West Bengal CM's oath ceremony: ঝালমুড়ি থেকে সীতাভোগ, মিহিদানা! বাঙালিয়ানার মোড়কে ব্রিগেডে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ
West Bengal CM's oath ceremony: শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান হবে। শুভক্ষণ দেখেই অনুষ্ঠানের সূচি ঠিক করা হয়েছে। তবে এবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিছকই কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একে এক সাংস্কৃতিক মহোৎসবের রূপ দিতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।
West Bengal CM's oath ceremony: বাঙালিয়ানা। এবারের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির লড়াইটা ছিল মূলত এই রসায়নের উপর দাঁড়িয়ে। প্রথমে বাঙালিয়ানার অস্ত্রেই শান দিয়েছিল তৃণমূল, সিপিএমও। পরে অবশ্য বিজেপিও বাঙালিয়ানাকে তুলে ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠে। সম্পূর্ণ নিরামিষাশী হিন্দি বলয়ের নেতারাও ভাগ বসিয়েছিলেন বাঙালির মাছে-ভাতে। বাংলায় প্রচারে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপর বাকিটা সকলেরই জানা। তৃণমূলের ১৫ বছরের দূর্গ ভেঙে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তবে, আপাতত বিজেপি যে বাঙালিয়ানাকে ছাড়ছে না, তা ভোটের ফল প্রকাশের দিনই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ‘খাঁটি বাঙালি’ সাজে হাজির হয়েছিলেন বিজেপির সদর দফতরে। ব্রিগেডে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের দিনও বেছে নেওয়া হয়েছে পঁচিশে বৈশাখ, কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নেকে। সেখানে থাকবে বাংলার শিল্প-কৃষ্টি সংস্কৃতির ছাপ। কবিগুরুকে সম্মান জানিয়েই শুরু হবে শপথগ্রহণ। খাবারে থাকবে বাঙালি ডিশ। সঙ্গে ঝালমুড়ি ও বর্ধমানের সীতাভোগ, মিহিদানা।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান হবে। শুভক্ষণ দেখেই অনুষ্ঠানের সূচি ঠিক করা হয়েছে। তবে এবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিছকই কোনও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং একে এক সাংস্কৃতিক মহোৎসবের রূপ দিতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। বাঙালির অহংকার রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনটিকে বেছে নেওয়া তারই ইঙ্গিত। জানা গিয়েছে, নবনির্বাচিত বিধায়করা ওইদিন চিরাচরিত বাঙালি পোশাক ধুতি ও পাঞ্জাবি পরেই মঞ্চে হাজির হবেন। অনুষ্ঠানের সূচনা হবে রবীন্দ্রসংগীতের সুরের মূর্চ্ছনায়, যা বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পাশাপাশি এক শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করবে। এর আগে কালনা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছিল মিহিদানা, সীতাভোগের কথা। জিভে জল আনা এই দুই মিষ্টির কদর শুধু বাংলায় নয়, প্রবাসী বাঙালিদের কাছেও বেশ প্রিয়। শক্তিগড়ে এসেছেন অথচ ল্যাংচা বা মিহিদানা, সীতাভোগের স্বাদ নেননি, এমন সেলিব্রিটি খুবই কম রয়েছেন। সেই সীতাভোগ এবং মিহিদানাও এবার রাজনৈতিক ময়দানে জায়গা করে নিয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জামালপুরে ভোট প্রচারে এসে ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীকে সীতাভোগ খাওয়ানোর কথা বলেছিলেন। আবার ঝাড়গ্রামে প্রচারে এসে ঝালমুড়িও খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজেপি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দু’জনেই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকছেন বলে। তাই সেই ধারা বজায় রেখেই শপথের মেনুতে থাকছে এলাহি আয়োজন, রয়েছে ঝালমুড়ি, জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত বর্ধমানের বিখ্যাত সীতাভোগ এবং মিহিদানা। সূত্রের খবর, শপথের মঞ্চে প্রতিশ্রুতি মতো প্রধানমন্ত্রীকে সীতাভোগ খাওয়াতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাঙালির কৃষ্টি সংস্কৃতির সব কিছুই থাকবে সেখানে। এক অন্য ধরণের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান দেখবে বাংলা। জানা গিয়েছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ কেন্দ্রের মন্ত্রীরাও ডাক পাচ্ছেন অনুষ্ঠানে। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতির পাশাপাশি বাংলার সব স্তরের মানুষকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে। বাংলার বিশিষ্ট সমাজসেবী, সাহিত্যিক, ক্রীড়াবিদ, রূপোলি পর্দার নায়ক-নায়িকা-সহ বিশিষ্টজনরা থাকবেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পরতে পরতে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া থাকবে। রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজবে। একদিকে রবীন্দ্রসংগীত, অন্যদিকে ঝালমুড়ি আর সীতাভোগের স্বাদ- সব মিলিয়ে এক নতুন ধরণের শপথ গ্রহণ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে তিলোত্তমা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাঙালির আবেগকে মিশিয়ে দিয়েই নতুন এই শাসন অধ্যায় শুরু করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
E-Paper

