শিয়রে রাজ্যসভা নির্বাচন! অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি নয়, 'বাঁধা' আসনে কে হবেন পদ্ম প্রার্থী?
বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু এখনও ভোটের দিন ঘোষণা হয়নি। কিন্তু তার আগেই বাংলায় অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভোটের নির্ঘণ্ট জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। দেশজুড়ে রাজ্যসভার ৩৭টি আসনে ভোট হবে। তার মধ্যে বাংলা থেকেও রয়েছে ৫টি আসন। ফলে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে কারা যাচ্ছেন দিল্লির উচ্চকক্ষে?

বাংলা থেকে খালি হতে চলেছে মোট ৫টি আসন যার মধ্যে একটি নিশ্চিতভাবেই যাবে বিজেপির ঝুলিতে। আর এই একটি আসন ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল- বিজেপি তাদের রাজ্যসভা আসনে শেষ পর্যন্ত কাকে পাঠাতে চলেছে। বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত শুধুই সাংসদ বাছাই নয়, বরং বাংলায় দলের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির স্পষ্ট বার্তা বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। এক সময় যে ভুল সিদ্ধান্ত বিজেপিকে সংগঠনের ভিতরে ভিতরে দুর্বল করেছিল, তার পুনরাবৃত্তি হলে যে বড় মাশুল দিতে হবে, তা বুঝতে পারছে দলীয় নেতৃত্বও। তাই বিজেপির প্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
স্বাধীনতার পর বাংলা থেকে বিজেপির প্রথম রাজ্যসভা আসন পেয়েও দলের পরীক্ষিত নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে বাইরের এক মুখকে তুলে আনার সিদ্ধান্ত ছিল মারাত্মক কৌশলগত ভুল। অনন্ত মহারাজ-এর মতো বিতর্কিত ও সীমিত প্রভাবের নেতাকে সংসদে পাঠিয়ে বিজেপি কার্যত নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিকেই খাটো করেছিল। দলের কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল ক্ষোভ, আর সাধারণ ভোটারের চোখে গেরুয়া শিবির হয়ে উঠেছিল দিশাহীন। রাজ্যসভায় শমীক ভট্টাচার্যকে পাঠিয়ে এই ভুল কিছুটা হলেও সংশোধন করা হয়। দীর্ঘদিনের সংগঠক, যুক্তিনিষ্ঠ বক্তা এবং বাংলার রাজনীতির বাস্তবতা বোঝা এক নেতা হিসেবে শমীক সংসদে বিজেপির মুখ অনেকটাই উজ্জ্বল করেছেন। কেন্দ্রের নীতির পক্ষে যেমন তিনি দৃঢ়ভাবে সওয়াল করেছেন, তেমনই বাংলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতেও পিছপা হননি। তাঁর উপস্থিতিতে বিজেপি যে শুধু দিল্লিতে নয়, বাংলাতেও রাজনৈতিকভাবে আরও পরিণত হচ্ছে, এই বার্তাই পৌঁছেছে কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে।
এখন প্রশ্ন, বিজেপি কী আবার পরীক্ষা নিরীক্ষার পথে হাঁটবে, নাকি সংগঠনের ভিত মজবুত করার দিকেই যাবে? রাজ্যসভায় পাঠানো মুখটি যদি হয় আরেকটি ‘চমক’, তাহলে তার প্রভাব পড়বে সরাসরি ভোটবাক্সে। আর যদি শমীক ভট্টাচার্যের মতো অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে বিজেপি বাংলায় নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়াতে পারবে। সব মিলিয়ে বিজেপি কাকে রাজ্যসভায় পাঠায়, তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে বাংলায় দলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। এই সিদ্ধান্ত যে নিছক সাংসদ নির্বাচন নয়, বরং বাংলার ভোটের আগে এক বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যসভার এই নির্বাচন ঘিরে নিজেদের রণকৌশল ঠিক করতে বিজেপি, এখন দেখার, বাংলা থেকে একটি আসনে শেষ পর্যন্ত কে জায়গা পান।
E-Paper

