'পশ্চিমবঙ্গ সরকার এমন...,' ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা, হাইকোর্টকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে রাজ্যকে ভর্ৎসনা SC-র

প্রধান বিচারপতি জানান, এসআইআরের কাজ সম্পূর্ণ না হলে গুরুতর সমস্যা হবে। তা কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার উভয়ের বোঝা উচিত।

Published on: Feb 20, 2026, 15:23:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

'পশ্চিমবঙ্গ সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যেখানে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।' এসআইআরের কাজে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার ফের বাংলার এসআইআর মামলার শুনানি হয়েছে শীর্ষ আদালতে। শুনানির প্রথমেই রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল আদালতে জানান, তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না। তালিকা প্রকাশের কাজ থমকে গিয়েছে।

হাইকোর্টকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে রাজ্যকে ভর্ৎসনা SC-র
হাইকোর্টকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে রাজ্যকে ভর্ৎসনা SC-র

অসন্তোষ প্রকাশ প্রধান বিচারপতির

এদিন রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশের পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে নথি আপলোডের কাজ থামিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পাল্টা কমিশন জানায়, এসআইআরের কাজে সাহায্যের জন্য আরও গ্রুপ-বি কর্মী চেয়ে রাজ্যকে চিঠি দিয়েছিল তারা। কিন্তু জবাবে সরকার জানিয়েছে, কমিশনের আবেদন ‘বিবেচনাধীন।' এরপরেই রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশের পর রাজ্য সহযোগিতা করবে বলে তিনি আশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। একই সঙ্গে কমিশন এসআইআরের কাজের জন্য নিজেদের আধিকারিক নিয়ে আসতে পারবে, জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্যের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা দুটো পরিস্থিতি বুঝতে পারছি। হয় আপনাদের পর্যাপ্ত সংখ্যক গ্রুপ-বি কর্মী নেই, যা একটা আইনি বাধ্যবাধকতা। নয়তো আপনারা তাঁদের ছাড়তে পারছেন না। সে ক্ষেত্রে ইআরও বা এইআরও-র কাজের জন্য কমিশন কর্মী আনতে পারবে।’

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার এসআইআর নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যেখানে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।’ অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, ‘কমিশন বিশেষ পর্যেবক্ষক নামের এক নতুন ধরনের অফিসার নিয়োগ করেছেন। তাঁরা ইআরওদের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন। ইআরও-দের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিচ্ছেন। তাঁরাই ফাইল যাচাই করে ইআরওদের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এবার ইআরওরা কী করবেন?’ জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের প্রথম পর্ব থেকেই বিশেষ পর্যেবক্ষকেরা রয়েছেন। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে খসড়া তালিকা নিয়ে অভিযোগ বা কোনও দাবি জানানোর জন্য আরও সময় দিতে বলেন রাজ্যের আইনজীবী। ৪৮ ঘণ্টা বাড়তি সময় চেয়েছেন তিনি।

বিচারবিভাগীয় আধিকারিক

এদিকে প্রধান বিচারপতি জানান, এসআইআরের কাজ সম্পূর্ণ না হলে গুরুতর সমস্যা হবে। তা কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার উভয়ের বোঝা উচিত। তাঁর কথায়, ‘এই রাজ্যে এসআইআর শেষ করতে হয় বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বা প্রাক্তন বিচারপতিদের আনতে হবে, অথবা অন্য রাজ্য থেকে আইএএস অফিসারদের নিয়োগ করতে হবে।’ এর প্রেক্ষিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, বিচারবিভাগীয় আধিকারিক আনা হলে রাজ্যের তাতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, সে ক্ষেত্রে বাংলা নামের বানান বোঝা নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা মিটে যাবে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, কমিশন এবং রাজ্য উভয় তরফেই দ্বিধা রয়েছে। তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগ করে এসআইআরের কাজ করানোর বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সহমত বিচারপতি বাগচী। অন্যদিকে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এসআইআরের কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার উপযুক্ত আধিকারিক দিচ্ছে না। এতে জনগণ সমস্যায় পড়বেন। এরমধ্যেই কমিশনের আইনজীবী জানান, পশ্চিমবঙ্গে কমিশনের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক ভাষণ দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের বিরুদ্ধে জনগণকে উস্কানো হচ্ছে।

ডিজিপির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় না রাখতে পারলে রাজ্য পুলিশের ডিজির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। এদিন ডিজির আইনজীবী জানান, কমিশন মিথ্যা কথা বলছে। পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা যাচ্ছে না? এরপরেই কমিশকে প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি। কমিশন জানায়, আদালতে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে তারা দ্বিধাগ্রস্ত। এসআইআরের কাজ করানোর জন্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার পরামর্শ দেয় কমিশন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক একটা দোষারোপের খেলা চলছে। দু’টি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান একে অপরকে দোষ দিচ্ছে। কমিশন আর রাজ্যের মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে।’

কলকাতা হাইকোর্টকে দায়িত্ব

শুক্রবার এসআইআর সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে প্রধান বিচারপতি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ করা হবে যাতে প্রত্যেক জেলায় কয়েক জন বর্তমান বিচারিক অফিসার এবং অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা বিচারক নিয়োগ করা হয়। তথ্যগত অসঙ্গতির নথি যাচাই করবেন তাঁরা। কমিশন ও রাজ্যের নিযুক্ত কর্মীরা তাঁদের সাহায্য করবেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, শনিবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক হবে কমিশনের প্রতিনিধি, সিইও, মুখ্যসচিব, ডিজিপি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এবং অ্যাডভোকেট জেনারেলের। কী ভাবে এসআইআর সংক্রান্ত অচলাবস্থা কাটানো যায় এবং দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। হাইকোর্ট এসআইআরের কাজে আধিকারিক নিয়োগ করলে আদালতের কাজে তা প্রভাব ফেলতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, সে ক্ষেত্রে অন্য আদালতে কিছু মামলা সরিয়ে দিতে পারে হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারকে এসআইআরের কাজ সময়ে শেষ করার জন্য পূর্ণ সহযোগিতা করতে বলেছে শীর্ষ আদালত।

চূড়ান্ত তালিকা ও রিপোর্ট তলব

এদিন আদালতে কমিশন জানিয়েছে, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে সমস্ত নাম পাওয়া যাবে, তা দিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে তারা। প্রয়োজনে পরে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে নাম যোগ করা যেতে পারে। এরপরেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ২৮ তারিখের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে পরে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করে নাম যোগ করা যেতে পারে। আপাতত যা হয়েছে, তা-ই প্রকাশ করতে হবে। তবে রাজ্যের আইনজীবী এই নির্দেশ না-দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি জানান, এতে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। কিন্তু শীর্ষ আদালত আপত্তি শোনেনি। আদালত জানিয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের এই কাজে বেশি দিন নিযুক্ত রাখা যাবে না। পাশাপাশি, এসআইআরকে কেন্দ্র করে রাজ্যে ছোটখাটো যে সমস্ত হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে স্টেটাস রিপোর্ট তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।