চোরবাগানকাণ্ডে দায় কার? অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে সিট গঠন, তিন মাসে রিপোর্ট জমার চ্যালেঞ্জ

চোরবাগানের ঘটনায় মোট ১০টি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত হবে। প্রথমেই খতিয়ে দেখা হবে, ঠিক কখন এবং কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। অতিরিক্ত ভিড়, খারাপ আবহাওয়া, গুজব ছড়ানো, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কিংবা প্রবেশ ও বেরনোর পথের সমস্যার মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে।

Published on: Oct 22, 2026, 14:26:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করতে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এই দল ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখবে। কারও গাফিলতি ছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজবেন তদন্তকারীরা। বুধবার, ২১ অক্টোবর এই কমিটি গঠনের নির্দেশ জারি করেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। তিন মাসের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দেওয়া যে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের, তা জানিয়েছেন সিটের প্রধান অনিন্দিতা রায় সরস্বতী।

চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করতে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। (PTI)
চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করতে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। (PTI)

কারা রয়েছেন সিটে?

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী ছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের প্রধান সচিব, রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি, রাজ্য পুলিশের প্রধানের মনোনীত অতিরিক্ত ডিজি পদমর্যাদার এক প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার এক প্রতিনিধি এবং কলকাতায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফের এক প্রতিনিধি।

কলকাতা হাইকোর্টের সঙ্গে আলোচনা করেই এই তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা, দায় নির্ধারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সুপারিশ করাই সিটের মূল লক্ষ্য।

কী কী খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী দল?

চোরবাগানের ঘটনায় মোট ১০টি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত হবে। প্রথমেই খতিয়ে দেখা হবে, ঠিক কখন এবং কীভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। অতিরিক্ত ভিড়, খারাপ আবহাওয়া, গুজব ছড়ানো, বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কিংবা প্রবেশ ও বেরনোর পথের সমস্যার মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে।

মণ্ডপের পরিকাঠামো, গেট, ব্যারিকেড, সিঁড়ি এবং জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা যথাযথ ছিল কি না, তা-ও পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তা, পুলিশ, দমকল, হাসপাতাল, কলকাতা পুরসভা, বিদ্যুৎ সংস্থা এবং পূর্ত দফতরের ভূমিকা খতিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা।

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনে তোলা ভিডিয়ো, কল রেকর্ড এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা হবে। ভিড় সামলানোর পরিকল্পনা ও বিপর্যয় মোকাবিলার ব্যবস্থা নির্ধারিত নিয়ম মেনে করা হয়েছিল কি না, তা-ও দেখা হবে। কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারে সিট। মৃতদের পরিবার ও আহতদের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় থাকছে।

তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা কতটা সম্ভব?

সিটের প্রধান অনিন্দিতা রায় সরস্বতী জানিয়েছেন, এখনও তদন্তের বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়নি। প্রথমে খুঁজে বের করতে হবে, কী কারণে এত মানুষের মৃত্যু হল এবং এই ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না। ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুজো কমিটিগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

তাঁর কথায়, তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়া চ্যালেঞ্জের। তবে সেই সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার চেষ্টা করা হবে। উত্তর কলকাতার সরু গলিতে বড় পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্যও নতুন ব্যবস্থা সুপারিশ করতে পারে সিট। দর্শনার্থীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করা, প্রবেশ ও বেরনোর আলাদা পথ, সিসিটিভি, মাইকে ঘোষণা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পেতে পারে। চোরবাগানকাণ্ডে ঠিক কী ঘটেছিল এবং কোথায় কোথায় গাফিলতি ছিল, তদন্তের রিপোর্টেই তার উত্তর মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More