Shah Rukh Khan Heroine: শটের মাঝে শাহরুখের মুখে সজোরে ঘুষি! কোন শর্তের জন্য় অভিনয় কেরিয়ার শেষ হয় জোশ নায়িকার?

‘জোশ’ ছবির শুটিংয়ে নিখুঁত শট দেওয়ার তাগিদে থাপ্পড়ের বদলে কিং খানকে সজোরে ঘুষি মেরে বসেছিলেন প্রিয়া গিল। কোথায় হারিয়ে গেলেন শাহরুখের নায়িকা?

Published on: Jun 12, 2026, 14:23:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শাহরুখ খান, ঐশ্বর্য রাই, চন্দ্রচূড় সিং এবং প্রিয়া গিল অভিনীত ২০০০ সালের সুপারহিট ছবি ‘জোশ’ (Josh) নিশ্চয়ই সিনেমা প্রেমীদের মনে আছে? ছবিতে শাহরুখের ‘লাভ ইন্টারেস্ট’ অর্থাৎ প্রেমিকার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন মিষ্টি অভিনেত্রী প্রিয়া গিল (Priya Gill)। দীর্ঘ বহু বছর ধরে লাইমলাইটের আড়ালে থাকা প্রিয়াকে নিয়ে সম্প্রতি এক পুরনো কিন্তু অত্যন্ত মজাদার ঘটনা সমাজমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। এই ছবির একটি গানের শুটিং করতে গিয়ে প্রিয়া নাকি স্বয়ং কিং খানকে সজোরে ঘুষি মেরেছিলেন, যা ছিল তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম ‘লজ্জাজনক’ ঘটনা। শুধু তাই নয়, কোন বিশেষ শর্তের কারণে তিনি বলিউড ছাড়লেন, তাও জানা গিয়েছে।

শটের মাঝে শাহরুখের মুখে সজোরে ঘুষি! কোন শর্তের জন্য় অভিনয় কেরিয়ার শেষ হয় প্রিয়ার
শটের মাঝে শাহরুখের মুখে সজোরে ঘুষি! কোন শর্তের জন্য় অভিনয় কেরিয়ার শেষ হয় প্রিয়ার

থাপ্পড় মারতে গিয়ে শাহরুখের মুখে ঘুষি!

এক পুরনো সাক্ষাৎকারে প্রিয়া গিল নিজেই এই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে জানিয়েছিলেন যে, ‘জোশ’ ছবির একটি গানের দৃশ্যে চিত্রনাট্য অনুযায়ী শাহরুখ খানকে একটি থাপ্পড় মারার কথা ছিল প্রিয়ার। কিন্তু বারবার রিটেক নেওয়া সত্ত্বেও পরিচালক মনসুর খানের (Mansoor Khan) মনের মতো হচ্ছিল না সেই শট।

সেই অদ্ভুত পরিস্থিতির কথা বর্ণনা করে প্রিয়া বলেছিলেন, ''আমি আমার ফিল্মি কেরিয়ারে সবচেয়ে লজ্জাজনক যা করেছি, তা হলো শাহরুখ খানকে ওভাবে আঘাত করা। ছবিতে একটা গানের সিকোয়েন্সে আমাকে ওকে থাপ্পড় মারতে হতো। কিন্তু পরিচালক মনসুর বারবার আমাকে বলছিলেন— ‘প্রিয়া, এটা দেখে মনেই হচ্ছে না যে কোনও মেয়ে রেগে গিয়ে থাপ্পড় মারছে।’ আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। এদিকে শাহরুখও আমাকে অনবরত উৎসাহ দিয়ে বলছিল— ‘মারো আমাকে... মারো।’ ওদিক থেকে মনসুরও চেঁচাচ্ছিলেন— ‘মারো ওকে!’ এরপরই আমি আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে থাপ্পড়ের বদলে সজোরে একটা ঘুষি মেরে বসলাম শাহরুখকে! ওহ মাই গড, আমি সেই দিনটা কোনওদিন ভুলব না।'

প্রিয়া জানান, ওই কাণ্ডের পর গোটা সেটে এক মুহূর্তের জন্য শ্মশানের নীরবতা নেমে এসেছিল। ক্যামেরা সচল থাকলেও সবাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। পরে ক্যামেরাম্যান মজা করে প্রিয়াকে বলেছিলেন, ‘মেয়েরা এবার তোমাকে চরম ঘৃণা করতে চলেছে, কারণ তুমি শাহরুখ খানকে মেরেছ!’

কঠিন ‘শর্ত’-এর কারণে কেরিয়ার শেষ হলো প্রিয়ার

১৯৯৬ সালে আরশাদ ওয়ার্সি ও চন্দ্রচূড় সিংয়ের বিপরীতে ‘তেরে মেরে সপনে’ ছবি দিয়ে বলিউডে ডেবিউ করেছিলেন প্রিয়া গিল। তবে তিনি দেশজোড়া তুমুল জনপ্রিয়তা পান ২০০১ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘তুম বিন’ (Tum Bin)-এর মাধ্যমে। এই ছবির গান এবং প্রিয়ার সরল অভিনয় দর্শকদের মন জয় করেছিল।

তবে ‘জোশ’ এবং ‘উই আর প্রাউড টু বি ইন্ডিয়ান’-এর মতো ছবির পর প্রিয়ার বেশ কিছু সিনেমা পর পর বক্স অফিসে ফ্লপ হতে শুরু করে। সেই সময় তাঁর কাছে বেশ কিছু ছবির অফার এলেও, সেগুলোর ক্ষেত্রে পরিচালকদের দাবি ছিল অন্যরকম। ছবিগুলোতে প্রিয়াকে বোল্ড দৃশ্যে অভিনয় করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু প্রিয়া নিজের আদর্শে অটল ছিলেন। তাঁর স্পষ্ট শর্ত ছিল— তিনি পর্দায় কোনওভাবেই খোলামেলা দৃশ্যে অভিনয় করবেন না। নিজের এই এক শর্তের কারণে ধীরে ধীরে তাঁর কাছে ছবির অফার আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রিয়াও গ্ল্যামার দুনিয়ার ইঁদুরদৌড় থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বর্তমানে কোথায় আছেন প্রিয়া গিল?

লাইমলাইট থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর প্রিয়া নিজের ব্যক্তিগত জীবনকেও একেবারে আড়ালে চলে নিয়ে যান। বিনোদন জগতের বিভিন্ন সুত্র অনুযায়ী, বলিউড ছাড়ার পর প্রিয়া বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে স্বামী ও পরিবার নিয়ে ডেনমার্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। রূপোলী পর্দার চাকচিক্য ছেড়ে এখন সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত সুখী জীবন কাটাচ্ছেন নব্বইয়ের দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।

প্রিয়া বলেছিলেন যে অনেক রিটেক সত্ত্বেও, পরিচালক তাকে এবং ইনটেনসিটিকে শারুখকে চড় মারতে বলতেন। প্রিয়া বলেছিলেন, 'আমাকে একটি গানে ওকে থাপ্পড় মারতে হয়েছিল এবং মনসুর আমাকে বলতে থাকেন প্রিয়া, দেখে মনে হচ্ছে না যে কোনও মেয়ে রাগে চড় মারছে। আমি বলতে থাকল ঠিক আছে, আমি চেষ্টা করছি এবং শাহরুখ আমাকে মারতে বলেছিল। হিট। মনসুর বলতে থাকল, 'ওকে মেরে ফেল, মেরে ফেল। তখন আমি তাকে জোরে ঘুষি মারলাম। ওহ মাই গড, আমি এটা কখনো ভুলব না। মেয়েরা তোমাকে ঘৃণা করবে বলে প্রিয়াকে বলা হয়েছিল, প্রিয়া আরও বলেন, 'এর পরে নীরবতা ছিল। সবাই চুপ করে রইল এবং ক্যামেরা চলতে থাকে। আমি ভেবেছিলাম প্রতিক্রিয়ার কারণে আমি কাটটি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। আমার মনে আছে ক্যামেরাম্যান আমাকে বলেছিলেন যে আপনি শাহরুখকে আঘাত করার কারণে মেয়েরা আপনাকে ঘৃণা করবে। ’

প্রিয়া তার কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তেরে মেরে স্বপ্না চলচ্চিত্র দিয়ে যা 1996 সালে মুক্তি পেয়েছিল। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরশাদ ওয়ারসি ও চন্দ্রচূড় সিং। তবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন 'তুম বিন' ছবির মাধ্যমে। এর পরে, প্রিয়া জোশ করেছিলেন। কিন্তু তারপরও ফ্লপ হতে থাকে প্রিয়ার কয়েকটি ছবি। প্রিয়া তখন সাহসী দৃশ্যের ছবির জন্য প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু অভিনেত্রী তা করতে অস্বীকার করেছিলেন। তাঁর শর্ত ছিল যে তিনি কখনই সাহসী দৃশ্য দেবেন না এবং এটি করার মাধ্যমে তিনি কম চলচ্চিত্রের প্রস্তাব পেয়েছিলেন এবং তারপরে তিনি লাইমলাইটের জগত থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন।

কথিত আছে যে প্রিয়া আবার বিয়ে করেন এবং বিয়ের পরে তিনি ডেনমার্কে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More