প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে বিরাট-অনুষ্কাকে দেওয়া হয়েছিল ৫ কোটি টাকা? ভাইরাল দাবির নেপথ্যে কী সত্য
দাবি উঠেছে, বৃন্দাবন প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে সস্ত্রীক কোহলিকে নিয়ে আসতে নাকি ৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। তবে এই দাবির সমর্থনে এখনও কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
বিরাট কোহলি ও আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দাবি উঠেছে, বৃন্দাবনের আশ্রমে সস্ত্রীক বিরাট কোহলিকে নিয়ে আসতে নাকি ৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। তবে এই দাবির সমর্থনে এখনও কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

বিরাট কোহলি ও প্রেমানন্দ মহারাজকে ঘিরে ৫ কোটি টাকার একটি পারিশ্রমিকের দাবি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ককে বৃন্দাবনে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। যদিও এখনও পর্যন্ত এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করার মতো কোনও যাচাই করা তথ্য সামনে আসেনি।
ABP News-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দাবি তুলেছেন শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংঘর্ষ ন্যাসের সভাপতি দীনেশ শর্মা, যিনি ‘ফলাহারি মহারাজ’ নামেও পরিচিত। জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে লেখা একটি চিঠিতে এই অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিরাটের প্রথমবার প্রেমানন্দ মহারাজের বৃন্দাবনের আশ্রমে যাওয়ার সময় একটি প্রপার্টি বিল্ডার লবি এবং রাজস্থানের একটি বেসরকারি সংস্থা নাকি ৫ কোটি টাকা খরচ করেছিল। দাবি করা হয়েছে, প্রেমানন্দ মহারাজের জনপ্রিয়তা ও প্রচার বাড়াতেই কোহলির মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ৫ কোটি টাকা দেওয়ার এই দাবি এখনও প্রমাণিত হয়নি। কোহলিকে ওই পরিমাণ টাকা দেওয়ার বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য চুক্তি, ইনভয়েস, ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য, পেমেন্টের রেকর্ড বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের সরকারি বিবৃতি সামনে আসেনি।
অন্যদিকে, কোহলি ও তাঁর স্ত্রী, অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে প্রেমানন্দ মহারাজের সাক্ষাতের বিষয়টি প্রকাশ্যেই রয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের মেয়ে ভামিকাকে সঙ্গে নিয়ে কোহলি-অনুষ্কা প্রথমবার বৃন্দাবনের আশ্রমে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। সেই সাক্ষাতের ছবি ও ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
এরপর ২০২৫ সালেও প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করেন বিরাট ও অনুষ্কা। ওই বছর মে মাসে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করার পর তাঁরা ফের বৃন্দাবনের আশ্রমে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। চলতি বছরও তাঁদের আরও একবার সেখানে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
এদিকে ৫ কোটি টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। ‘জয়পুর ডায়লগস’ নামের একটি X অ্যাকাউন্ট থেকে ‘We Trust Premanand Maharaj! Do you?’ প্রশ্ন করে পোস্ট করা হলে সেটি ঘিরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। বহু ব্যবহারকারী প্রেমানন্দ মহারাজের প্রতি তাঁদের বিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার তাঁর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা দাবি ও প্রতিক্রিয়া সামনে এলেও, বিরাট কোহলিকে আশ্রমে নিয়ে আসার জন্য ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল—এই বিষয়টি এখনও অভিযোগের স্তরেই রয়েছে। নির্ভরযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া এই দাবিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


