পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে উদ্বেগের খবর, ‘ডেঞ্জার জোন’ নিয়ে মানুষকে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
প্রকৃতি যখন চরম রূপ ধারণ করে, তখন তার কাছে মানুষ কতটা অসহায়, তার প্রমাণ দিচ্ছে গত এক বছরের পরিসংখ্যান। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৯ জন।
জলবায়ু পরিবর্তনের এক ভয়াবহ প্রভাবের মুখে দাঁড়িয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গ। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে বজ্রপাতে মোট ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গকে দেশের মধ্যে 'বজ্রপাত বিপজ্জনক জোন' বা 'Lightning Danger Zone'-এ ঠেলে দিয়েছে। প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের প্রস্তুতি এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রকৃতি যখন চরম রূপ ধারণ করে, তখন তার কাছে মানুষ কতটা অসহায়, তার প্রমাণ দিচ্ছে গত এক বছরের পরিসংখ্যান। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৯ জন। কেবল প্রাণহানি নয়, কয়েকশ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ এখন বজ্রপাতের দিক থেকে ভারতের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
পরিসংখ্যানের ভয়াবহতা: কোন জেলাগুলি এগিয়ে?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বজ্রপাতের প্রকোপ সবথেকে বেশি দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে বীরভূম, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে সবথেকে বেশি মৃত্যুর খবর এসেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে যে, কৃষকরা যখন মাঠে কাজ করছিলেন বা জলাশয়ে মাছ ধরছিলেন, ঠিক তখনই তাঁরা এই বজ্রাঘাতের শিকার হয়েছেন।
কেন এই 'ডেঞ্জার জোন' তকমা?
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া আর্দ্রতা এবং ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চল থেকে আসা শুষ্ক বাতাসের মিলনে যে 'কিউমুলোনিম্বাস' মেঘের সৃষ্টি হয়, তা বজ্রপাতের প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়েছে। ফলে মেঘের মধ্যে ইলেকট্রনিক চার্জ বা বিদ্যুতের প্রবাহ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে, যা প্রাণঘাতী বজ্রপাতের রূপ নিচ্ছে।
পরিকাঠামোর অভাব ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
রাজ্য সরকার এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতর বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। গত এক ঘণ্টায় খবর মিলেছে যে, রাজ্যজুড়ে আরও বেশি বজ্রপাত নিরোধক বা 'লাইটনিং অ্যারেস্টার' (Lightning Arresters) বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের 'দামিনী' (Damini App) অ্যাপের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করার চেষ্টা করা হলেও, গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেটের অভাব এবং সচেতনতার অভাবে এর সঠিক সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাল গাছ বা লম্বা গাছ রোপণ করা বজ্রপাত প্রতিরোধের একটি প্রাকৃতিক উপায় হতে পারে, কারণ লম্বা গাছ বিদ্যুতকে সরাসরি মাটির নিচে পরিবাহিত করতে সাহায্য করে।
কী করবেন এবং কী করবেন না?
বজ্রপাতের হাত থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞদের কিছু জরুরি পরামর্শ:
- নিরাপদ আশ্রয়: মেঘের গর্জন শুরু হলে খোলা মাঠ বা গাছের নিচে থাকবেন না। পাকা বাড়িতে আশ্রয় নিন।
- ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম: বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার বা চার্জে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা নিরাপদ।
- পাহাড় বা জলাশয়: পুকুরে স্নান করা বা পাহাড়ের ওপর থাকা এই সময় অত্যন্ত বিপজ্জনক।
- মাঠের মাঝে থাকলে: যদি কাছাকাছি কোনো পাকা ঘর না থাকে, তবে কানে হাত দিয়ে উবু হয়ে বসে পড়ুন। শুয়ে পড়বেন না।
বজ্রপাতকে 'প্রাকৃতিক দুর্যোগ' বলা হলেও, এর পিছনে মানুষের তৈরি পরিবেশ দূষণের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পশ্চিমবঙ্গকে এই 'বিপজ্জনক জোন' থেকে বের করে আনতে হলে কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি। ২০২৫ সালের এই পরিসংখ্যান আমাদের জন্য এক সতর্কবার্তা—প্রকৃতিকে অবহেলা করলে তার ফল হবে আরও ভয়াবহ।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


