বলবৎ নির্বাচনী আচরণবিধি! দক্ষিণ দিনাজপুরে চুপিসারে ত্রিপল...টোটো আটকাতেই চাঞ্চল্য ছড়াল
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। হাজির হন বিজেপির জেলা সম্পাদক তাপসচন্দ্র রায়-সহ অন্যান্যরা।
সবে বাংলায় ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্যজুড়ে কার্যকর হয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। এরমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনী আচরণবিধি লাগুর পর রবিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি ব্লক অফিস থেকে টোটো করে চুপিসারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সরকারি ত্রিপল। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, টোটোটিতে ত্রিপলের ১৫টি প্যাকেট ছিল। একটি প্যাকেটে পাঁচটি করে ত্রিপল ছিল। ব্লক অফিস থেকে বেরোনোর পরই কুশমণ্ডি শীতলাতলা এলাকায় বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এরপরই তাঁরা ত্রিপল ভর্তি সেই টোটোটিকে আটকান। অন্যদিকে, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। হাজির হন বিজেপির জেলা সম্পাদক তাপসচন্দ্র রায়-সহ অন্যান্যরা। এরপর খবর দেওয়া হয় কুশমণ্ডি থানায়। পরে পুলিশ এসে ত্রিপল ভর্তি ওই টোটোটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ নিয়ে কুশমণ্ডি থানায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। যদিও ওই ঘটনায় পুলিশ বিজেপি নেতৃত্বদের রিসিভ কপি দেয়নি। এদিকে, অভিযোগ পেলে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক।
জানা গিয়েছে, টোটো ভর্তি ত্রিপলগুলি কুশমণ্ডি ব্লকের করঞ্জি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে টোটো করে ত্রিপল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপি নেতৃত্ব শাসক দল তৃণমূলের দিকে অভিযোগের তির তুলেছে। বিজেপির দাবি, এই ত্রিপলগুলি রাতের অন্ধকারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মানে এর পিছনে কোনও দুর্নীতি রয়েছে। কারণ নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে মানেই নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়েছে রাজ্যে। এই সময় এমনভাবে কোনও কিছুই কাউকে দেওয়া যায় না। যদিও বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতারা। তাঁদের দাবি, দু’দিন আগে কুশমণ্ডি ব্লকের করঞ্জি এলাকায় ব্যাপক ঝড় বৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে বহু বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। সেই সব অসহায় মানুষদের হয়তো এই ত্রিপলগুলি দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে জরুরি জিনিস দেওয়া যায়। বিজেপি যে অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
উল্লেখ্য, রবিবার বিকেলে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হবে দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে। ভোটের ফলঘোষণা আগামী ৪ মে, সোমবার।
E-Paper

