এখনও অধরা হারুন-রোহিত! হাওড়ার প্রোমোটার খুনের তদন্তে তৎপর CID, কী বলছে পরিবার?
পুলিশ হেফাজতে থাকা ধৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রোমোটার সফিক খানকে গুলি করে হত্যার পর মূল দুই আততায়ী হারুন খান এবং রোহিত হোসেন আশ্রয় নেয় বউবাজারের মহম্মদ ওয়াকিলের বাড়িতে।
উত্তর হাওড়ার পিলখানায় ২৭ বছরের প্রোমোটার সফিক খানকে খুনে শোরগোল পড়লেও এখনও অধরা মূল অভিযুক্ত হারুন খান ও রোহিত হোসেন। দু'দিন কেটে গেলেও কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় তদন্তভার শুক্রবার শেষমেশ সিআইডির কাছে গিয়েছে। এরপরেই শনিবার ডিআইজি (সিআইডি) ইন্দ্র চক্রবর্তী-সহ অন্য আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি পরিবারের লোকজন ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে, খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ মিললেও মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত এখনও অধরা। এর আগে চারটি বিশেষ দল গঠন করে তল্লাশি চালাচ্ছিল হাওড়া সিটি পুলিশ। একটি দল ভিনরাজ্যেও যায় বলে খবর। কিন্তু তার মাঝেই পরিবারের পক্ষ থেকে সিআইডি তদন্তের জোরালো দাবি ওঠে। নিহত প্রোমোটার শফিক খানের দাদা জাহির খান বলেন, সিআইডি তদন্ত তাঁরা দাবি করেছিলেন। সেই তদন্ত শুরু হওয়ায় তাঁরা খুশি। মূল অভিযুক্তরা ধরা পড়বে বলে আশাবাদী তিনি। এদিকে ডিআইজি (সিআইডি) বলেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরমধ্যেই প্রোমোটার খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার রাতে ধৃত মহম্মদ ওয়াকিলের বউবাজারের বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই রাউন্ড গুলি।
পুলিশ হেফাজতে থাকা ধৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রোমোটার সফিক খানকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে হত্যার পর মূল দুই আততায়ী হারুন খান এবং রোহিত হোসেন আশ্রয় নেয় কলকাতার বউবাজারের মহম্মদ ওয়াকিলের বাড়িতে। সেখানেই তারা মহম্মদ ওয়াকিলের বাড়িতে ওই দুটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই রাউন্ড গুলি জলের ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখে। এদিকে, পিলখানাকাণ্ডে মহম্মদ আসলাম নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসলাম মেটিয়াব্রুজে হারুন ও রোহিতকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছিল। অন্যদিকে, মূল অভিযুক্ত হারুন খানের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বাড়ছে। হাওড়া উত্তরের বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর সঙ্গে হারুনের একাধিক ছবি সামনে এসেছে। তবে তৃণমূল বিধায়ক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হারুনকে জানলেও ঘনিষ্ঠতা ছিল না। এই নিয়ে শাসকদলকে বিঁধেছে বিজেপি। তৃণমূলের সহযোগিতাতেই অভিযুক্তরা অধরা কিনা, সেই প্রশ্ন তুলছে। সূত্রের খবর, অন্য রাজ্যে চম্পট দিয়েছে দুই মূল অভিযুক্ত।
এখন দেখার, মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হয় কিনা। সফিক খানের পরিবারের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, দোষীদের কড়া শাস্তি দেওয়া হোক। হাওড়ার এই হাড়হিম খুনকাণ্ডে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপও ক্রমশই বাড়ছে।
E-Paper

