প্রতিশ্রুতিই সার! মতুয়াগড়ে বাদ ৯০% নাম, 'রাস্তারই নেমে প্রতিবাদ' হুঁশিয়ারি মমতাবালার
এসআইআর নিয়ে গোড়া থেকেই আতঙ্কে ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা। চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে কিনা, আশঙ্কায় ছিলেন সকলে।
আশঙ্কাই সত্য হল শেষ পর্যন্ত। এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা হল না বহু মতুয়ার। একাধিক জেলা মিলিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষের নাম বাদ গেল। আর সেই নিয়ে ‘রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ হবে’ বলে তীব্র হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতাবালা ঠাকুর। এসআইআর ইস্যুতে আগেই একবার অনশনে বসেছিলেন তাঁরা।

এসআইআর নিয়ে গোড়া থেকেই আতঙ্কে ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা। চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে কিনা, আশঙ্কায় ছিলেন সকলে। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে দেখা গেল, সেই আশঙ্কাই সত্য হয়েছে। মতুয়াগড়ে এত মানুষের নাম বাদ যাওয়ায় আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর দাবি, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় ৯০ শতাংশ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। এরপরই পথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মমতাবালার কথায়, 'পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় ৯০ শতাংশ মতুয়াদের নাম কাটা গিয়েছে, যাঁরা ওপার বাংলা থেকে এসেছেন। আমরা প্রথম থেকে বলে এসেছি, এসআইআর-এ সবচেয়ে বেশি যদি বাদ যায়, সেটা মতুয়ারাই বাদ পড়বেন। আজ সেটা সত্য হয়ে গেল। প্রমাণ হয়ে গেল যে, ভোটটা নেওয়ার সময় নিয়ে গেল, আর আজ মতুয়াদের ভোটটা কেটে দিল নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে। আজ ওঁরা কান্নাকাটি করছেন যে কী হল! এতদিন যে আশ্বাস দিয়ে এসেছিলেন শান্তনু ঠাকুর যে, ওঁরা ভোট করে দেবেন, মতুয়া কার্ড করলে ভয় নেই, ভয় না পেয়ে যেতে, মতুয়া কার্ড করালে নাগরিকত্ব পাবে, ভোটাধিকার পাবে...আজ সেই শান্তনু ঠাকুরের ভোল পাল্টে গিয়েছে।'
তৃণমূল সাংসদ এও পরামর্শ দিয়েছেন যাতে শান্তনু ঠাকুরকে মাথার ডাক্তার দেখানো হয়। তিনি বলেন,'মতুয়াদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমরা আগেও বলেছিলাম অনেকাংশের মতুয়াদের ভোট কাটা যাবে। ঠিক তাই হয়েছে। বাগদার ৬০-৬৬ শতাংশ মতুয়াদের ভোট সেখানে ১৪ হাজার ভোট বাদ গিয়েছে। এখানেও বেশিরভাগ মতুয়াদের ভোট বাদ গিয়েছে। আমরা মতুয়াদের পাশে আছি পথে নেমে প্রতিবাদ হবে।' এদিকে বাগদার বিধায়ক তথা মতুয়া বাড়ির সদস্যা মধুপর্ণা ঠাকুর জানিয়েছেন, 'বাগদার ১৪ হাজারেরও বেশি ভোট কাটা দিয়েছে। ১৩ হাজারের বেশি ভোট বিচার্য রাখা হয়েছে। এই এলাকার বেশিরভাগই মতুয়া সমাজের বাস। তাঁদের ভোট যদি অবৈধ হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীও অবৈধ । আমরা মতুয়াদের পাশে আছি।' অন্যদিকে, এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা মতুয়াদের প্রতিনিধি শান্তনু ঠাকুরও। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'কার নাম বাদ যাবে, কী হবে, তা আমরা বলতে পারব না। আমাদের বলার কথাও নয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি যে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা এসেছেন, তাঁদের কাউকে ভারতের বাইরে পাঠানো হবে না। তাঁরা ভারতের নাগরিক হয়েই থাকবেন। এটাই ভারত সরকারের প্রতিশ্রুতি। নির্বাচন কমিশন কী করবে, তাদের ব্যাপার।'
E-Paper

