ফের 'ফুল' বদল? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনুর সঙ্গে বৈঠক TMC-র মুকুটমণির, মতুয়াগড়ে নয়া সমীকরণ?

বিজেপিতে থাকাকালীন মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা মুকুটমণি অধিকারী শান্তনু ঠাকুরের অনুগামী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সেই শান্তনুর সঙ্গেই মুকুটমণি আধ ঘণ্টা বৈঠক করেন।

Published on: Mar 08, 2026 2:08 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়েছে মতুয়া ভোটারদের একাংশের। আর তারপর থেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, এবার কী তাহলে বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়া যাবে না? আগামিদিনে কী হবে তাঁদের? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতিশ্রুতি, একাধিক বার্তার পরও আশঙ্কার মেঘ কাটছে না মতুয়াদের মধ্যে থেকে। এরমধ্যে ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ? এই প্রশ্নের নেপথ্যে রয়েছে রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। বাংলার ছাব্বিশের মহারণের মুখে আবারও তাঁর দলবদলের জল্পনা শুরু হয়েছে।

মুকুটমণি অধিকারী (ফেসবুক)
মুকুটমণি অধিকারী (ফেসবুক)

একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাণাঘাট দক্ষিণে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন মুকুটমণি অধিকারী। জিতেও ছিলেন। এরপর ২০২৪ সালের মার্চের শুরুতে ফুল বদল করে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। লোকসভা নির্বাচনে রাণাঘাটে তৃণমূল প্রার্থী করা হয় তাঁকে। তবে নির্বাচনে হেরে যান তিনি। শেষমেশ তৃণমূলের টিকিটে রাণাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হন। সেই মুকুটমণি অধিকারী ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কী ফের ফুল বদল করতে চলেছেন? আর এই প্রশ্নের নেপথ্যে রয়েছে একটি 'বৈঠক।' শনিবার সন্ধ্যাবেলায় আচমকাই ঠাকুরনগরে ঠাকুরবাড়িতে এসে বনগাঁর বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। সূত্রের খবর, সেই বৈঠক হয়েছে রুদ্ধদ্বার। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে জল্পনা, তবে কী ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে আবার নিজের পুরনো দল বিজেপি-তে ফিরছেন মুকুটমণি? একই সঙ্গে ঠাকুরবাড়ির আর এক সদস্য তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরের মন্তব্যে সেই জল্পনা আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।

বিজেপিতে থাকাকালীন মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতা মুকুটমণি অধিকারী শান্তনু ঠাকুরের অনুগামী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সেই শান্তনুর সঙ্গেই মুকুটমণি আধ ঘণ্টা বৈঠক করেন। তবে বৈঠক থেকে বেরিয়ে মুকুটমনি অধিকারী দাবি করেন, তিনি নতুন গাড়ি কিনেছেন। ঠাকুরবাড়িতে নতুন গাড়িতে পুজো দিতে এসেছিলেন। সেখানেই শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে জল্পনাও খারিজ করে দেন তিনি। এমনকী জানান, ঠাকুরবাড়ির সদস্য তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরের বাড়িতেও যান তিনি। বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরের সঙ্গেও দেখা করেছেন। তৃণমূল বিধায়কের কথায়, 'তিন জেনারেশন ধরে আমরা ঠাকুরবাড়িতে আসছি। এর আগেও একাধিকবার এসেছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।' তবে ভোটের আগে দলবদল প্রসঙ্গে মুকুটমনির দাবি, 'এটা সবটাই সংবাদমাধ্যমের তৈরি। ভোটের সময় কারোর সঙ্গে দেখা হবে না। তাই সাক্ষাৎ করে গেলাম।'

অন্যদিকে মুকুটমণির সঙ্গে বৈঠক নিয়ে শান্তনু ঠাকুরও বলেন, 'এতে কোনও রাজনীতির বিষয় নেই। গাড়িতে পুজো দিতে এসে আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। কোনও রাজনীতির কথা হয়নি। দলে ফেরা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।' শান্তনু সাফ বলেন, ‘ঠাকুরবাড়ি সকলের জন্য খোলা। কেউ এলে আমি ফেরাতে পারি না। এখানে রাজনীতির কোনও গন্ধ নেই।’ কিন্তু, গোল বাধে অন্য জায়গায়। মুকুটমণি বলেছেন, তিনি মমতাবালা ঠাকুরের বাড়ি গিয়েছেন। কিন্তু মমতাবালার মেয়ে তথা বাগদার তৃণমূল বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুর বলেন, 'আমাদের বাড়িতে আসেননি মুকুটমণি অধিকারী। এটা ঠাকুরবাড়ি। যে কেউ আসতে পারেন। কিন্তু কেন মিথ্যা কথা বললেন, এটা বুঝতে পারছি না।' মুকুটমণি অধিকারী দল পরিবর্তন করতে পারেন কিনা, এ প্রসঙ্গে মধুপর্ণা বলেন, 'তিনি বিজেপিতে যাবেন কিনা, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।'

এরপরেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল বিধায়কের বিজেপি সাংসদের সঙ্গে এই একান্ত বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আগামিদিনে এই সাক্ষাৎ বড় কোনও রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে ভোটের আগে দলবদল বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। কে কোন শিবির বদল করছে, সেদিকেই নজর থাকে সকলের।