WB Sugar Price Latest Update: পুজোর আগে চিনির দামে বড় স্বস্তি, পাইকারি দর বেঁধে দিল রাজ্য

গত কয়েক মাস ধরে লাগাতার বেড়েছে চিনির দাম। খুচরো বাজারে বর্তমানে কেজি প্রতি প্রায় ৭০ টাকা পর্যন্ত দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরে তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। পুজোর আগে মিষ্টি তৈরির খরচও বেড়েছে। উৎসবের মরশুমে চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল।

Published on: Sep 16, 2026, 09:48:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

উৎসবের মরশুমের আগে সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বাড়তে থাকা চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে এবার সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। পাইকারি বাজারে চিনির সর্বোচ্চ দাম কেজি প্রতি ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের আশা, এর প্রভাব আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই খুচরো বাজারে পড়বে। তখন কেজি প্রতি চিনি ৫৩ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।

বাড়তে থাকা চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে এবার সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। (HT_PRINT)
বাড়তে থাকা চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে এবার সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। (HT_PRINT)

গত কয়েক মাস ধরে লাগাতার বেড়েছে চিনির দাম। খুচরো বাজারে বর্তমানে কেজি প্রতি প্রায় ৭০ টাকা পর্যন্ত দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরে তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে। পুজোর আগে মিষ্টি তৈরির খরচও বেড়েছে। উৎসবের মরশুমে চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। সেই পরিস্থিতিতেই দাম নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর।

রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরে দেশ ও রাজ্যে চিনির দাম বাড়ছিল। সেই বৃদ্ধি ঠেকাতে পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়। ৩, ৫ এবং ১১ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন সরকারি আধিকারিকরা। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা এবং অযথা দাম বাড়ানো বন্ধ করাই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে, পাইকারি বাজারে চিনির দর সর্বোচ্চ ৫০ টাকা প্রতি কেজি রাখা হবে। খুচরো বাজারে পরিবহণ ও অন্যান্য খরচ যোগ হয়ে আরও ২ থেকে ৫ টাকা বাড়তে পারে। সেই হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সাধারণ মানুষের হাতে ৫৩ থেকে ৫৫ টাকার মধ্যে চিনি পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, এই নির্ধারিত দাম অন্তত তিন মাস অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ পুজো থেকে শুরু করে পরবর্তী উৎসবের মরশুমেও চিনির দামের উপর নজর থাকবে। ব্যবসায়ীদের যাতে নির্ধারিত দামে চিনি বাজারে আনতে সমস্যা না হয়, সেজন্য রাজ্য সরকার লজিস্টিক সহায়তাও দেবে।

এর অংশ হিসেবে ডানকুনি রেক পয়েন্ট থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সরকারি নিয়ন্ত্রিত বাজার কমিটির গোডাউনে চিনি খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পরে এই চিনি সুফল বাংলা স্টল এবং রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হবে। পুজোর আগেই সুফল বাংলা স্টলেও চিনি পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন দপ্তর।

সরকারি আধিকারিকরা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করবেন এবং পাইকারি ও খুচরো—দুই স্তরেই দাম পর্যবেক্ষণ করবেন। কোথাও কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, মজুত করে রাখা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। সরকারের লক্ষ্য, উৎসবের সময়ে বাড়তি চাহিদার সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে বাজার অস্থির করতে না পারে।

চিনির পাশাপাশি পেঁয়াজের দাম নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মঙ্গলবার খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে ছিল। এই দাম কমাতে রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শুধু তাৎক্ষণিক নজরদারি নয়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে। রাজ্যে ১০টি কোল্ড স্টোরেজ খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে সরবরাহের ঘাটতি বা মরশুমি দামের ওঠানামা সামাল দেওয়া সহজ হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

সব মিলিয়ে পুজোর আগে চিনির দামে নিয়ন্ত্রণ আনার সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তির খবর। এখন নজর থাকবে, সরকারের নির্ধারিত দাম বাস্তবে বাজারে কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও একইভাবে দাম কমানো যায় কি না।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More