Subrata Gupta: বাংলার ভোটে 'ম্যাচ-সেরা' থেকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা!দুঁদে আমলা সুব্রত গুপ্তর পরিচয় জানলে অবাক হবেন আপনিও
Subrata Gupta: দীর্ঘ চাকরিজীবনে একাধিক দফতরে কাজ করেছেন সুব্রত গুপ্ত। সামলেছেন সচিব, প্রধান সচিব এবং অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্ব।
Subrata Gupta: ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তাঁর প্রশংসা করে বিভিন্ন মহল। এবার বাংলায় নতুন সরকার গঠন হতেই বড় দায়িত্ব পেলেন সুব্রত গুপ্ত। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করল রাজ্য সরকার। এবার দেখা নেওয়া যাক কী ভাবে দুঁদে আমলা হয়ে উঠলেন ক্ষেপণাস্ত্র গবেষক সুব্রত গুপ্ত।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) থেকে শুরু করে রাজ্যে দু’দফায় হওয়া বিধানসভা নির্বাচন। ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস সুব্রত গুপ্তর হাত ধরে গত ছ’মাসে পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে বাংলার ‘ভোট সংস্কৃতি।’ বাংলায় ভোট-পর্ব অবাধ ও সুষ্ঠু করতে বাংলায় মাটি কামড়ে পড়েছিলেন তিনি। ফলে এবার বাংলায় রক্তপাতহীন ভোট হয়েছে। ভোট-পর্বে কারও মৃত্যু হয়নি। ভোট লুঠের কোনও অভিযোগ উঠেনি। শুধু তা-ই নয়, ভোটদানের হার ৯০ শতাংশের বেশি হওয়ায় সারা দেশে রেকর্ড গড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সেই ‘সেনাপতি’ তথা দুঁদে বাঙালি আমলাকে এবার নিজের উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
ক্ষেপণাস্ত্র গবেষক থেকে আমলা
আইআইটি খড়্গপুরের ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তনী সুব্রত গুপ্ত ইউপিএসসি পরীক্ষায় গোটা দেশে চতুর্থ স্থান পেয়েছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে পিএইচডি করতে করতেই ওই পরীক্ষা দেন তিনি। ফলে কিছুটা থমকে যায় তাঁর গবেষণার কাজ। তবে হাল ছাড়েননি এই দুঁদে বাঙালি আমলা। অতিরিক্ত জেলাশাসক থাকাকালীন পিএইচডি শেষ করেন তিনি। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তথা প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের নেতৃত্ব একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। অর্থ দফতরের যুগ্ম সচিব থাকাকালীন বাজেট ব্যবস্থায় আমূল বদল আনেন সুব্রত। তাঁর নেতৃত্বে হাতে লেখার পরিবর্তে শুরু হয় কম্পিউটার পরিচালিত বাজেট। এছাড়া রাজ্যের শিল্পোন্নয়ন নিগমের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। তাঁর আমলে বাংলার বিভিন্ন শিল্পতালুক এবং অন্ডাল বিমাননগরীর জমি অধিগ্রহণ করতে সক্ষম হয় রাজ্য প্রশাসন। এছাড়া ‘ইস্ট ওয়েস্ট’ মেট্রো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গোড়ার দিকের অন্যতম রূপকার ছিলেন এই বাঙালি আমলা।
সচিব, প্রধান সচিব ও অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্ব
দীর্ঘ চাকরিজীবনে একাধিক দফতরে কাজ করেছেন সুব্রত গুপ্ত। সামলেছেন সচিব, প্রধান সচিব এবং অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্ব। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে রাজ্য সরকারের খুব একটা ‘সুনজরে’ ছিলেন না তিনি। ফলে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ দফতরে কাটাতে হয় তাঁকে। অবসরের ছ’মাস আগে কেন্দ্রের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রকের সচিব হন তিনি। তবে ২০২৫ সালে কর্মজীবন থেকে অবসর নেন সুব্রত গুপ্ত। এরপর গত অক্টোবরে নির্বাচন কমিশন এ রাজ্যে শুরু করে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন)। ওই সময় সুব্রতকে বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করে তারা। অচিরেই কমিশনের চোখ-কান হয়ে ওঠেন তিনি। যদিও ওই সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল।
বিশেষ পর্যবেক্ষক
ঘাসফুল শিবির সুব্রত গুপ্তের কর্মদক্ষতা নিয়ে ‘বাঁকা’ কথা বললেও তাঁকে পদ থেকে সরায়নি নির্বাচন কমিশন। উল্টে এসআইআরের কাজে বিশেষ রোল পর্যবেক্ষক হিসাবে তাঁর ভূমিকায় যথেষ্ট সন্তুষ্ট ছিল কমিশন। ফলে রাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিশেষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পান তিনি। তাঁর নেতৃত্বে সেখানেও নজরকাড়া সাফল্য পেয়েছে কমিশন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভোটের প্রচার চলাকালীন নাম না করে সুব্রত গুপ্তকে বেশ কয়েক বার খোঁচা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল ‘সুপ্রিমো’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, আদালতে এসআইআর মামলাতেও তাঁর ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্য সরকার। ভোটপর্বেও তাঁকে নিয়ে নানা অভিযোগ তোলে ঘাসফুল শিবির। এর কোনও রকম উত্তর না দিয়ে কর্তব্যে অবিচল ছিলেন ৯০-এর দশকের দুঁদে বাঙালি আমলা।
মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা
বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসাবে নাম ঘোষণার পর সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন সুব্রত গুপ্ত। তিনি বলেন, ‘এটা একটা বিরাট বড় দায়িত্ব। আর তাই সকলের সহযোগিতা চাইব। বাংলার মানুষের আশীর্বাদ চাইব।’ উপদেষ্টা হিসাবে কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দিতে চলেছেন, তা-ও স্পষ্ট করেন তিনি। ১০ মে, রবিবার থেকেই নতুন পদে কাজ শুরু করে দিয়েছেন খড়্গপুর আইআইটির প্রাক্তনী। সুব্রত জানিয়েছেন কর্মসংস্থান, নারী নিরাপত্তা, মহিলাদের ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা, উপদেষ্টা হিসাবে এই পাঁচটি বিষয়ের দিকে সর্বাপেক্ষা নজর থাকবে তাঁর। শিল্পায়ন সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এই রাজ্যে শিল্প আসতে সময় লাগবে। সেটা রাতারাতি করা সম্ভব নয়। যদিও কাজটা এখনই শুরু করতে হবে। গত শতাব্দীর ৬০-এর দশকে অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে বাংলা যেখানে ছিল, সেখানে ফিরে যেতে চাই।’
বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
অতীতে তৃণমূল আমলে অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের পুনর্বহাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপি। সুব্রতের নিয়োগের পর একই কথা জিজ্ঞাসা করেছে ঘাসফুল শিবির। তা হলে কী তৃণমূলের রীতি বজায় রেখেই অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্বহাল চালিয়ে যাবে রাজ্য সরকার? শপথ নেওয়ার পর সরাসরি এর জবাব দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সুব্রত গুপ্তের নিয়োগ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যাঁর বাংলার অত্যন্ত মেধাবী আইএএস অফিসার, তাঁদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যবহার করেননি।’ এ ব্যাপারে সঞ্জয় মিত্র এবং মলয় দে-র উদাহরণ দেন তিনি। পরে তিনি আরও বলেন, ‘সুব্রত গুপ্তের মতো লোকদের সাহায্য নিতে হবে। কারণ, আমরা নীতি নির্ধারক, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেব। সেটা কার্যকর করার ব্যাপারটা বুঝবেন আমলারা।’
E-Paper

