'এসআইআর কাজের...,' পূর্ব যাদবপুরে BLO-র মৃত্যুতে পুলিশের দ্বারস্থ স্ত্রী, সুইসাইড নোট...
অশোক দাসের স্ত্রী সুদীপ্তা শুক্রবার সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের দিকে।
পূর্ব যাদবপুরে বিএলও অশোক দাসের মৃত্যুতে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করলেন মৃতের স্ত্রী সুদীপ্তা দাস। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত অতিরিক্ত চাপের কারণে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁর স্বামী। ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্তে নেমেছে পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে বিএলও অশোক দাসের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে ইএম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন। তিনি পূর্ব যাদবপুরের মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যানগরের বাসিন্দা ছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকার বহরু হাইস্কুলের সহকারি শিক্ষক ছিলেন। বাংলায় চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআরে বিএলও’র দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পূর্ব যাদবপুরের চিতকালিকাপুর এফ.পি. স্কুলের ১১০ নম্বর ভোটকেন্দ্রের বিএলও হিসাবে কর্মরত ছিলেন। নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ের পাঠদানও করতেন বলে সহকর্মীরা জানান। বৃহস্পতিবারই মৃত বিএলও’র দিদি জানিয়েছিলেন, এসআইআর সংক্রান্ত চাপ ছিল। কীভাবে মৃত্যু তা তদন্ত করে দেখা উচিত। তবে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের বিএলএ ২ রাজু বিশ্বাস বিএলও আশোক এবং তাঁর পরিবারকে হুমকি দিয়েছিলেন। সেই আতঙ্কেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। কিন্তু অশোকের স্ত্রী সুদীপ্তা শুক্রবার সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের দিকে।
এবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করলেন তাঁর স্ত্রী। শুক্রবার পূর্ব যাদবপুর থানায় জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘এই এসআইআর কাজের জন্য আমার স্বামীর মৃত্যু হয়। তাই আপনার কাছে অনুরোধ বিষয়টি তদন্ত করে বাধিত করিবেন।’ তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, ‘বিএলও-র কাজের দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রচুর মানসিক চাপ চলছিল।’ অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, অশোক দাসের ঘরের টেবিল থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানেও ‘কাজের চাপের’ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে লেখা, ‘এসআইআরের চাপ মেনে নিতে পারছি না। আমার শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি এই দুনিয়া ছেড়ে মা-বাবার কাছে চলে যাচ্ছি।’ এই আবহে মৃত বিএলওর পরিবারের খোঁজ খবর নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় নেতাদের অশোকের বাড়িতে পাঠিয়েছেন তিনি। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
এদিকে, অশোক দাসকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ খারিজ করে বৃহস্পতিবার অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘ভদ্রলোককে চিনতাম। পারিবারিক পরিচয় রয়েছে। শিক্ষক দিবসে আমরা তাঁকে সংবর্ধনাও দিয়েছি। ওঁর মৃত্যুর ঘটনায় আমি স্তম্ভিত। এই ঘটনায় রাজনীতি নেই। অহল্যানগরে ১১০ নম্বর পার্টে ৯৭৩ জন ভোটার। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগেরই এসআইআর-এর কাজ শেষ। শুনানিও সম্পন্ন হয়েছে। ফলে তাঁর উপর কোনও চাপ ছিল বলে মনে হয় না। আমার এলাকায় ৫৭টি পার্ট রয়েছে, ৫৭ জন বিএলও-র কেউ কী অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ করেছেন একজন বিজেপি কাউন্সিলর এবং বিজেপি-র এক জন বিএলএ ২। বিজেপির ওই বিএলএ ২ এলাকার মানুষ নন এবং ওই কাউন্সিলর মাঝেমধ্যেই আমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে থাকেন।’ এরমধ্যে অস্বাভাবিক এই মৃত্যুর পিছনে ঠিক কী কারণ, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক তরজার মাঝেই এখন নজর তদন্তের গতিপ্রকৃতির দিকে।
E-Paper











