Chingrighata Metro Work Start: সরকার বদলেই কাটল জট! শুক্রবার থেকেই শুরু চিংড়িহাটা মেট্রোর কাজ, কবে থেকে চালু হবে?
Chingrighata Metro Work Start: চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজ নিয়ে জলঘোলার অন্ত ছিল না। প্রায় ১৫ মাস আটকে ছিল চিংড়িঘাটায় মেট্রো লাইনের মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশের সংযুক্তিকরণ। যা নিয়ে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্বতন রাজ্য সরকারের টানাপোড়েন চলছিল দীর্ঘদিন ধরে।
Chingrighata Metro Work Start: দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান। শহর কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় চিংড়িঘাটায় অবশেষে শুরু হতে চলেছে থমকে থাকা মেট্রোর কাজ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই অংশের লাইন যুক্ত না হওয়ায় নিউ গড়িয়া–এয়ারপোর্ট মেট্রো করিডরের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। কেন্দ্র ও পূর্বতন রাজ্য সরকারের টানাপড়েন, পুলিশের 'না', এমনকী আদালতের মামলার জট- সব মিলিয়ে প্রকল্পটি বারবার থমকে গিয়েছিল। অবশেষে সরকার বদলের পর শুরু হচ্ছে থমকে যাওয়া সেই মেট্রোর কাজ। তবে এই কাজের জেরে যান চলাচলে কিছুটা রদবদল করা হচ্ছে। অফিসযাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর এটাই যে, ৩৬৬ মিটারের এই বকেয়া অংশটির নির্মাণ শেষ হলেই গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর (সেক্টর ফাইভ হয়ে) যাতায়াত হবে আরও দ্রুত। রাজনৈতিক টানাপড়েন আর আইনি জট কাটিয়ে অবশেষে সবুজ সংকেত মেলায় খুশির হাওয়া নিত্যযাত্রীদের মনে।

কবে থেকে শুরু চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ?
মেট্রো রেল সূত্রে খবর, আগামী ১৫ মে, শুক্রবার রাত থেকে শুরু হচ্ছে চিংড়িঘাটায় নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো প্রকল্পের থমকে থাকা কাজ। তবে ব্যস্ত ইএম বাইপাসের যানজটের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার, শনিবার এবং রবিবার রাতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত এই বিধি কার্যকর থাকবে। এছাড়া, রাতের দিকে চিংড়িঘাটা উড়ালপুল ব্যবহার করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। তবে দিনের বেলায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তৎপর প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সব পরিকল্পনা মতো এগোলে পুজো বা বড়দিন নাগাদ মেট্রো পরিষেবা শুরু হয়ে যেতে পারে।
ঘটনাক্রম
চিংড়িঘাটার মেট্রোর কাজ নিয়ে জলঘোলার অন্ত ছিল না। প্রায় ১৫ মাস আটকে ছিল চিংড়িঘাটায় মেট্রো লাইনের মাত্র ৩৬৬ মিটার অংশের সংযুক্তিকরণ। যা নিয়ে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্বতন রাজ্য সরকারের টানাপোড়েন চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। অভিযোগ, সরকারের সঙ্গে টানাপড়েনের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ ঝুলে রয়েছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাজ্য সরকারের দীর্ঘদিনের জটিলতা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। রাজ্য সরকার ওই অংশে কাজের জন্য বাইপাসের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার অনুমতি দিচ্ছিল না। মামলা কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছয়। সে সময় উচ্চ আদালত তীব্র ভর্ৎসনা করে জানিয়েছিল, উন্নয়নের পথে বাধা হওয়া কাম্য নয়। উৎসব নাকি যোগাযোগ ব্যবস্থা - কোনটা আগে, সেই প্রশ্নও তুলেছিল আদালত। শেষ পর্যন্ত সরকার পরিবর্তনের পর জট কাটল এবং পুজোর আগেই এই রুটে পরিষেবা চালুর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এই মেট্রো চালু হলে কারা সুবিধা পাবেন?
এই রুটটি খুলে গেলে কলকাতা ও শহরতলির পরিবহণ মানচিত্রে আমূল বদল আসবে:
১. দ্রুত যাতায়াত: কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) থেকে সরাসরি চিংড়িঘাটা হয়ে দ্রুত সেক্টর ফাইভ পৌঁছনো যাবে।
২. বিমানবন্দর সংযোগ: চিংড়িঘাটা, সল্টলেক এবং নিউ টাউন হয়ে মেট্রো সরাসরি পৌঁছে যাবে কলকাতা বিমানবন্দরে।
৩. যানজট মুক্তি: চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের দমবন্ধ করা ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়েই যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।
৪. ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা: কবি সুভাষ স্টেশনে ব্লু লাইন (দক্ষিণেশ্বর-কবি সুভাষ) এবং সেক্টর ফাইভের কাছে গ্রিন লাইনের সঙ্গে এই রুটটির সংযোগ তৈরি হবে।
৫. বেলেঘাটার সুবিধা: বর্তমানে মেট্রো বেলেঘাটা পর্যন্ত চলছে। চিংড়িঘাটার কাজ শেষ হলে বেলেঘাটা ও তার পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জন্য যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে।
সব মিলিয়ে, রাজ্যে পালাবদল হতেই কলকাতার মেট্রো প্রকল্পে ফিরছে চেনা গতি। দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে চিংড়িঘাটার কাজ শুরু হলে শহরের পরিবহনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে, এই আশা এখন কর্তৃপক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিক- সবারই।
E-Paper

