উত্তরবঙ্গের ঘাঁটি আরও শক্তিশালী করতে মরিয়া বিজেপি, তৃণমূল ছেড়ে দলে এলেন প্রাক্তন বিধায়ক, সমর্থন মিলল রাজবংশী নেতার
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্য রায় বর্মণ। অপরদিকে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মণ বিজেপিকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল তাঁর সংগঠন।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গে ঘাঁটি আরও শক্তিশালী করতে শুরু করল বিজেপি। মঙ্গলবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান এবং রাজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর রায়। এদিকে গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মণ বিজেপিকে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল তাঁর সংগঠন। তবে বিগত কয়েকদিনে বেশ কিছু ইস্যুতে মতবিরোধ শুরু হয়েছিল বংশীবদন এবং তৃণমূলের মধ্যে। এই আবহে এবার তিনি বিজেপিকে সমর্থনের ঘোষণা করলেন। এই আবহে বংশীবদন বিজেপির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন মঙ্গলবার।

এদিকে বিজেপিতে যোগদান করে তৃণমূলকে তোপ দেগেছেন প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্য রায়। ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে জিতে মেখলিগঞ্জে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। তবে তিনি এতদিন তৃণমূলের সঙ্গেই ছিলেন। তৃণমূল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অর্ঘ্য রায় প্রধান বলেন, 'আমি আর দুর্নীতিগ্রস্ত দলের পাশে দাঁড়াতে পারি না। আমি আমার এলাকার মানুষের মুখোমুখি হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলাম না।' উল্লেখ্য, অর্ঘ্য রায়ের বাবা অরম রায় প্রধান ফরোয়ার্ড ব্লকের নেতা ছিলেন। তিনি তিনবার মেখলিগঞ্জের বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত আটবার কোচবিহারের সাংসদ থেকেছেন। পরে ২০০৪ সালের আগে ছেলেকে নিয়ে অমর রায় তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন।
এহেন অর্ঘ্য রায় প্রধানের বিজেপিতে যোগদান এবং রাজবংশী নেতা বংশীবদন বর্মণের বিজেপিকে সমর্থন উত্তরবঙ্গের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। গত লোকসভা ভোটে কোচিহার আসনটি বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপিকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা করে বংশীবদন বলেন, 'আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বলেছি যে আমাদের রাজবংশী ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং আমাদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। আমি কে আমার পূর্ণ সমর্থন দিতে এসেছি।' রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, 'উত্তরবঙ্গ' ও 'রাজবংশী ভোট ব্যাঙ্ক'-এর দখল আরও জোরদার করতেই বংশীবদনকে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে এসেছে বিজেপি। প্রসঙ্গত, এর আগে গ্রেটার নেতা অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভার সদস্য করেছিল বিজেপি। তবে তারপর থেকে ক্রমেই বেসুরো হতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। বিজেপির পক্ষে তাঁকে কোনও প্রচারে দেখা যায়নি। বরং সময়ে সময়ে বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলে নানা মন্তব্য করেছেন অনন্ত। এই পরিস্থিতিতে বংশীবদনের সমর্থন আদায় করে বিজেপি ফের রাজবংশীদের নিজেদের দিকে টানতে চাইছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


