বেজে গেল ভোটের রণদামামা! এবার বাংলায় ২ দফাতেই মেগা নির্বাচন? নির্ঘন্ট ঘোষণা কবে?

গত ১০ মার্চ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করেই জানিয়েছে, ভোট ঘোষণায় কোনও বাধা নেই। শুনানিতে জানা গেছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে ১০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।

Published on: Mar 12, 2026 10:44 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দীর্ঘদিনের জল্পনা এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার অবশেষে অবসান ঘটতে চলেছে। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণায় আর কার্যত কোনও বাধা নেই। সূত্রের খবর, শেষ পর্যন্ত কোনও অঘটন না ঘটলে বা নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত বদল না করলে আগামী ১৬ মার্চই পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই সম্ভাবনাই প্রবল। বিবেচনাধীন ভোটারদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আগেই ভোটের দিন ঘোষণা করবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তবে এবারের সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে ভোটের দফায়।

বেজে গেল ভোটের রণদামামা!
বেজে গেল ভোটের রণদামামা!

ক’দফায় ভোট হতে পারে পশ্চিমবঙ্গে?

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গেই বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা হবে-তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরির। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ার জট না কাটলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেও পরে ভোট ঘোষণা হতে পারে। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে কমিশন ভোটের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। প্রথম থেকেই জল্পনা চলছিল, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেই ভোট ঘোষণা হতে পারে। এবার জানা যাচ্ছে, ১৬ মার্চ বাংলায় ভোট ঘোষণা হতে পারে। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যে ক’দফায় ভোট হবে, এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে রয়েছে। অতীতে ৮ দফায় ভোট হলেও, এবার রাজ্যে সম্ভবত মাত্র ২ দফাতেই সম্পন্ন হতে পারে ছাব্বিশের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন।

১৬ মার্চ ভোট ঘোষণা হলে প্রথম দফার নির্বাচনের আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় দিতে হবে। অর্থাৎ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে হবে প্রথম দফার নির্বাচন। সেক্ষেত্রে এপ্রিলের মধ্যেই ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণাও শেষ হয়ে যেতে পারে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, ১৮ মার্চ থেকে জমা নেওয়ার কথা ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে। তবে বাংলার রাজনীতিকদের অনেকে মনে করছেন, তা হয়তো বাংলার জন্য হবে না। অসম, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরিতে এক দফায় ভোট হবে। তা সাঙ্গ করে তবেই বাংলায় ভোট হবে।

৮ দফার বদলে মাত্র ২ দফায় ভোট?

অতীতে রাজ্যে নির্বাচনী হিংসা রুখতে বহু দফায় ভোটগ্রহণের নজির রয়েছে। তবে এবার কমিশনের অন্দরে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, এত বেশি দফায় ভোটের আর কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। কমিশনের এক আধিকারিকের মতে, দুই বা কম দফায় ভোট হলে দুষ্কৃতীরা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় গিয়ে অশান্তি পাকানোর সুযোগ অনেকটাই কম পাবে। সম্প্রতি জ্ঞানের কুমারের নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের ফুল বেঞ্চ বাংলায় এসে গোটা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দিয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রশাসনিক কর্তা, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার সকলের সঙ্গে বৈঠক করে জল মেপে গিয়েছেন। ছাব্বিশের নির্বাচন রক্তপাতহীন করতে বদ্ধপরিকর কমিশন। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বাম-বিজেপি এক বা দুই দফায় ভোটের পক্ষে সওয়াল করেছে। রাজ্য প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্তারাও একই পরামর্শ দিয়েছেন। দিল্লিতে আরও একদফা চূড়ান্ত বৈঠকের পরই বাংলার ২৯৪ আসনের জন্য ২ দফার সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়তে পারে।

জট কাটল এসআইআর প্রক্রিয়ার

গত ১০ মার্চ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার করেই জানিয়েছে, ভোট ঘোষণায় কোনও বাধা নেই। শুনানিতে জানা গেছে, ৬০ লক্ষের মধ্যে ১০ লক্ষ আবেদনের নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। তারমধ্যে ৩ লক্ষ ৪ হাজারের মতো আবেদন খারিজ হয়েছে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কীভাবে প্রকাশ করা হবে তা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্থির করবেন বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেই মোতাবেক আজ, বৃহস্পতিবারই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সিইও দফতর। আদালতের নির্দেশ এবং নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করেই এখন বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের সম্পূর্ণ রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।