Chorbagan stampede: চোরবাগান কাণ্ডে মাইকে ঘোষণা কে করেছিলেন? সেন্টু-কালিয়াকে মুখোমুখি জেরায় নয়া মোড়, নজরে...

Chorbagan stampede: পুলিশ চোরবাগানে বসানো সিসি ক্যামেরার দু’টি ডিভিআর (DVR) বাজেয়াপ্ত করেছে। একটি রেকর্ডারে ১৪টি এবং অন্যটিতে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কথা। কিন্তু একটি ডিভিআর থেকে মাত্র ১৩টি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।

Published on: Oct 28, 2026, 17:00:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Chorbagan stampede: চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজোয় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে এবার নয়া মোড়। লালবাজারের একটি সূত্রে খবর, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনে মাইক্রোফোন হাতে ছিল ধৃত কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়ার। তিনিই দুর্ঘটনার পূর্ব মুহূর্তে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে ঘোষণা করেছিলেন। অপর ধৃত সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু এবং কালিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

চোরবাগান কাণ্ডে মাইকে ঘোষণা কে করেছিলেন? (PTI)
চোরবাগান কাণ্ডে মাইকে ঘোষণা কে করেছিলেন? (PTI)

চোরবাগান মণ্ডপে গত ১৭ অক্টোবর সপ্তমীর সন্ধ্যায় ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। তাতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন আরও অনেকে। এই ঘটনায় গত শুক্রবার সকালে গ্রেফতার হন চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোর ঘোষক কালিয়া। সে দিনই তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছিল। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, পুলিশের এক জনের কথায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনার কথা জানিয়ে মণ্ডপ থেকে সরে যেতে বলেছিলেন দর্শনার্থীদের। কোন পরিস্থিতিতে তিনি সেই ঘোষণা করেছিলেন, ইতিপূর্বে পুলিশের কাছে সে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তাঁর বক্তব্য শুনেছে। এখন লালবাজার সূত্রে খবর, দুর্ঘটনার আগে সেন্টু কালিয়াকে বলেছিলেন যে, তিনি ‘ভিতরে যাচ্ছেন।’ অর্থাৎ, পুজো কমিটির সদস্যদের বসবার জায়গায়। কালিয়া ঘোষকের দায়িত্ব নেন। কিন্তু কালিয়ার ঘোষণার সঙ্গে দুর্ঘটনার সময় এবং সম্পর্ক কতটা, সে ব্যাপারে আরও তদন্তের প্রয়োজন। আর এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ।

জানা গিয়েছে, চোরবাগান মণ্ডপে বসানো হয়েছিল ৩৩টি সিসিটিভি। পুলিশ চোরবাগানে বসানো সিসি ক্যামেরার দু’টি ডিভিআর (DVR) বাজেয়াপ্ত করেছে। একটি রেকর্ডারে ১৪টি এবং অন্যটিতে ১৬টি ক্যামেরার ফুটেজ থাকার কথা। কিন্তু একটি ডিভিআর থেকে মাত্র ১৩টি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে। বাকি ক্যামেরাগুলির ছবি কেন পাওয়া গেল না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থানপথের ফুটেজ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। বেরোনোর পথে থাকা তিনটি ক্যামেরার মধ্যে মাত্র একটির ফুটেজ পাওয়া গিয়েছে। সেই ফুটেজের সঙ্গে অন্য ক্যামেরার ছবি মিলিয়ে বিপর্যয়ের আগে ও পরে ভিড়ের গতিবিধি বোঝার চেষ্টা চলছে। একাধিক ক্যামেরার ফুটেজ একসঙ্গে চালিয়ে ফরেন্সিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে ঘোষক দুর্ঘটনার আগে ঘোষণা করেছিলেন, তা তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে দুই ঘোষকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চান তদন্তকারীরা। এ জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে খবর।

সব মিলিয়ে, চোরবাগান কাণ্ডে মাইকের ঘোষণা ঘিরে তদন্তের পরবর্তী ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। সেন্টু ও কালিয়াকে মুখোমুখি জেরা, কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা এবং ঘটনার সময়কার ভিডিও-অডিও মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে ঘোষণার প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা চলছে। তবে বিপর্যয়ের জন্য কার কতটা দায়, তা নির্ধারণ করতে তদন্তের ফল এবং সংগৃহীত প্রমাণের উপরই নির্ভর করতে হবে।