শিঁকে ছিড়ছে না পার্থের ভাগ্যে? বেহালা পশ্চিমে তৃণমূলের বাজি দাপুটে নেত্রী? জল্পনা তুঙ্গে
বেহালা পশ্চিম আসনে নতুন প্রার্থী খোঁজা শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু, গত ২৫ বছর ধরে যে কেন্দ্রে পার্থর মতো হেভিওয়েট নেতা প্রার্থী ছিলেন, সেখানে নতুন কাউকে দাঁড় করানো যে একদমই সহজ নয়, তা বুঝতে পারছেন শাসক দলের নেতারাও।
২০০১ থেকে ২০২১ সাল। বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী নিয়ে কখনও ভাবতে হয়নি তৃণমূল কংগ্রেসকে। দীর্ঘ দিন ধরে এই আসনের সঙ্গে একটি নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে ছিল। আর তিনি হলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০০১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত এই কেন্দ্রের বিধায়ক তিনি। কিন্তু ছাব্বিশের মহারণের দোরগোড়ায় এসে সেই বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী বাছাই এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শাসক দলের। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী নিয়ে নানা আলোচনা চলছে তৃণমূলের অন্দরে। জানা গিয়েছে, পার্থ ‘ক্ষত’ মেটাতে বেহালা পশ্চিম আসনে এক দাপুটে নেত্রীকে প্রার্থী করা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
২০২২ সালের জুলাইয়ে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। তিন বছরের বেশি জেলে কাটিয়ে গত বছরের নভেম্বরে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন পার্থ। কিন্তু, রাজনৈতিকভাবে তাঁর অবস্থান এখনও অনিশ্চিত। শাসকদল তাঁর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছে। গ্রেফতারির পরই পার্থকে সাসপেন্ড করেছিল তৃণমূল। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরলেও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের তরফে কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি। তবে জেল-মুক্তি হওয়ার পরেই নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিমে গিয়ে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছে পার্থ। দলনেত্রীর উপর ভরসা রাখছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এবার যে তিনি তৃণমূলের টিকিট পাবেন না, তা বোধহয় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীও বুঝতে পারছেন।
এই পরিস্থিতিতে বেহালা পশ্চিম আসনে নতুন প্রার্থী খোঁজা শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু, গত ২৫ বছর ধরে যে কেন্দ্রে পার্থর মতো হেভিওয়েট নেতা প্রার্থী ছিলেন, সেখানে নতুন কাউকে দাঁড় করানো যে একদমই সহজ নয়, তা বুঝতে পারছেন শাসক দলের নেতারাও। তার উপর আবার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মতো অভিযোগে সেখানকার বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে দলের এক জনপ্রিয় মহিলাকে মুখকেই ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি তৃণমূলের রাজ্যস্তরের দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। সেই সঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহভাজন। বেহালা পশ্চিমে ভোট বৈতরণী পেরতে তৃণমূলের ওই দাপুটে নেত্রীই তুরুপের তাস হতে পারেন বলে মনে করছেন শাসকদলের নেতৃত্ব। এই আলোচনার মধ্যে আরও একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, ছাব্বিশের নির্বাচনে বেহালা পশ্চিমে ২৫ বছর পর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বদলে নতুন মুখ তৃণমূলের প্রতীকে প্রার্থী হতে চলেছেন। প্রার্থী বদল করে তৃণমূল বেহালা পশ্চিম আসন ধরে রাখতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার। এদিকে, বেহালা পূর্ব ইতিমধ্যেই রত্না চট্টোপাধ্যায়ের দখলে। যেহেতু 'বেহালা দক্ষিণ' বলে কিছু নেই, তাই 'বেহালার উত্তর' খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
E-Paper











