'বাঙালি অস্মিতা!' প্রজাতন্ত্র দিবসে কেন্দ্রকে নীরব বার্তায় বাংলার বঙ্কিম-রবিঠাকুর
এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডের থিম, ‘স্বাধীনতা কা মন্ত্র – বন্দেমাতরম’। যেখানে বাংলার থিম, ‘ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ভূমিকা।’
সংসদে শীতকালীন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। এই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র শেখাওয়াত সাহিত্য সম্রাটকে ‘বঙ্কিমদাস’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলতে গিয়ে বলে দিচ্ছেন ‘রবীন্দ্রনাথ সান্যাল।' যা নিয়ে একাধিকবার সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মনিষীদের অপমান নিয়ে সরব হন। এবার প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে ‘বাংলা এবং বাঙালি অস্মিতা’কেই সুকৌশলে তুলে ধরে ট্যাবলো সাজালো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার প্রজাতন্ত্র দিবসের থিম বন্দেমাতরমের দেড়শ বছর। সেই থিমকে উপজীব্য করেই বাংলার ট্যাবলোর একেবারে সামনে থাকছেন আনন্দমঠ লেখায় মগ্ন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে পশ্চিমবঙ্গের ট্যাবলোয় সাজানো হয়েছে এক শক্তিশালী ঐতিহাসিক ন্যারেটিভ। ট্যাবলোয় সুকৌশলে স্বমহিমায় স্থান দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। ট্যাবলোয় বাজবে কংগ্রেসের অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথের সুরে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম গান। এছাড়াও শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ের নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর হুবহু প্রতিকৃতি থাকছে ট্যাবলোয়। জাতীয় পতাকা হাতে থাকছেন মাতঙ্গিনী হাজরাও। গড়ে তোলা হয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসির মঞ্চ। ওয়াকিবহাল মহলের বড় অংশের মতে, বাংলার ভোট মরশুমে প্রজাতন্ত্র দিবসে বন্দেমাতরম থিম আদতে বাঙালি সেন্টিমেন্টকে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ করে দিল তৃণমূল পরিচালিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে। রেসিড্যান্ট কমিশনার অফিসের তরফে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব ইনফরমেশন, আশিস জানা বলেন, 'দেশবাসীর কাছে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস দেশবাসীর কাছে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।'
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জেলার দুই গর্বকে সুকৌশলে ট্যাবলোয় রেখে মুখে কিছু না বলেও তাঁর উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে রাখল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকার। এছাড়াও ট্যাবলোয় থাকছে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ঋষি অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা, মাস্টারদা সূর্য সেন, কাজী নজরুল ইসলাম, বিনয়, বাদল, দীনেশ, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেকর ও রাসবিহারী বসুদের প্রতিকৃতি। থাকছে ঐতিহাসিক আলিপুর জেলও। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডের থিম, ‘স্বাধীনতা কা মন্ত্র – বন্দেমাতরম’। যেখানে বাংলার থিম, ‘ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ভূমিকা।’ কয়েকমাস বাদেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার আগে মুখে কিছু না বললেও সাধারণতন্ত্র দিবসের ট্যাবলোয় নতুন করে বাংলা ও বাঙালির অস্মিতাকে ফুটিয়ে তুলে ‘বাংলা বিরোধী’-দের জবাব দিল রাজ্য।
প্রসঙ্গত, বিগত বছরগুলির দিকে তাকালে দেখা যাবে, বারবারই বাংলা ট্যাবলো নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে। কেন্দ্র-রাজ্য চাপানউতোরও কম হয়নি। গত বছর অনুমোদন পায়নি বাংলার ট্যাবলো। ২০২০ এবং ২০২২ সালেও প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে রাজ্যের ট্যাবলো বাতিল হয়ে যায়। বৈষ্যমের রাজনীতির অভিযোগে বারবারই কেন্দ্রের সুর চড়িয়েছে রাজ্য। কিন্তু এবার মিলেছে গ্রিন সিগন্যাল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডেপুটি ডিরেক্টর ইনফরমেশন, শাশ্বত দাঁ আগেই বলেছিলেন, বন্দে মাতরমের সার্ধ শতবর্ষ উপলক্ষে ‘বন্দে মাতরম’ই থিম করার কথা বলা হয় রাজ্যের তরফে। সেখানে বাংলার মনীষীদের মূর্তি রাখার কথাও বলা হয়। সেউ থিমে অনুমোদন মেলে কেন্দ্রের তরফে। বাছাইয়ের প্রাথমিক তালিকায় জায়গা করে নেয় বাংলা।
E-Paper











