RG Kar Case: নারায়ণ স্বরূপ নিগম এখনও কেন স্বাস্থ্যসচিব? আরজি করে প্রশ্ন নির্যাতিতার মা, মুখ্যমন্ত্রী বললেন...

RG Kar Case: শুক্রবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আয়োজন করা হয়েছিল এবিভিপি-র চিকিৎসক সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্মেলন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পানিহাটির বিধায়কও।

Published on: Oct 9, 2026, 23:31:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

RG Kar Case: আর জি কর-এর ঘটনায় ন্যায় বিচার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বারেবারে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ন্যায় বিচার হবেই। সেই দিকে পদক্ষেপ নিয়ে, ইতিমধ্যেই একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বদলিরও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব পদে থাকা নারায়ণ স্বরূপ নিগম আজও রয়ে গিয়েছেন একই পদে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হলেন নির্যাতিতা নিহত চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (PTI)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (PTI)

শুক্রবার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আয়োজন করা হয়েছিল এবিভিপি-র চিকিৎসক সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্মেলন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পানিহাটির বিধায়কও। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে মঞ্চ থেকে রত্না দেবনাথ সরাসরি স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, যেখান থেকে তাঁর মেয়ের দেহ উদ্ধার করা হয়, সেই সেমিনার হল সংলগ্ন শৌচাগারটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ নিগমই। আরজি করের অনুষ্ঠানে বলতে উঠে মেয়ের স্মৃতিচারণ করেন রত্না দেবনাথ বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, তা যেন আর কারও সঙ্গে কোনও দিন না হয়। ন্যায়বিচার কী ভাবে আসবে, তা আমি মুখ্যমন্ত্রীর উপর ছেড়েছি। কিন্তু স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম শৌচাগার ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি এখনও পদে বহাল রয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতরের কয়েক জন মাথা সাসপেন্ড না হলে ওখানে দুর্নীতি দূর হবে না।’

আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই যে স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তার একটি প্রতিলিপিও মুখ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন রত্না দেবনাথ। আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন নির্যাতিতার মা। অভিযোগ, সন্দীপ যখন তাঁর মেয়ের দেহের ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখনও তাঁকে মৃত বলে ঘোষণাই করা হয়নি। সিবিআইয়ের স্টেটাস রিপোর্টে এর উল্লেখ রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘স্বাস্থ্য দফতরে ভয়ের বাতাবরণ দূর করার জন্য আমার মেয়ের বিচার পাওয়া জরুরি। কয়েক জন মাথা ধরা না-পড়লে দুর্নীতি যাবে না।’ ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট রাতদখলের পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বিল্ডিংয়ে ভাঙচুর করা হয়েছিল। অভিযোগ, এখনও তা মেরামত করা হয়নি। অথচ, সেমিনার হল লাগোয়া সেই শৌচাগারের একাংশ রাতারাতি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে।

এই অভিযোগ শোনার পরেই তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণের বিষয় স্বাস্থ্য দফতর নয়, পূর্ত দফতর দেখে। তা ছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করার জন্য এখন কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘দিদি যা যা বলেছেন, আমরা সেগুলি দেখে নেব। তখন যিনি স্বাস্থ্যসচিব ছিলেন, আজও তিনি আছেন। পূর্ত দফতরকে শৌচালয় ভাঙার নির্দেশ তিনিই দিয়ে থাকলে দ্রুত ওঁকে বদলি করে দেব। কিন্তু কাজটা করেছে পূর্ত দফতর। আমি আসার পর সঙ্গে সঙ্গে তিন আইপিএস-কে সাসপেন্ড করেছি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সব ফাইল পড়ে ছিল। আমি এক দিনে সব ছাড়পত্র দিয়ে দিয়েছি। ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের জন্য আমাদের হাই কোর্ট থেকে অনুমতি নিতে হবে। না হলে করতে পারব না। নির্যাতিতার এই মামলায় আইনের পথে যতটুকু করা যাবে, আমরা করব।’

মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে খুশি নির্যাতিতার বাবা-মা। নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী প্রথম দিন থেকেই চেষ্টা করছেন। ওঁর উপর আমাদের আস্থা আছে।’ নির্যাতিতার মা পরে বলেন, ‘নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে যখন আমি মঞ্চে দেখি, কষ্ট নয়, রাগ হয়। ওঁর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সব তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে। অন্যায় যে করে, আর যে সহে, সবাই দোষী। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কথা দিয়েছেন। বিচার হবেই।’