SIR: BLO-দের নিরাপত্তা নেই! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার দাবি কমিশনের

গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, পঞ্চায়েত ভবনে শুনানি করতে হবে।

Published on: Feb 08, 2026 3:48 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুনানি নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসা ও অশান্তির অভিযোগে পঞ্চায়েত ভবনে এসআইআর শুনানি চায়না নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন এবং দোলা সেনের মামলায় পাল্টা হলফনামা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জানাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। হলফনামায় কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছে, পঞ্চায়েত ভবনস্তরে শুনানি চালানোর মতো উপযুক্ত আইনশৃঙ্খলাগত পরিবেশ বর্তমানে বিদ্যমান নেই।

সুপ্রিম কোর্টে কী জানাল কমিশন
সুপ্রিম কোর্টে কী জানাল কমিশন

সূত্রের খবর, হলফনামায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক কাজকর্ম ও শুনানি পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি রয়েছে। কমিশন তাদের বক্তব্যের সমর্থনে ইটাহার, ফারাক্কা, চাকুলিয়া-সহ একাধিক এলাকায় পঞ্চায়েত স্তরে ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনার উল্লেখ করেছে। হলফনামায় আরও দাবি করা হয়েছে, মাইক্রো অবসার্ভার, বিএলও এবং কমিশনের আধিকারিকরা কার্যত নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ভবনে শুনানি হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে কমিশনের অভিমত। শনিবার এসআইআর শুনানির শেষ দিনে এই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, শুনানি চলাকালীন ফরাক্কা, চাকুলিয়ার মতো জায়গায় রীতিমতো রণক্ষেত্রের ছবি দেখা যায়। বিডিও অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর ছবিও সামনে আসে।

গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, পঞ্চায়েত ভবনে শুনানি করতে হবে। তৃণমূলের আর্জি মেনেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হিংসার প্রেক্ষাপটের কথা তুলে শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ পরিবর্তন করার আবেদন জানানো হয়। শনিবার ছিল এসআইআর শুনানির শেষ দিন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ও বাংলার ভোটারদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। এই কারণেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে বাড়তি সময় চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। সূত্রের খবর, এসআইআর শুনানির দিন আরও কয়েকদিন বাড়ানো হতে পারে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রের খবর, শুনানির জন্য তলব করা অবৈধ ভোটারের মোট সংখ্যা ছিল ৩১,৬৮,৪২৬। কথা হল, বারবার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও ৫০,০০০-এর কিছু বেশি (মোট অবৈধ ভোটারের ১.৫৭ শতাংশ) ভোটার শুনানির জন্য উপস্থিত হননি। তাই ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি মামলাগুলির শুনানি চলছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ১.৫৭ শতাংশ অবৈধ ভোটারকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এখন দেখার বিষয়, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কতগুলি মামলা শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ে।