Brazil Team: পাতে কলকাতার তাজা মাছ! ভরসা ব্রাজিলের শেফ, ভিনিসিয়াসদের মেনুতে কী কী রয়েছে?
Brazil Team: ব্রাজিলের ফুটবলারদের দিনে প্রায় পাঁচ বার খাবার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পদ তৈরির সময়ে উপস্থিত থাকছেন দলের শেফ এবং পুষ্টিবিদরা।
Brazil Team: কলকাতায় শুরু হয়ে গেল ফুটবল উন্মাদনার কাউন্টডাউন। বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শহরে এসে পৌঁছেছে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দল (Brazil Team)। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকও সেরে ফেলেছেন কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি এবং ক্যাপ্টেন মার্কুইনহোস। এদিনই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্র্যাকটিসে নামার কথা সেলেকাওদের। এই আবহে ব্রাজিলের ফুটবলারদের ডায়েট নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্র। ভক্তদের মনে প্রশ্ন উঠছে, কলকাতায় এসে কী ভারতীয় খাবারে মজেছেন তাঁরা? কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি ব্রাজিলের টিম ম্যানেজমেন্ট। ডায়েট নিয়ে কোনও আপস করছে না তারা। দলের সঙ্গে আসা শেফ এবং পুষ্টিবিদদের নিয়ম মেনেই তৈরি হচ্ছে মেনু। কী কী থাকছে ভিনিসিয়াস, ব্রুনোদের মেনুতে?

শনিবার ভারতের (India) বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে নির্ধারিত সময়ে কলকাতায় (Kolkata) এসে পৌঁছেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (Brazil) ফুটবল দল। কোচ কার্লো আনচেলোত্তির নেতৃত্বে এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এনদ্রিকের মতো বিশ্বমানের তারকাদের নিয়ে বিশেষ বিমানে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পা রাখেন সেলেসাওরা। দল শহরে পৌঁছানোর পর গোপনীয়তা বজায় রেখে বিশেষ কনভয়ে বাইপাসের ধারের একটি নির্দিষ্ট হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় পুরো দলকে। শুক্রবার বিকালে যুবভারতীর মূল মাঠে অনুশীলন করবে সেলেকাওরা। তারপর সন্ধেতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে দলকে সান্ধ্যকালীন ভোজনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে ভিনিদের জন্য বাঙালি এবং ভারতীয় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সূত্রের খবর, ব্রাজিল ফুটবলাররা ব্রাজিল থেকে আনা নিজেদের রাঁধুনির তৈরি খাবারই খাচ্ছেন।
কলকাতায় দলের খাবারের মেন্যু মূলত তৈরি করছেন দলের সঙ্গে আসা নিজস্ব শেফ ও পুষ্টিবিদরা। দিনে প্রায় পাঁচবার নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে খাবার দেওয়া হচ্ছে ফুটবলারদের। সূত্রের দাবি, ব্রাজিল ফুটবলাররা খাবার-দাবারের ব্যাপারে বেশ নিয়মনাস্তি মেনেই চলেছেন। দলের নিউট্রিশিনিস্টের পরামর্শ মতোই তাঁদের খাবারের মেনু সাজানো হচ্ছে। পুষ্টিবিদের বেঁধে দেওয়া রুটিনের বাইরে তাঁরা বেরোচ্ছেন না বটে, তবে সেই বাঁধাধরা মেনুতেও রয়েছে বৈচিত্র।
কী থাকছে লাঞ্চ ও ডিনারে?
ব্রাজিলের ফুটবলারদের দিনে প্রায় পাঁচ বার খাবার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পদ তৈরির সময়ে উপস্থিত থাকছেন দলের শেফ এবং পুষ্টিবিদরা। খাবারে তেলের ব্যবহারও নিয়ন্ত্রিত। মূলত অলিভ অয়েলই ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের লাঞ্চ ও ডিনারের মেন্যুতে থাকছে, ব্রাউন রাইস, স্প্যাগেটি, বেকড বিনস, মাছ, চিকেন, মাংস, গ্রিন স্যালাড ও সামান্য ডেজার্ট।
ব্রাজিলের ফুটবলাররা মাছপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন ধরনের টাটকা মাছ খেতে পছন্দ করেন তাঁরা। কলকাতা আবার মাছের জন্য বিখ্যাত। ফলে শহরে এসে নানা ধরনের টাটকা মাছ খাওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন তাঁরা। দলের শেফরাই সেই মাছ রান্না করছেন বলে সূত্রের খবর। মেন্যুতে থাকছে নরওয়েজিয়ান স্যামন-সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ। তবে কলকাতার বাজার থেকে টাটকা মাছও নাকি কিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ব্রাজিল ফুটবলারদের জন্য। সূত্রের খবর, কলকাতার মাছের বাজারের টাটকা মাছ বেশ উপভোগ করছেন ব্রাজিল ফুটবলাররা।
তাঁদের আমিষ খাবারের মেনুতে থাকছে মূলত গ্রিলড চিকেন, পর্ক ও ভেড়ার মাংস। সূত্রের খবর, পর্ক ও ভেড়ার মাংস মুম্বই থেকে আনা হচ্ছে। খাবারের সঙ্গে থাকছে পরিমিত ভাত, বিভিন্ন ধরনের ডাল ও বিনস, আলু, সবজি এবং স্যালাড। শুক্রবার সকালেও নিজেদের শেফের তৈরি খাবারেই ব্রেকফাস্ট সারেন ফুটবলাররা। মেন্যুতে ছিল ব্রেড, সেদ্ধ ডিম, ফল এবং সবুজ সবজির স্যালাড। পানীয় হিসেবেও নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে চলছেন তাঁরা। ব্রাজিল ফুটবলাররা হালকা কসরত করেছেন। আজ বিকালেই তাঁদের অনুশীলনে নামতে হবে। শনিবার যুবভারতীতে ভারত বনাম ব্রাজিল এই মহারণ দেখতে মুখিয়ে রয়েছেন আপামর ফুটবলপ্রেমীরা।
E-Paper

