Calcutta High Court: ১৯৬৬ সালে জন্ম,মাধ্যমিক পাশ ১৯৬৫-এ!নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়ন কী বৈধ?রায় স্থগিত হাইকোর্টে
Nandigram BJP Candidate: আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। সেখানে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রীর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ।
Nandigram BJP Candidate: ১৯৬৬ সালে জন্ম। মাধ্যমিক পাশ করেছেন তার ঠিক এক বছর আগে ১৯৬৫ সালে। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হলফনামা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে কংগ্রেস। কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের হয়, শুক্রবার তার শুনানি শেষ হয়েছে। রায়দান আপাতত স্থগিত রেখেছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাস।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে আগামী উপনির্বাচনের জন্য নন্দীগ্রামে প্রার্থী করেছে বিজেপি। চন্দ্রনাথ রথ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দু’দিনের মাথায় খুন হন। নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তাঁর মা। কিন্তু তাঁর নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাছে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে হাসিরানি যে মাধ্যমিকের শংসাপত্র জমা দিয়েছেন, তাতে হাসিরানি রথের জন্ম সাল মোটামুটি ১৯৬৫। আবার হলফনামাতে উল্লেখ করেছেন, ১৯৬৫ সালে চৌখালী গঙ্গা পদ্মা মিলন কন্যা বিদ্যাপীঠ স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, জন্মেই কী করে বিজেপি প্রার্থী দশম শ্রেণির ছাত্রী হলেন? বিতর্ক এখানেই শেষ নয়, ওই স্কুল ১৯৬৩ সালে পথ চলা শুরু করে। ১৯৬৩ সালে ওই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করানো হত। ১৯৭৩ সালের দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানোর সরকারি অনুমোদন পায় ওই স্কুল। তা নিয়েই উচ্চ আদালতে মামলা হয়েছে।
মামলাকারীর বক্তব্য, হলফনামা অনুযায়ী চৌখালি গঙ্গাখালি বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছেন হাসিরানি রথ। হয় তিনি নিজের বয়স নিয়ে অসত্য বলছেন, অথবা মাধ্যমিকের এই শংসাপত্রটি জাল। দু’টি একসঙ্গে সঠিক হতে পারে না। তাঁর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন জানিয়েছে কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে মিথ্যে তথ্য দেওয়া হলে, মনোনয়ন বাতিলের অধিকার থাকে রিটার্নিং অফিসারের। সেক্ষেত্রে রিটার্নিং অফিসার কেন তা করেননি, তা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেসের আইনজীবী। পাল্টা কমিশনের বক্তব্য হল, মনোনয়ন স্ক্রুটিনির সময় কেন অভিযোগ করা হয়নি? জনস্বার্থ মামলা হলে এই প্রশ্ন তোলা যেত। কিন্তু মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় যেহেতু কোনও আপত্তি আসেনি, তাই এখন কোনও পদক্ষেপ করা যায় না। মাধ্যমিকের শংসাপত্র জাল কি না, তা প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের জোরালো কারণ হতে পারে না বলেও কমিশনের আইনজীবী দাবি করেছেন।
হাসিরানি রথের আইনজীবী জয়দীপ কর বলেন, মামলাকারীদের অভিযোগ হল মনোনয়নপত্র সঠিক নয়। কিন্তু যখন আপত্তি জানানোর প্রয়োজন ছিল, তখন তা করা হয়নি কেন? তিনি আরও বলেন, কেউ কবে স্কুল ফাইনাল পাশ করেছেন, সেই তারিখে ভুল থাকলেই মনোনয়ন বাতিল করা যায় না। এর পাল্টা কংগ্রেসের পক্ষে আইনজীবী রিজু ঘোষাল বলেন, তাঁরা একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল। প্রার্থীর দেওয়া তথ্য অসংগতিপূর্ণ কেন, তা ব্যক্তিগতভাবে জানতে চাওয়া হয়নি। তাঁরা শুধু বয়সের বিষয়টি তুলে ধরেননি, বরং মনোনয়নপত্রে কোনও তথ্য ভুল রয়েছে কিনা, সেই বিষয়টি যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও সব পক্ষের বক্তব্যই শুনেছেন। শুনানি শেষে রায় স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে লড়েন শুভেন্দু অধিকারী। দু’টি কেন্দ্রেই জয়ী হন তিনি। স্বাভাবিকভাবে তাই একটি আসন ছাড়ার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। সেখানে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রীর নিহত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। ওই কেন্দ্রের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের প্রার্থী ইতিমধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে পুরনো মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ৯ অক্টোবর নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে।
E-Paper

