পুলিশের ব্যারিকেড লাফিয়ে পার, হাঁফালেও থামলেন না ৭৫ বছরের শাবানা আজমি! 'আরশোলাদের' প্রতিবাদে সহমর্মী অভিনেত্রী
রণং দেহি মেজাজে শাবানা: ৭৫ বছর বয়সেও ট্রাকে চড়ে এবং ব্যারিকেড টপকে সোমবার দিল্লির সিজেপি (CJP) আন্দোলনে সরাসরি যোগ দিলেন শাবানা আজমি।
দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে সোমবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজধানী। আর সেই উত্তাল আন্দোলনের একদম সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিলেন ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ বলিউড অভিনেত্রী শাবানা আজমি। শুধু মঞ্চে ভাষণ দেওয়াই নয়, এদিন আক্ষরিক অর্থেই ট্রাকে চেপে আন্দোলনকারীদের সঙ্গ দিলেন জাভেদ জায়া। পুলিশের দেওয়া লোহার ব্যারিকেড টপকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পা মেলালেন এই বর্ষীয়ান তারকা।

পরে সমাজমাধ্যমে সেই অনবদ্য লড়াইয়ের মুহূর্তগুলি শেয়ার করার পাশাপাশি, অবশেষে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার ডাক আসায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে আন্দোলনের মাঝে বলিউডের অন্যান্য তারকাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করতেই সংবাদমাধ্যমের ওপর বেশ চটে যান শাবানা।
ব্যারিকেড পার, হাঁপিয়েও দমলেন না শাবানা
সোমবার বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সংসদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আন্দোলনকারীরা। সেই মিছিলে অভিনেতা প্রকাশ রাজের সঙ্গে একটি ট্রাকে চেপে এগোতে দেখা যায় শাবানাকে। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙতে আন্দোলনকারীদের হাত ধরে ব্যারিকেড পার হচ্ছেন তিনি।
বয়সের ভারে ভিডিওটিতে তাঁকে বেশ হাঁপিয়ে উঠতে দেখা গেলেও, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে তিনি পিছু হঠেননি। ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে হিন্দিতে তিনি লেখেন— ‘এখানে এত বিপুল সংখ্যায় জড়ো হওয়া সমস্ত সহযোদ্ধাদের আমার সেলাম।’ পরে সরকার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি লেখেন: ‘ট্রাকের ভেতর... অবশেষে সরকার আলোচনার (Dialogue) জন্য ডেকেছে। শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে এটি একটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছিল।’
‘ব্যবসায়ীদের নিয়ে তো প্রশ্ন করেন না!’ বলিউডের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ
মিছিল চলাকালীন সংবাদসংস্থা পিটিআই (PTI)-এর মুখোমুখি হয়ে শাবানা আজমিকে এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বলিউডের প্রথম সারির তারকাদের এই আন্দোলনে দেখা যাচ্ছে না কেন— এই প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারান তিনি। সাংবাদিককে পাল্টা তোপ দেগে অভিনেত্রী বলেন, ‘আপনারা শুধু এই চিন্তাতেই মরে যাচ্ছেন যে বলিউডের তারকারা কেন এই মিছিলে নেই! দেশের বড় বড় শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীরা যে এই আন্দোলনে অনুপস্থিত, তা নিয়ে তো আপনাদের কোনো মাথাব্যথা নেই! এই ধরনের প্রশ্ন তুলে আপনারা আসলে মূল আন্দোলন থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দিতে চাইছেন এবং ফালতু বিতর্ক তৈরি করছেন। বিষয়টাকে হালকা না করে, যারা এই লড়াই লড়ছেন তাঁদের সমর্থন করুন।’
তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, দেশের সংবিধান তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে এবং মহাত্মা গান্ধীর অহিংসার পথ অনুসরণ করেই তাঁরা এই লড়াই চালাচ্ছেন, কোনো হিংসা ছড়ানোর উদ্দেশ্য তাঁদের নেই।
‘এই প্রতিবাদের কোনো মানেই হয় না’— পাল্টা হেমা মালিনী
এদিকে সিজেপি-র এই বিশাল আন্দোলন এবং শাবানা আজমি-প্রকাশ রাজদের রাজপথে নেমে লড়াইকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি সাংসদ তথা বর্ষীয়ান অভিনেত্রী হেমা মালিনী। এএনআই (ANI)-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে হেমা সাফ জানান, ‘যদি কোনো সমস্যা থাকে, তবে তা নিয়ে টেবিল টকে বসা উচিত। এভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে কিছু অর্জন করা যাবে না। দেশের যুবসমাজ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য আমাদের মোদী সরকার সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছে এবং প্রচুর কাজ করেছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই আন্দোলনের কোনো মানেই হয় না। আমি শুধু এটাই বলব, আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা উচিত।’
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


