অভিনেতা থেকে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি! দিল্লিতে নামের তালিকা বঙ্গ BJP-র, এগিয়ে কে?
দলের একাংশের বক্তব্য, অতীতে প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের কৌশলগত ভুলের নজির রয়েছে। রাজ্যসভার প্রার্থী করে অনন্ত মহারাজকে নিয়েও চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পদ্ম শিবির।
রাজ্যসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর বাংলার রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। রাজ্য থেকে খালি হতে চলেছে মোট পাঁচটি আসন, যার মধ্যে একটি আসন নিশ্চিতভাবেই যাচ্ছে বিজেপির ঝুলিতে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই একটি আসন ঘিরেই এখন দলের ভেতরে-বাইরে বাড়ছে কৌতূহল। বঙ্গ বিজেপি থেকে কে যাবেন রাজ্যসভায়- তা চলছে জল্পনা-কল্পনা।

দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যসভার প্রার্থীর জন্য বঙ্গ বিজেপির তরফে নয়টি নাম পাঠানো হয়েছে নয়া দিল্লিতে। যদিও গতবারের মতো এবারও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপির কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড। গতবার সাত জনের তালিকা থেকে শমীক ভট্টাচার্যর নাম অনুমোদন করেছিল বোর্ড।
বিজেপির সম্ভাব্য তালিকা
এবার বিজেপির সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী, দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা, প্রাক্তন সাংসদ তথা দলের মহিলা নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, ড. অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। এছাড়াও নাম গিয়েছে একজন পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কমিটির এক সদস্যের। এছাড়াও একজন বিধায়কের নাম গিয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কোচবিহারের নিশীথ প্রামাণিকও চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে খবর। প্রার্থীর দৌড়ে লকেট অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত এদের মধ্য থেকেই একজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে বলে দলীয় অন্দরে জল্পনা। তবে দিল্লির নেতারা যদি এইসব নামের বাইরে নিজেদের পছন্দ মতো আর কাউকে শেষ মুহূর্তে বেছে নেয় তাহলে আলাদা বিষয়।
দলের একাংশের বক্তব্য, অতীতে প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের কৌশলগত ভুলের নজির রয়েছে। রাজ্যসভার প্রার্থী করে অনন্ত মহারাজকে নিয়েও চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পদ্ম শিবির। রাজ্য সরকারের তরফে ‘বঙ্গ বিভূষণ’ সন্মান পেয়েছেন অনন্ত মহারাজ। সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে অনন্তকে নিয়ে এখন কার্যত ছুঁচো গেলার অবস্থা বিজেপির। কাজেই এবার রাজ্যসভার প্রার্থী বাছাইয়ের প্রশ্নে এবার দিল্লি অনেক বেশি সতর্ক। শুধু তাই নয়, সংঘ ও রাজ্য বিজেপির মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করবে সংসদীয় বোর্ড। দলের একাংশ মনে করছে দলের একনিষ্ঠ ও সংঘের আস্থাভাজন কাউকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। ফলে সে ক্ষেত্রে বড় কোনও চমক নাও থাকতে পারে।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভার ৩৭ আসনে নির্বাচনের দিনক্ষণ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলার ৫ আসন-সহ মোট ১০ রাজ্যের ৩৭টি আসনে আগামী ১৬ মার্চ হবে রাজ্যসভা নির্বাচন।
E-Paper











