মহারণের আগেই 'হুমকি-রাজনীতি!' BJP নেতাকে রজনীগন্ধার মালার সঙ্গে সাদা থান, নেপথ্যে কারা?

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই প্রবল চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর দেওয়া হয় থানায়।

Published on: Feb 18, 2026, 16:49:17 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ছাব্বিশের মহারণের আগেই 'হুমকি-রাজনীতি!' বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণার আগেই সব রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। এরই মাঝেই নানুরে বিজেপি নেতাকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। রাতের অন্ধকারে তাঁর বাড়ির সামনে সাদা থান, রজনীগন্ধার মালা, ধূপকাঠি ও মিষ্টি রেখে যাওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে এই সামগ্রীগুলি মৃতদেহ সৎকার ও শ্রাদ্ধের সঙ্গে যুক্ত প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল।

BJP নেতাকে রজনীগন্ধার মালার সঙ্গে সাদা থান (সৌজন্যে টুইটার)
BJP নেতাকে রজনীগন্ধার মালার সঙ্গে সাদা থান (সৌজন্যে টুইটার)

জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নানুর বিধানসভার অন্তর্গত থুপসারা অঞ্চলের কুড়গ্রাম এলাকায়। আর এই ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন বিজেপির ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি রামকৃষ্ণ মণ্ডল।প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার রাতেও খাওয়াদাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সকালে উঠে দরজা উঠতেই ভয়ংকর দৃশ্য। বিজেপি নেতা দেখেন, বাড়ির দরজার সামনে রাখা একটি সাদা থান, ফুলের মালা, মিষ্টি ও ধুপকাঠি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই প্রবল চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। খবর দেওয়া হয় থানায়। রামকৃষ্ণ মণ্ডল মনে করছেন, বিজেপি করার কারণেই তাঁকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলীয় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং মণ্ডলের সভাপতি হিসেবে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। বিষয়টি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভয় দেখানোর অংশ বলেই দাবি তাঁর।

পাশাপাশি, গোটা ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত ওই বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, 'সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তৃণমূল বুঝে গিয়েছে এবার ওদের জেতা কঠিন। তাই বিজেপি নেতাদের ভয় দেখিয়ে ঘরে বসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভয় দেখাতেই তৃণমূলের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করেছে। পরিবারের সদস্যরা স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত।' যদিও এভাবে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না বলেই সাফ জানিয়েছেন রামকৃষ্ণবাবু। এদিকে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার সবে শুরু হয়েছে। তারমধ্যেই বিরোধী দলের নেতাদের লক্ষ্য করে এই ধরনের প্রচ্ছন্ন প্রাণনাশের হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সচেতন নাগরিকরা বিষয়টি ভালোভাবে নেবেন না এবং এর প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিও জানানো হয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ দাবি করেন, নানুরে বিজেপির সংগঠন কার্যত অদৃশ্য এবং রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতেই এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে। মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি টিআরপি নেওয়ার জন্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কাজল। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে ধর্ম ও বিভাজনের রাজনীতি করে ভোটে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি। তৃণমূল নেতৃত্ব আরও দাবি করেছেষ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং সেই কারণেই সাধারণ মানুষ উন্নয়নের পক্ষে রয়েছে। পাশাপাশি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বেও সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। যদিও ঘটনার তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দিকেই এখন নজর রয়েছে প্রশাসনের।