প্রথম থেকে দ্বাদশের সিলেবাস বদল! সিলেবাস কমিটির তিন দিনের আবাসিক শিবির, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত...
West Bengal Education: আগামী শিক্ষাবর্ষের আগেই রাজ্যের স্কুলগুলির নতুন সিলেবাসের রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে সিলেবাস কমিটি। এই নিয়ে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
West Bengal Education: রাজ্যের স্কুল পড়ুয়াদের পড়াশোনার ধরনে বদল আনতে উদ্যোগী হয়েছে শিক্ষা দফতর (West Bengal Education)। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সিলেবাস ও পাঠ্যবই নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মূলত পড়ার চাপ কমানো, মুখস্থ বিদ্যার বদলে বিষয় বুঝে শেখার ওপর জোর দেওয়া এবং বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পড়াশোনার পদ্ধতি তৈরি করতেই এই পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

নতুন সিলেবাস তৈরিতে তৎপর কমিটি
আগামী শিক্ষাবর্ষের আগেই রাজ্যের স্কুলগুলির নতুন সিলেবাসের রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে সিলেবাস কমিটি। এই নিয়ে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই সমস্ত আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সিলেবাস পরিবর্তনের বিষয় নিয়ে সিলেবাস কমিটির তিন দিনের একটি আবাসিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের পাঠ্যবই নিয়ে আলাদা করে আলোচনা করবেন বিশেষজ্ঞরা। এই বৈঠকে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা পর্ষদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। শিবিরে প্রতিটি বিষয়ের পাঠ্যবই নিয়েই পৃথক বৈঠক হবে। সেপ্টেম্বরেই ছাপতে যাবে নতুন বই।
জাতীয় শিক্ষানীতি এবং জাতীয় পাঠ্যক্রম রূপরেখার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই রদবদল ঘটানো হচ্ছে। আবাসিক এই কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা পর্যদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার আলোচনা হবে। কমিটির মূল লক্ষ্য হল পড়ুয়াদের উপর অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ কমানোর পাশাপাশি ক্লাসরুমে শেখানোর পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা। নতুন পাঠ্যক্রমে শুধু মুখস্থ করার বদলে কোনও বিষয় সম্পর্কে পড়ুয়ারা যাতে ভালোভাবে বুঝতে পারে, সেই দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের পঠনপাঠন উন্নত করে পড়ুয়াদের প্রাইভেট টিউশনের উপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও সুপারিশ করা হতে পারে। ইতিমধ্যেই কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ দল তৈরি করা হয়েছে। এই আবাসিক শিবিরের প্রাথমিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচনার উপর ভিত্তি করে আগামী দু'মাসের মধ্যে একটি খসড়া রিপোর্ট পেশ করা হবে।
শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, পাঠ্যবইয়ে খুব বেশি পরিবর্তন করার পথে যেতে চাইছে না সিলেবাস কমিটি। কারণ, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই যাতে সমস্ত স্কুলে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্য সময়ের মধ্যে ছাপার কাজ শেষ করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের ২ জানুয়ারির আগেই স্কুলগুলিতে নতুন বই পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য ১ ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপার কাজের জন্য বই প্রস্তুত রাখতে হবে। আর ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন বই ছাপার জন্য পাঠানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই সিলেবাস সংশোধন থেকে শুরু করে বই তৈরির পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
E-Paper

