Indian Comedian in Dubai Jail: গুগল ম্য়াপ নিয়ে ঠাট্টার জেরে দুবাইয়ে ৪৭ দিন জেলবন্দি! ভারতে ফিরে মুখ খুলল কমেডিয়ান
কার্যত বিনা কোনও অপরাধেই ৪৭ দিন দুবাইয়ের জেলে দুর্বিসহ জীবন কাটিয়েছেন ভারতীয় কৌতুক শিল্পী যশ ভারদ্বাজ। কী ঘটেছে?
জা দুবাই পুলিশের হেডকোয়ার্টার্স থেকে ডাক! আর তারপরই ৪৭ দিনের জন্য গারদের অন্ধকার কুঠুরি! স্রেফ একটা সাধারণ কমেডি রিল বা রসাত্মক ভিডিও বানানোর মাশুল যে এভাবে দিতে হবে, তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেননি জনপ্রিয় স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান যশ ভরদ্বাজ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দুবাইয়ের গুগল ম্যাপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠাট্টা করার অপরাধে ওনাকে প্রায় দেড় মাস দুবাইয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। অবশেষে সেখান থেকে ওনাকে ভারতে ডিপোর্ট বা বহিষ্কার করা হয়েছে। গত সপ্তাহে নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে ওনার মানসিক ও আর্থিক বিপর্যয়ের কথা খোলসা করেছেন এই কমেডিয়ান।

একটা ‘বোকাবোকা’ রিল এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র দোহাই!
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের মার্চ মাসে। সেই সময়ে আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধের আবহে মধ্যপ্রাচ্যে এক চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরেই দুবাইয়ে গুগল ম্যাপ ঠিকমতো কাজ করছিল না। আর এই বিষয়টি নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি হালকা চালের মজার রিল বানিয়ে পোস্ট করেছিলেন যশ। ওনার নিজের ভাষায়, ওটা ছিল অত্যন্ত নিরীহ এবং একটা বোকাবোকা রিল। কিন্তু দুবাইয়ের প্রশাসন বিষয়টিকে মোটেও মজার ছলে নেয়নি।
যশ জানিয়েছেন, গত ১৯ মার্চ তিনি যখন দুবাইয়ে একটি শো করছিলেন, তখনই দুবাই পুলিশ ওনাকে অবিলম্বে থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ওখানকার পুলিশ ওনার ওই ভিডিওটিকে স্রেফ কৌতুক হিসেবে না দেখে, সরাসরি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি বা থ্রেট হিসেবে গণ্য করে! ফলস্বরূপ, ওনাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে টানা ৪৭ দিনের জন্য একটি ডিটেনশন সেন্টারে বা বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়।
৪৭ দিন পর ভারতে প্রত্যাবর্তন, মুম্বইয়ে নতুন লড়াই
টানা ৪৭ দিন পুলিশি হেফাজতে থাকার পর অবশেষে গত ৫ মে যশ ভরদ্বাজকে ভারতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতদিন দুবাইয়ে থাকা এই কমেডিয়ান এখন মুম্বইকে নিজের নতুন ঠিকানা বানিয়েছেন। এই দীর্ঘ বন্দিদশা ওনার ও ওনার পরিবারের ওপর দিয়ে যে কী পরিমাণ ঝড় বইয়ে দিয়েছে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন যশ। ওনার কথায়, এই অভিজ্ঞতা ওনাকে এবং ওনার পরিবারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে তো বটেই, এমনকি আর্থিকভাবেও এক্কেবারে দেউলিয়া বা নিঃস্ব করে দিয়েছিল।
তবে জীবনের এই কালো অধ্যায়কে পেছনে ফেলে আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন যশ। মুম্বইয়ের মানুষ ওনার প্রতি যথেষ্ট সহমর্মিতা দেখিয়েছেন এবং ওনার ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত তিনি আবার কমেডি স্টেজে মাইক্রোফোন হাতে ফিরে আসতে পেরেছেন।
নতুন অধ্যায়ের খোঁজে এবার বেঙ্গালুরু পাড়ি
মুম্বইয়ে নিজেকে একটু গুছিয়ে নেওয়ার পর এবার যশ পাড়ি দিচ্ছেন বেঙ্গালুরুতে। এই শহরের সাথেই জড়িয়ে রয়েছে ওনার কমেডি জীবনের এক গভীর নস্টালজিয়া। যশ জানিয়েছেন, আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে এই বেঙ্গালুরু শহরেই মঞ্চ এবং স্ট্যান্ডআপ কমেডির প্রতি ওনার ভালোবাসার জন্ম হয়েছিল। তাই জীবনের এই নতুন অধ্যায় বা সেকেন্ড ইনিংস শুরু করার জন্য তিনি কয়েক সপ্তাহের জন্য বেঙ্গালুরুতে থাকছেন। ওড়িশা থেকে বাংলার বিনোদন প্রেমী দর্শকরাও যশের এই কামব্যাকে ওনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং আশা করছেন, আগামী দিনে ওনার রসদ যেন আইনি গেরো এড়িয়ে দর্শকদের মুখে হাসি ফোটায়!
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


