'কাজ চলছে!' নথি যাচাইয়ে ২০০ লগ ইন আইডি, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশন বলল...
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর বক্তব্য, অন্য রাজ্যে বাংলার বাড়ি সমগোত্রীয় প্রকল্পের নথি গ্রহণ করা হচ্ছে। অথচ এ রাজ্যে সেটাকে অবৈধ বলছে।
প্রযুক্তিগত সমস্যা কাটিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি)-র নথি যাচাইয়ের কাজ সোমবার থেকেই শুরু করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারকেরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে হাইকোর্ট নিযুক্ত বিচারকরা ভোটারদের তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে তা নিষ্পত্তি করবেন। তবে এদিন এই প্রক্রিয়ার শুরুতেই ওটিপি-সহ বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। যদিও তা অনেকটাই মিটিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে বলে জানালেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আবার বৈঠক করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।

কমিশন সূত্রে খবর, বিচারকদের জন্য এখনও পর্যন্ত ২০০ লগ ইন আইডি তৈরি করা হয়েছে। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। হাতে সময় মাত্র চারদিন। এই অবস্থায় প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষের তথ্য যাচাই কীভাবে করা সম্ভব হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে নির্বাচন কমিশনকে প্রতিদিন এসআইআর সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট হাইকোর্টে দিতে হবে বলে নির্দেশ প্রধান বিচারপতির। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সামনে আসার পর থেকেই দফায় দফায় মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক, মুখ্যসচিব-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। রবিবারও ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। কী কী কাজ করতে হবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো কোন কোন নথি যাচাই করতে হবে- দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের এই সব নানা কিছু বুঝিয়ে দেওয়া হয় সেখানে। তারপরে সোমবার হাইকোর্টে আবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন জুডিশিয়াল অফিসারেরা।
কী বললেন প্রধান বিচারপতি?
হাই কোর্ট সূত্রে জানা যাচ্ছে, এদিন বৈঠকে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সময় নষ্ট না-করে নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ দ্রুত শুরু করা উচিত। তাঁর কথায়, বিপুল পরিমাণ কাজ বকেয়া রয়েছে। এই অবস্থায় সময় নষ্ট করা উচিত নয়। সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন। তিনি জানান, নাগরিকত্ব আদালত ঠিক করবে না। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক কাজ হবে।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল ও কমিশনের বক্তব্য
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি)-এর বক্তব্য, অন্য রাজ্যে বাংলার বাড়ি সমগোত্রীয় প্রকল্পের নথি গ্রহণ করা হচ্ছে। অথচ এ রাজ্যে সেটাকে অবৈধ বলছে। এসআইআরে কমিশনের নির্ধারিত ১৩টি নথির বাইরে অন্য নথি গ্রহণ করা না হলে, প্রচুর মানুষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারেন। এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। ওই সব ভোটারদের আরও সুযোগ দেওয়া হোক। কমিশনের যুক্তি, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেই সুযোগ ছিল। এখন আর সেই অনুমতি দেওয়া যায় না। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) অশোক চক্রবর্তীর বক্তব্য, অন্য রাজ্যের সঙ্গে এ রাজ্যের তুলনা ঠিক নয়। এখানে পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলার বাড়ি-সহ ওই ধরনের নথি গ্রহণ করা ঠিক হবে না।
জুডিশিয়াল অফিসারদের আশঙ্কা
সোমবারের বৈঠকে জুডিশিয়াল অফিসারদের অনেকে মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে কতটা ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করা যাবে, সেই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সূত্রের খবর, কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকায় প্রয়োজনে নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রধান বিচারপতিও জানান, মুর্শিদাবাদে ইতিমধ্যে কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তাদের ব্যবহার করা যেতে পারে। বৈঠক শেষে রাজ্যে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল পিটিআই-কে জানিয়েছেন, সোমবার সকালেই বিচারবিভাগীয় অফিসারদের অনলাইন পোর্টাল নিয়ে প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে গিয়েছে। ওটিপি নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। তাও মিটে গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতির নথি যাচাই এবং তা নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের। হাইকোর্টই ঠিক করে দিয়েছে কারা এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিধানসভা-ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে বিচারকদের। ভোটার তালিকা থেকে কাদের নাম বাদ যাবে, কাদের নাম থাকবে-সেই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যাবতীয় নথি ‘বিচার’ করে দেখবেন তাঁরা। কমিশন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৫০ লক্ষের কাছাকাছি ভোটারের তথ্য যাচাই এবং নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলোই করবেন বিচারকেরা। ২১ ফেব্রুয়ারি ওই কাজের জন্য প্রাথমিক ভাবে ২৪০ জন বিচারককে নিয়োগ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট।
E-Paper

