2025 Year Ender Tollywood: ২০২৫-র শেষে এসেও ভাঙন! নীল-তৃণা, সৌরসেনী-নিখিল, অনুষা-আদিত্য, ঘর ভাঙল আর কাদের?
কারও প্রেম ১১ বছরের, কারও ২ সন্তান। টলিউডের এই তারকারা চলতি বছরে বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছন। দেখে নিন তারা রয়েছে সেই তালিকায়।
দেখতে দেখতে শেষের পথে ২০২৫ সাল। নতুন বছরকে দু হাত খুলে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত সকলে। তবে তার আগে একবার ফিরে দেখা। চলতি বছরেও একগুচ্ছ টলিউড তারকার ঘর ভাঙার খবর মিলেছে। তার মধ্যে তো এমন কিছু নামও আছে যারা বিয়ের আগে প্রায় ১১ বছর প্রেম করেছিলেন। তাঁদের পাওয়ার কাপল আখ্যা দিয়েছিল তাঁদের অনুরাগীরা। চলুন এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক সেই তালিকা-

নীল ভট্টাচার্য ও তৃণা সাহা:
টলিউডের জনপ্রিয় জুটি নীল ভট্টাচার্য ও তৃণা সাহা ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেন। যাতে সামিল হয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে ২০২৫ সালের শুরু থেকেই চর্চা যে, দুজনে নাকি ‘চুক্তির বিয়ে’ করেছিলেন। আপাতত খবর ইতিমধ্যেই আইনিভাবে ডিভোর্সের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন ‘তৃণীল’ জুটি।

অঙ্কিতা চক্রবর্তী ও প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
২০২২ সালে বন্ধুদের সঙ্গে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে বিয়ে করেছিলেন অঙ্কিতা চক্রবর্তী ও প্রান্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈদিক মতে বিয়ে সেরেছিলেন। তবে তিন বছর পর ভাঙছে সেই বিয়ে। কাজের সূত্রে মুম্বইতে রয়েছেন অনিন্দিতা বহুদিন ধরে। এদিকে প্রান্তিক কলকাতায়। দুজনের কেউই আর লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপ টেনে নিয়ে যেতে চান না।

সৌরসেনী-নিখিল:
২০২৫ সালের শুরুতেই প্রেমে সিলমোহর দিয়েছিলেন নিখিল ও সৌরসেনি। যদিও দুজনে জমিয়ে প্রেমটা করছিলেন বহুবছর ধরে। তবে প্রেম-ঘোষণার পর কয়েক মাস কাটতে না কাটতেই দুজনের বিচ্ছেদের খবর আসতে শুরু করে। কদিন আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিনেত্রী সৌরসেনীকে বলতে শোনা যায়, ‘এমনিতে শীতে বয়ফ্রেন্ডের হুডি পরে কাটতাম। তবে এবার নিজেকে কিনতে হবে’!

সুদীপ-পৃথা:
অভিনেতা সুদীপ মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী পৃথা চক্রবর্তীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, যা পৃথাই আচমকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেছিলেন। তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। সুদীপ প্রথমে ডিভোর্সের খবরকে ‘মস্করা’ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। যদিও ডিভোর্সের পরেও, দুই সন্তানের দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করে চলেছেন। সঙ্গে আবার মাঝেমাঝে একত্রে কোনো পার্টি বা প্রিমিয়ারে হাজির হয়ে সকলকে চমকে দেন! উসকে দেন ভাঙা বিয়ে জোড়া লাগার সম্ভাবনা।

আদিত্য-অনুষা:
২০২৬ সালের শুরুতে বিয়ে পিঁড়িতে বসার কথা ছিল আদিত্য সেনগুপ্ত ও অনুষা বিশ্বনাথনের। তবে একাধিক সূত্র সিলমোহর দিয়েছেন যে, বিয়েটা হচ্ছে না! খবর, বিয়েটা ভেঙেছে পাত্রী অর্থাৎ অনুষা নিজেই। আর যার ছাপ পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। দুজনের একসঙ্গে তোলা একটাও ছবি নেই আদিত্যর প্রোফাইলে। তবে দুজনের বিচ্ছেদ কেন, তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ কোনো পক্ষই।

শুভদীপ-শ্রীপর্ণা:
বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ডাক্তার বর শুভদীপ ভট্টাচার্যর সঙ্গে ডিভোর্সের খবর আসে অভিনেত্রী শ্রীপর্ণা রায়ের। ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। একটি অনলাইন ম্যাট্রিমনি সাইটের অ্যাপের মাধ্যমে আলাপ হয়। হাওড়ার বালির মেয়ে, বিয়ের পর সংসার পাতেন চন্দননগরে। ডিভোর্স নিয়ে কথা বলতে চাননি শ্রীপর্ণা। এক সংবাদমাধ্যমকে অভিনেত্রী জানান, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। তাই এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’

অনিন্দ্য-মধুজা:
বাংলা ব্যান্ডের গায়ক ও সুরকার অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী মধুজা বন্দ্যোপাধ্যায় বিবাহবিচ্ছেদ ঘোষণা করেন ২০২৪ সালে। তবে ডিভোর্সের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয় ২০৫-এর ফেব্রুয়ারি-মার্চে।

সুস্মিতা-সব্যসাচী:
জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুস্মিতা রায় এবং সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তী-এর বিচ্ছেদও ২০২৫ সালে ছিল খবরে। বউয়ের জন্মদিনের দিনই পোস্ট করে, আবাদা হওয়ার খবর শেয়ার করে নেন সব্যসাচী। শত চেষ্টা করেও একে-অপরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না। তাই আবাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত বলেই জানিয়েছেন দুজনে।

এখনও বছর শেষ হতে ২২ দিন বাকি। নতুন করে আর কোনো দুঃসংবাদ আসবে না তো! কোনো নতুন ‘পাওয়ার কাপল’-এর নাম যোগ হবে না তো!
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


