'সংবিধান বাঁচান...,' কমলা গোলাপ-গীতা দিয়ে স্বাগত, নয়া রাজ্যপালের কাছে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু

বিরোধী দলনেতার কথায়, প্রায় ৩০ মিনিটের এই সাক্ষাতে রাজ্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার অভিযোগ - বিভিন্ন প্রসঙ্গই আলোচনায় এসেছে বলে জানান তিনি।

Published on: Mar 13, 2026 11:47 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

রাজ্য বিধানসভা ভোট ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগেই বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আর এন রবি। তবে আর এন রবির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। আর তার ঠিক একদিন পরই লোকভবনে গিয়ে নতুন রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, কমলা রঙের গোলাপ দিয়ে নতুন রাজ্যপালকে স্বাগত জানান তিনি। নয়া রাজ্যপালের হাতে গীতাও তুলে দেন। লোকভবনে প্রায় আধঘণ্টা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এসে বিরোধী দলনেতা বললেন, 'আমি রাজ্যপালকে হাতজোড় করে বলেছি, সংবিধান বাঁচান।'

রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (সৌজন্যে টুইটার)
রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারী (সৌজন্যে টুইটার)

বিরোধী দলনেতার কথায়, প্রায় ৩০ মিনিটের এই সাক্ষাতে রাজ্যের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। অনুপ্রবেশ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার অভিযোগ - বিভিন্ন প্রসঙ্গই আলোচনায় এসেছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, বাংলার পরিস্থিতি যতটা সম্ভব পরিষ্কারভাবে রাজ্যপালকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এবং সংবিধানের মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, 'রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য মুখ্যসচিব আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু, আমি দিল্লিতে থাকায় শপথ অনুষ্ঠানে থাকতে পারিনি। এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছিলাম। উনি সময় দেন। আজ গিয়ে দেখা করলাম। ৩০ মিনিট কথা হয়েছে।'

রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর কথা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আমি হাতজোড় করে রাজ্যপালকে বলেছি, সংবিধান বাঁচান। ৫ বছরে বিরোধী দলনেতা সাড়ে এগারো মাস বিধানসভার বাইরে থেকেছে। পাঁচবার সাসপেন্ড করেছে। রাজ্যপালকে বলেছি, আপনি এটা অন্য কোথাও দেখেননি।' একইসঙ্গে তিনি বলেন, 'খগেন মুর্মুকে যেভাবে মারা হয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এখানে আক্রান্ত হয়। বিরোধীদের এমপি, এমএলএ রাজ্যে নিরাপদ নন।' এরপরেই রাজ্য সরকারকে নিশানা করে বিরোধী দলনেতা বলেন, 'এখানে আমলারা কেউ অবসর নেন না। যেটুকু সুযোগ পেয়েছি প্রাথমিকভাবে বুঝিয়ে বলেছি। কিভাবে বিচারব্যবস্থাকে এরাজ্যে আক্রান্ত হতে হয়েছে, সেটা জানিয়েছি।' মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে রাজ্যপালের কাছে তিনি জানিয়েছেন, 'এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য তোষণ। ৫৫০ কিমি বেড়া নেই। সীমান্ত থেকে হু হু করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গারা আসছে। ফলে জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। রাজ্যপালকে জানিয়েছি, বাংলাকে বাঁচান।' রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বাংলা সফর ঘিরে যা হয়েছে, তা নিয়েও রাজ্যপালকে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মহোদয়ার সঙ্গে যা ঘটেছে, এটা নিয়ে সকলে উদ্বিগ্ন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা ক্লোজ চ্যাপ্টার হতে পারে না। এটা নিয়ে যা যা করার দরকার করব। পদক্ষেপ করা দরকার।'

রাজ্যপাল তাঁর কথা শুনেছেন জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'উনি আমার কথা শুনেছেন। উনি কী বলেছেন, সেটা বলা ঠিক হবে না। গণতন্ত্র ও সংবিধানকে রক্ষা করতে প্রথম দিন যেটুকু রাজ্যপালকে জানানোর দরকার ছিল, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তা করেছি। সবার চোখে মুখে ভয়। সেই ভয়টা কাটানো দরকার। আমার বিশ্বাস, উনি ব্যবস্থা নেবেন।' এদিন লোকভবনের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনকেও সমর্থন করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, 'বেতন কাটলে আর আজ না আসার কারণে কারও উপর যদি কোনও জুলুম হয়, বিরোধী দলনেতা পাশে থাকবে। বেতন বৃদ্ধি হবে বিজেপি সরকার এলে।' গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে তৃণমূলের আন্দোলন নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'তৃণমূল ইরান চলে যাক। কেন্দ্রীয় সরকার টিকিট করে দেবে। খামেনেই-র বাড়ির সামনে ধর্না দিক।'

উল্লেখ্য, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত ৫ মার্চ আচমকাই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দেন সি ভি আনন্দ বোস। এরপরই জানানো হয়, আপাতত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলাবেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল এবং প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক আর এন রবি।