WB School Education Department: কর্মরত শিক্ষকদেরও টেট! পরীক্ষার দিন জানতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ-SSCকে চিঠি বিকাশ ভবনের

West Bengal School Education Department: গত বছর শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, টেট উত্তীর্ণ নন এমন কর্মরত প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট পাশ করতে হবে। প্রথমে ২০২৭ সালের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের অগস্ট করা হয়।

Published on: Sep 11, 2026, 20:06:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

West Bengal School Education Department: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ (TET) আয়োজনের তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য সরকার। ১১ সেপ্টেম্বর বিকাশ ভবনের তরফে স্কুল সার্ভিস কমিশন (WB Central SSC) এবং রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের (WBBPE) শীর্ষ কর্তাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয়েছে। কবে নাগাদ এই বিশেষ পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব, তা স্কুল সার্ভিস কমিশন (WB Central SSC) এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের (WBBPE) কাছে লিখিতভাবে জানতে চয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর।

কর্মরত শিক্ষকদেরও টেট! প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ-SSCকে চিঠি বিকাশ ভবনের (সৌজন্যে টুইটার)
কর্মরত শিক্ষকদেরও টেট! প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ-SSCকে চিঠি বিকাশ ভবনের (সৌজন্যে টুইটার)

শুক্রবার দুপুরে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই লক্ষাধিক শিক্ষক আশঙ্কায় রয়েছেন। রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। দীর্ঘ ১৫-২০ বছর আগে চাকরি পাওয়া প্রবীণ শিক্ষকদের অনেকেরই বর্তমান টেট (TET) পরীক্ষায় বসার মতো শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা (যেমন ডি.এল.এড বা বি.এড) নেই। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেওয়া বা অনুত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি চাকরি হারানোর খাঁড়া ঝুলছে কিনা - সেই প্রশ্নেই শিক্ষা মহলে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল সার্ভিস কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা দ্রুত টেট-এর দিনক্ষণ দফতরকে জানাচ্ছে। পর্ষদের এক আধিকারিক বলেন, 'শুক্রবার দফতর থেকে নির্দেশিকা এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ২০২৮ সালের অগস্টের মধ্যে টেট নিতে হবে। দফতর আমাদের কাছে দিনক্ষণ জানতে চেয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে দফতরকে জানিয়ে দেব।'

গত বছর শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, টেট উত্তীর্ণ নন এমন কর্মরত প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টেট পাশ করতে হবে। প্রথমে ২০২৭ সালের মধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের অগস্ট করা হয়। তবে যাঁদের অবসরের আর পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি, তাঁদের এই নির্দেশের বাইরে রাখা হয়েছে। এদিনের এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষামহলে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গও তুলছেন শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি, শিক্ষক সমাজের স্বার্থরক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে কর্মরত শিক্ষকদেরই ফের যোগ্যতা পরীক্ষার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে। শিক্ষকদের বক্তব্য, শিক্ষার অধিকার আইন বা আরটিই, ২০০৯ সালে কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষকতার যোগ্যতা নিয়ে নতুন নিয়ম তৈরি করে এনসিটিই। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাই থেকে শিক্ষকদের যোগ্যতার ক্ষেত্রে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়। তার আগে যাঁরা শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের টেটের আওতায় আনা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি রয়েছে শিক্ষক মহলের একাংশের।

হিসেব বলছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ লক্ষ শিক্ষক টেট উত্তীর্ণ নন। পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা ৯০ হাজারেরও বেশি। আরটিই আইন এবং এনসিটিই-র নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাশ করা ন্যূনতম ও বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। সুপ্রিম কোর্টও সাম্প্রতিক রায়ে সেই অবস্থানই স্পষ্ট করেছে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ২০১১ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্তদের নিয়ে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার দাবিতে সম্প্রতি রিভিউ পিটিশন করেছিল নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। কিন্তু টেট বাধ্যতামূলক রাখার সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত। এরপর শিক্ষকদের একাংশের দাবি ছিল, সংসদের বাদল অধিবেশনে অধ্যাদেশ এনে পুরনো শিক্ষকদের এই নিয়মের বাইরে রাখা হোক। কিন্তু সেই দাবিও পূরণ হয়নি। গত কয়েক মাসে একাধিকবার পথে নেমেছেন শিক্ষকেরা।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, 'বিজেপি সরকার আমাদের রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে কর্মরত শিক্ষকদের যাতে টেট দিতে না হয়, তার ব্যবস্থা করবে। ক্ষমতায় এসেই একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেল। শিক্ষকসমাজকে প্রতারণা করা হল।' তাঁর দাবি, কয়েক দিন আগেও শাসকদলের শিক্ষক নেতারা বলেছেন, ওদের সঙ্গে যুক্ত হলে টেট দিতে হবে না। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, 'এ অত্যন্ত অন্যায়। আমরা আশা করেছিলাম ডবল ইঞ্জিন সরকার পার্লামেন্টে অধ্যাদেশ জারি করে সমাধান করবেন। আমাদের প্রশ্ন, কারা টেট দেবেন? নরমাল সেকশন, এইচএস সেকশনের শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ যে এর আওতায় আসবেন না তো? রাজ্যের শিক্ষা দফতর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করুক। শিক্ষক-শিক্ষিকারা উদ্বিগ্ন।'