SIR: অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হবে শুনানি... অশান্তির আবহে কড়া নির্দেশ কমিশনের

এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে হয়রানির অভিযোগে রাজ্যের একের পর এক জায়গায় অশান্তির খবর এসেছে। এই আবহেই বাংলার জেলাশাসকদের কাছে কড়া নির্দেশ দিল কমিশন।

Published on: Jan 23, 2026 8:47 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া থেকে ইটাহার, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ- রাজ্যের একাধিক জেলার অনেক শুনানি কেন্দ্রের দেখা গিয়েছে চরম অশান্তির ছবি। অশান্তির জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছ শুনানি, এমন ছবিও দেখা গিয়েছে, যা নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। এই আবহে এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা আরও বাড়ানো হচ্ছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি নয়, আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে বাংলার জেলাশাসকদের কাছে গেল এক বিশেষ নির্দেশ। অশান্তি হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে শুনানি। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে।

অশান্তির আবহে কড়া নির্দেশ কমিশনের (ANI Photo) (Saikat Paul)
অশান্তির আবহে কড়া নির্দেশ কমিশনের (ANI Photo) (Saikat Paul)

এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে হয়রানির অভিযোগে রাজ্যের একের পর এক জায়গায় অশান্তির খবর এসেছে। খোদ বিধায়ক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। এই আবহেই বাংলার জেলাশাসকদের কাছে কড়া নির্দেশ দিল কমিশন। এসআইআর-এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকায় শুনানি নিয়ে আর খুব বেশি তাড়া নেই কমিশনের। তাই আপাতত নিরাপত্তার ক্ষেত্রেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, যদি শুনানি কেন্দ্রের পরিস্থিতি অশান্ত হয়, যদি ভোটাররা উপস্থিত হতে ভয় পান, তাহলে বন্ধ করে দিতে হবে শুনানি। যতক্ষণ পর্যন্ত না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, ততক্ষণ শুনানি চালু হবে না বলে জানানো হয়েছে।

কমিশন সাফ জানিয়েছে, শুনানিতে কোন ভুল ধরা পড়লে তার সমস্ত দায় ভার জেলাশাসক তথা ডিইওদের নিতে হবে। ভুল ত্রুটি ধরা পড়লে বা জালিয়াতি প্রমাণিত হলে শুনানি প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে জেলাশাসকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দফতর থেকে। ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর কমিশন তাই প্রত্যেকটি পদক্ষেপ মেপে ফেলছে কমিশন। ফলে এরপর থেকে কোনরকম ছোটখাটো ভুলও যাতে না হয় ,সেই কারণেই আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল জেলাশাসকদের। সেই সতর্কবার্তা আবারও মনে করে দেওয়া হল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-এর দফতর থেকে। ভোটাররা যে তথ্য বা নথি জমা দেবেন তাতে যদি কোন রকম ত্রুটি বা অসংগতি থাকে তাহলে সেটা কমিশন দেখে নেবেন এ ব্যাপারে কোন নতুন নির্দেশিকা বা কোন অনুমোদন দেওয়ার এক্তিয়ার নেই জেলাশাসকদের। এভাবেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এসআইআর নিয়ে আরও কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন।

একদিকে যখন শাসকদল তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে পঞ্চায়েত বা ব্লক অফিসে শুনানি করতে হবে, তারপরই নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যের উপর কার্যত পাল্টা চাপ তৈরি করল কমিশন। সুপ্রিম নির্দেশ মেনে আগামী শনিবার লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। সেই সময় যাতে কোনও অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, তার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। এই নির্দেশের কথা শুনে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'শুনানি নাহলে ভোট পিছিয়ে যাবে। সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে হবে। তৃণমূল সেটাই চাইছে।' অন্যদিকে তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার দাবি করেছেন, বিজেপি ভোটারদের ভয় দেখাতে এই কাজ করছে।