WB SIR Voter Supplementary List: 'গোটা বাংলা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন… পুরো ভোটার তালিকাকে সন্দেহভাজনে পরিণত করেছে'

'চূড়ান্ত তালিকায়' যাদের নাম ছিল, তাঁদের অনেকেরই নাম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে 'বিচারাধীন' হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এমনকী জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখের নামও নাকি খুঁজে পাওয়া যায়নি সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়। এই আবে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। 

Published on: Mar 25, 2026, 07:51:59 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ওয়েবসাইটে গোলমাল। এই আবহে 'চূড়ান্ত তালিকায়' যাদের নাম ছিল, তাঁদের অনেকেরই নাম সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে 'বিচারাধীন' হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এই জটিলতা তৈরি হতেই নির্বাচন কমিশন সাফাই দিয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্যেই এই সমস্যা। তবে এই ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে ময়দানে নেমেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। যে সব বৈধ ভোটারের নাম 'বিচারাধীন' হিসেবে দেখানো হচ্ছিল, সেই সমস্যা মিটেছে ২৪ মার্চ রাতেই। তবে কমিশনকে তোপ দাগার এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন মধ্যরাতে প্রকাশ করা হয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। এই নিয়ে তিনি চক্রান্তের গন্ধ পেয়েছিলেন। এমনকী জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখের নামও নাকি খুঁজে পাওয়া যায়নি সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়। যা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। তবে রাজ্যের শ্রম দফতরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী তথা জঙ্গিপুরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন এবং সাগরদিঘির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের নাম অবশ্য ছিল সাপ্লিমেন্টারি তালিকায়।

সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা নিয়ে গোলমাল হওয়ায় নির্বাচন কমিশনকে তোপ তৃণমূলের (PTI)
সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা নিয়ে গোলমাল হওয়ায় নির্বাচন কমিশনকে তোপ তৃণমূলের (PTI)

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে প্রকাশিত হয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। বাংলায় এসআইআরের 'চূড়ান্ত তালিকায়' ৬৩ লাখ লোকের নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম ছিল বিচারাধীন। এই আবহে বিচারাধীন ভোটারদের যোগ্যতা বিচার করতে বিচারপতিদের নিয়োগ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সেই মতো এখনও পর্যন্ত ২৯ লক্ষ বিচারাধীন নাম নিয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এরপর আরও প্রায় ৩১ লাখ ভোটারের নাম নিষ্পত্তি করার কাজ বাকি থাকবে।

এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে নির্বাচন কমিশনকে খোঁচা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই পোস্টে লেখা হয়েছে, 'আপনাকে হয়তো শুনানির জন্য ডাকা হয়নি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় হয়তো আপনার নামটা ছিল, আপনি হয়তো ম্যাপড ভোটার কিংবা আপনার কেস সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে মিটে গেছে- তা সত্ত্বেও এখন আপনি নিজেকে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন হিসেবে দেখতে পাবেন। পুরো বাংলাকে কমিশনের পোর্টালে 'বিচারাধীন' ঘোষণা করে দিয়েছে। বাংলার প্রতিটি ভোটার এখন 'আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন'। ভ্যানিশ কমিশন এবং বিজেপি বাংলার পুরো ভোটার তালিকাকে সন্দেহভাজনে পরিণত করেছে। ওরা বাংলার প্রতিটি ভোটারকে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী হিসাবে দাগিয়ে দিতে চাইছে। ওরা যখন বলেছিল বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই, তখন ওরা ঠিক এটাই বুঝিয়েছিল।'

এদিকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মমতাকে পালটা খোঁচা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, 'আমার বক্তব্য, যদি আপনার মনে হয়, এই নির্বাচন সঠিক হচ্ছে না, নির্বাচন কমিশন অন্যায় করছে, তাহলে ভোট বয়কট কেন করছেন না? আপনি ভোট বয়কটের আহ্বান জানান। এর মধ্যে আপনার দলের লোকেরা বাংলাজুড়ে সন্ত্রাস চালিয়ে, বাংলার মানুষকে আতঙ্কিত করতে চাইছে। এবং বাধ্য করতে চাইছে, আপনাকে ভোট দিতে। আপনার নেতৃত্বে তৃণমূলের তরফে মুর্শিদাবাদে হিংসা লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনি চালাকি করবেন না। বাংলার মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বাংলার মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন না। বিচারপতিরা ভোটার লিস্ট তৈরি করছেন, এটা তো কখনও শুনিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উকিল হতে গেলেন, আর সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন।'

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More