Hingalganj: 'বল হরি, হরি বোল করে দেব!' ভোটের মুখে বাড়িতে গেল সাদা থান, হিঙ্গলগঞ্জে হুলুস্থূল
Hingalganj: স্থানীয় সূত্রে খবর, রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা রহস্যজনকভাবে মৃতদেহের সঙ্গে যুক্ত সামগ্রী বাড়ির দরজার সামনে ফেলে রেখে গিয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির বুথ সভাপতি দুলালচন্দ্র মণ্ডল এবং বিজেপি নেতা গৌড় বাউরিয়ার৷ এই ধরণের কর্মকাণ্ডে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
Hingalganj: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফের খবরের শিরোনামে 'সাদা থান।' ভোটের ঠিক আগের দিন বিজেপি নেতাদের বাড়ির দরজার সামনে মিলল মৃতদেহ সৎকারে ব্যবহৃত সাদা থান কাপড়, সিঁদুর, জবা ফুল এবং তুলো। শুধু তাই নয়, ওই সব উপকরণের সঙ্গে একটি সাদা কাগজে স্পষ্ট করে লিখে দেওয়া হয়েছে, 'এবার বলো হরি হরি বোল করে দেব।' আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার ভবানীপুর-১ এলাকায়৷

স্থানীয় সূত্রে খবর, রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা রহস্যজনকভাবে মৃতদেহের সঙ্গে যুক্ত সামগ্রী বাড়ির দরজার সামনে ফেলে রেখে গিয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির বুথ সভাপতি দুলালচন্দ্র মণ্ডল এবং বিজেপি নেতা গৌড় বাউরিয়ার৷ এই ধরণের কর্মকাণ্ডে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে এভাবে মৃতদেহের সঙ্গে যুক্ত সামগ্রী ফেলে রেখে আসার ঘটনাকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, বিরোধী স্বরকে দমানোর জন্যই এই ধরনের ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্থানীয় থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিজেপির বুথ সভাপতি দুলালচন্দ্র মণ্ডল বলেন, 'আমার ও গৌড় বাউরিয়ার বাড়ির সামনে এই জিনিসগুলো রেখে যায়৷ এতে আমার পরিবার খুব ভয়ে রয়েছে৷ আমি প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছি৷ আর এ রকম ঘটনা যাতে না ঘটে সেটাই আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি৷' বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েই তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ধরনের নীচ মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে৷ এই প্রসঙ্গে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি পলাশ সরকার বলেন, 'তৃণমূলের এই সাদা থানের জবাব হিঙ্গলগঞ্জের মানুষ ইভিএমে দেবে৷ তৃণমূলের পরাজয় হিঙ্গলগঞ্জে নিশ্চিত৷ শেষ মুহূর্তে প্রদীপ যেমন দপ করে জ্বলে ওঠে তৃণমূল তেমন জ্বলার চেষ্টা করছে৷ কিন্তু ওদের তেল ফুরিয়ে গিয়েছে ওরা আর জ্বলবে না নিভেই যাবে ৷ হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপি জয়ী হবে এবং তৃণমূল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে৷'
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী আনন্দ সরকার। তিনি অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, 'এসব নিজেরা করে অন্যের নামে দোষ চাপানোর কৌশল মাত্র। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বিজেপি সহানুভূতি পাওয়ার জন্য নিজেরাই এই নাটক সাজাচ্ছে।' পাল্টা তৃণমূল প্রার্থী বিজেপির দিকেই তোপ দেগে বলেন, 'যে দলের প্রার্থী প্রকাশ্য জনসভায় বুলডোজার চালানোর হুমকি দেয়, তাদের কর্মী সমর্থকদের কাছ থেকে এমনটাই প্রত্যাশা করা যায়। এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল বা আমরা কেউই জড়িত নই।' এদিকে, ঘটনার পর থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরণের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাবরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্তে শেষ পর্যন্ত আসল সত্য কী বেরিয়ে আসে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করা সম্ভব হয় কিনা। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
E-Paper

