Sisir Adhikari: 'ওকে ইন্দিরা গান্ধী হেলিকপ্টারে...,' মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর 'ঘরের কথা' শোনালেন বাবা শিশির

Shishir Adhikari: কিন্তু ছেলের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কেন ব্রিগেডে গেলেন না? প্রশ্ন করতেই শিশির অধিকারী বলেন, 'আমি যেতেই পারতাম। কিন্তু এই ভিড়ের মধ্যে কোথায় কী হবে, কে আবার আমাকে টার্গেট করে নেবে, আমি টিভিতেই দেখছি।'

Published on: May 09, 2026 11:14 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Shishir Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী থাকল শনিবার। পঁচিশে বৈশাখের পুণ্যলগ্নে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে সূচিত হলো এক সম্পূর্ণ নতুন অধ্যায়। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ লক্ষ মানুষের সাক্ষী রেখে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাংলায় প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এই খুশির আবহে কার্যত উৎসবের মেজাজ পূর্ব মেদিনীপুরে। জেলা জুড়ে সাজো সাজো রব। ছেলে শপথ নিলেন, শান্তিকুঞ্জের লিভিং রুমে বসে সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন বাবা শিশির অধিকারী। টিভিতে দেখলেন গোটা পর্ব। আর আবেগে ভাসলেন। তবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজনীতিতে পরিচিত ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ হিসেবেই। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও পরিবারের কাছে রয়েছে শুভেন্দুর এক অন্য পরিচয়। ছোটবেলা থেকে তাঁর স্বভাব, নেতৃত্বের ক্ষমতা, পরিশ্রম এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা কী ভাবে তাঁকে আলাদা করে তুলেছিল, সেই স্মৃতিই উঠে এসেছে এদিন তাঁর বাবা শিশির অধিকারীর আবেগঘন কথায়।

শিশির অধিকারী (সৌজন্যে টুইটার)
শিশির অধিকারী (সৌজন্যে টুইটার)

মুখ্যমন্ত্রী ছেলে প্রসঙ্গে বাবা শিশির অধিকারী

এদিন সাংবাদিকদের শিশির অধিকারী বললেন, '১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধী শুভেন্দু অধিকারীকে হেলিকপ্টারে তুলে পালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয় বরকত সাহেব তিন বার ওকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বলেছিলেন, কাছে রেখে পড়াশোনা করাবেন, বড় করবেন। দুই ভাই… বড় ভাই একটু শ্যামলা। আর ও একটু ফর্সা। কিন্তু তার মা তো তাকে কখনও ছাড়বে না। মা কখনও বাড়ি থেকে ছাড়বে না। শুভেন্দু যে ছোট থেকেই অধিকারী পরিবারের ধ্যানধারণা নিয়ে বড় হয়েছেন, সেটা আজ পর্যন্তও বহন করে নিয়ে চলেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা। শিশির অধিকারীর কথায়, 'আমাদের পরিবারের যে ধরন, সেটা ওর মধ্যে রয়েছে। কতটা এগোতে হবে, কতটা পিছোতে হবে, সেটা ও জানে।'

কিন্তু ছেলের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে কেন ব্রিগেডে গেলেন না? প্রশ্ন করতেই শিশির অধিকারী বলেন, 'আমি যেতেই পারতাম। কিন্তু এই ভিড়ের মধ্যে কোথায় কী হবে, কে আবার আমাকে টার্গেট করে নেবে, আমি টিভিতেই দেখছি।' তাঁর মতে, বাংলাকে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে অনেক শ্রম দিতে হবে, সব থেকে বেশি প্রয়োজন দিল্লির শুভেচ্ছা। ধাপে ধাপে রাজনীতিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় থেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে পুরসভার কাউন্সিলার, বিধায়ক, সাংসদ, রাজ্যের মন্ত্রী এবং একাধিক সমবায় ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছে। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রবণতা তার ছিল ছোট থেকেই। শিশির অধিকারীর কথায়, শুভেন্দু অধিকারী বেশ পরিশ্রমী, রাজনৈতিক কাজে এদিক সেদিক ছুটে বেড়ান সবসময়।‌ মানুষ চেনার এক অদ্ভুত গুণ রয়েছে শুভেন্দুর এমনটাই মত তার বাবা শিশির অধিকারীর। ছেলের এই গুনের কথা বলতে গিয়ে বাবা বলেন, 'কারও সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললেই ও বুঝে যায় সেই মানুষ কেমন। আমার কাছে বহু মানুষ দেখা করতে আসতেন। তাঁদের কথাবার্তা ও ব্যবহার দেখে ছোটবেলা থেকেই বুড়ি আমাকে বলে দিত লোকটা কেমন। শুধু মানুষ চেনাই নয়, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও ওর দক্ষতা আলাদা করে চোখে পড়ে।'

মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র থেকে আজ মহাকরণের প্রধান-শুভেন্দু অধিকারীর এই যাত্রাপথকে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবেই দেখছেন তাঁর সমর্থকেরা। ব্রিগেড গ্রাউন্ডের আকাশ-বাতাস তখন ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত।