের জন্য পৃথক পৃথক নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি আসনের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। আলাদা ব্যালট বাক্স, আলাদা ব্যালট পেপার এবং আলাদা ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফলে প্রতিটি আসনের ক্ষেত্রে কার্যত একজন প্রার্থীকে জিততে প্রয়োজন হবে (২৯২ ÷ ২) + ১ = ১৪৭ ভোট। অর্থাৎ কোনও প্রার্থীকে জিততে অন্তত ১৪৭ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। বিজেপির হাতে ২০৮ জন বিধায়ক থাকায় তাদের এই সংখ্যা পেরোতে কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু ঋতব্রত শিবিরের হাতে রয়েছে মাত্র ৬৫ জন বিধায়ক এবং কালীঘাট শিবিরের হাতে ১৫ জন। দুই শিবির একজোট না হলে কেউই ১৪৭ ভোটের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারবে না।

এবারের ভোটে ভোটদানের পদ্ধতিতেও রয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। প্রতিটি আসনের জন্য পৃথক ব্যালট বাক্স থাকবে এবং বিধানসভার আলাদা ঘরে ভোটগ্রহণ হবে। ব্যালট পেপারের রংও আলাদা থাকবে। ভোট দিতে ব্যবহার করতে হবে বেগুনি কালির স্কেচ পেন। ভোটারদের ১, ২ ও ৩ নম্বর দিয়ে পছন্দের ক্রম উল্লেখ করতে হবে। টিক চিহ্ন দিলে সেই ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধীদের পক্ষে তিনটি আসনের কোনওটিতেই জয় পাওয়া কার্যত অসম্ভব। সংখ্যার বিচারে বিজেপির পথ একেবারেই মসৃণ। এমনকি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতিতে তিনটি আসনেই বিজেপির জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ উপনির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা এখনও বাকি থাকলেও, বর্তমান সংখ্যাতত্ত্ব বলছে রাজ্যসভার তিনটি আসনই কার্যত বিজেপির ঝুলিতেই যেতে চলেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More