'অভিষেকের মা ছুটে এল…..,' লক্ষ্মীর ভান্ডার কেন শুরু করেন? আসল কথা জানালেন মমতা
তৃণমূল নেত্রী এদিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, কেন্দ্রের নোটবন্দির সিদ্ধান্তের তিনি তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন কারণ সাধারণ মানুষের চরম ক্ষতি হয়েছিল।
রাজ্যের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল 'লক্ষ্মীর ভান্ডার।' এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলাদের মাসের ১৫০০ হাজার ও পিছিয়ে পড়া তফশিলি জাতি ও উপজাতির মহিলাদের ১৭০০ টাকা দেওয়া হয়। এই রাজ্য তো বটেই ভিন রাজ্যেই যথেষ্ট জনপ্রিয় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে লক্ষ্মীর ভান্ডার তৃণমূলের ভোট বৈতরণী পারের মূল উপাদান। কিন্তু কেন প্রকল্পের নাম লক্ষ্মীর ভান্ডার? মুর্শিদাবাদের বড়ঞা বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রতিমা রজকের সমর্থনে ডাকবাংলা কিষাণ মাণ্ডির মাঠের সভা থেকে এই রহস্য ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানালেন কেন প্রকল্পের নাম রেখেছেন লক্ষ্মীর ভান্ডার।

কেন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প?
তৃণমূল নেত্রী এদিন স্মৃতিচারণ করে বলেন, কেন্দ্রের নোটবন্দির সিদ্ধান্তের তিনি তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন কারণ সাধারণ মানুষের চরম ক্ষতি হয়েছিল। পাশাপাশি, নিজের পরিবারের উদাহরণ টানেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাছেই থাকেন। সেই সময়কার একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নোটবন্দির সময় বিরোধিতা করেছিলাম। বলেছিলাম, এতে মানুষের ক্ষতি হবে। আমার কাছে সেই সময় একদিন অভিষেকের মা ছুটে এল। ও আমার কাছে থাকে। আমাকে বলল, ‘দিদি, দিদি! ৫০০ টাকা দেবে?’ আমি বললাম কেন? ও বলল, ‘সব টাকা তো জমা করে দিতে হবে। এ টাকা তো চলবে না। তা হলে আমি বাজার করব কী করে?’ তৃণমূল নেত্রী বলেন, 'মা-বোনেদের দুঃসময়ের পুঁজি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘একটি মেয়ে সে বেঙ্গালুরুতে থাকে। তার বাড়ির একজন আমাদের কাছে থাকে। সে-ও বলেছিল, ১০০টা টাকা দেবে। আমি সে দিন ঠিক করেছিলাম লক্ষ্মীর ভান্ডারের কথা। লক্ষ্মীর ভান্ডার মা বোনেদের উপহার।'
নিজের ব্যক্তিগত অভ্যাসের কথা তুলে ধরে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, 'আমার নিজেরও লক্ষ্মীর ভান্ডার আছে। তাতে পাঁচ টাকা, দশ টাকা জমা করি। কালীপুজোর সময় একটা কিছু মাকে দিই।' এদিন বড়ঞার সভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই প্রকল্প কেবল একটি সরকারি সহায়তা নয়, বরং মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতার একটি ছোট পদক্ষেপ। লক্ষ্মীর ভান্ডারের কথা বলতে গিয়ে জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘মুর্শিদাবাদের মায়েরা এত শান্ত হলে কী করে হবে। আপনাদের এত নাম কাটছে ভোটার তালিকা থেকে।'
নিশানায় কেন্দ্র
ভাগীরথীর ভাঙন নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বড়ঞায় তৃণমূল নেত্রীর মন্তব্য, ‘একটা কাজ যদি করত।’ তিনি একটু সময় দিতে বলেন। রাজ্যের তরফে ড্রেজিং-সহ সংস্কারের কাজ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূল নেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, 'কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা মহাত্মা গান্ধীর নামে সেই প্রকল্প শুরু করেছে। আগামিদিনে রাজ্যের কারও কাঁচা বাড়ি রাখব না। সব পাকা বাড়ি হবে। পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছোবে বাড়ি বাড়ি। কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা মহাত্মা গান্ধীর নামে সেই প্রকল্প শুরু করেছে। আগামিদিনে রাজ্যের কারও কাঁচা বাড়ি রাখব না। সব পাকা বাড়ি হবে। পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছোবে বাড়ি বাড়ি।'
'বাংলাকে অশান্ত হতে দেবেন না'
বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'বাইরের সব নেতা এখানে দখল করে বসে আছে। ভোটের আগের দিন কাউকে কাউকে দিয়ে গ্রেফতার করারও চেষ্টা করবে। তাই সব চেঞ্জ করেছে। তৃণমূল কিন্তু মাথানত করতে জানে না। লড়াই করে ছিনিয়ে নিতে জানে।' তিনি আরও বলেন, 'কেউ কেউ কমিউনাল কথা বলে ভোট কাটতে চেষ্টা করবে। একটা ভোটও ভাগাভাগি করতে দেবেন না। এটা বিজেপির খেলা। টাকা দিয়ে কাউকে কাউকে কিনে নেয়। ইলেকশনের আগে দেয় ক্যাশ। তার পর দেয় গ্যাস।' মুর্শিদাবাদ থেকে তৃণমূল নেত্রীর বার্তা, 'ধর্ম হল সবাইকে এক করে রাখার। ভাগাভাগির নয়। আপনারা তো শান্তিতে বসবাস করেন। এই শান্তির বাংলাকে অশান্ত হতে দেবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দুদের মধ্যেও যেমন কমিউনাল বিজেপি আছে। আই অ্যাম সরি টু সে।' এরপরেই তিনি জানান, 'আসলে আমাকে ওরা খুব ভয় পায়। সব সময় আমাকে টার্গেট করে। সরকারে থেকেও যেন বিরোধী হয়ে গিয়েছি। আমরা ভাঙি তা-ও মচকাই না। লড়তে জানি।'
E-Paper

