Aamir Khan: ‘পাগলের মতো কাজ করে সম্পর্কগুলো হারিয়েছি’, দু-বার ডিভোর্স! কেঁদে ভাসালেন আমির খান

সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আমির খান তাঁর জীবন এবং কাজ সম্পর্কে একান্ত আলাপচারিতার মাঝে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানান, 'সন্তানরা কখন বড় হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেল বুঝতেও পারিনি। এক গভীর শূন্যতা আমাকে গ্রাস করেছিল।’

Published on: Oct 23, 2026, 16:30:58 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

কর্মজীবন ও সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছালেও ব্যক্তিগত জীবনে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে, তা মনে করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না বলিউড মিষ্টার পারফেক্টশনিস্ট আমির খান। বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের দীর্ঘ ৩০ বছরের অভিনয় জীবনের অন্যতম দুর্বল ও কষ্টের মুহূর্তের কথা স্মরণ করে আবেগঘন হয়ে পড়েন এই মেগাস্টার।

‘পাগলের মতো কাজ করে সম্পর্কগুলো হারিয়েছি’, দু-বার ডিভোর্স! কেঁদে ভাসালেন আমির (PTI)
‘পাগলের মতো কাজ করে সম্পর্কগুলো হারিয়েছি’, দু-বার ডিভোর্স! কেঁদে ভাসালেন আমির (PTI)

‘পাগলের মতো কাজ করে সম্পর্কের ক্ষতি করেছি’:

উৎসবের মঞ্চে বিখ্যাত হংকংয়ের চিত্রপরিচালক পিটার চ্যান হো-সুনের হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘স্ক্রিন আইকন অ্যাওয়ার্ড’ (Screen Icon Award) গ্রহণ করেন আমির খান। প্রথম ভারতীয় হিসেবে তিনি এই সম্মাননা অর্জন করলেন। এরপর কমেডিয়ান ঋষি বুধরানির সাথে কথোপকথনের পর্বে নিজের জীবনের দুর্বলতম মুহূর্ত নিয়ে বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা।

আমির জানান, কোভিডের লকডাউনের সময়ে বসে যখন তিনি হিসেব কষছিলেন, তখন বোঝেন কীভাবে তিন দশক ধরে একটানা কাজের পেছনে ছুটেছেন। চোখের জল মুছতে মুছতে আমির বলেন— ‘১ বছর, ২ বছর বা ৫ বছর পাগলের মতো কাজ করা ঠিক আছে, কিন্তু ৩০ বছর ধরে শুধু কাজের পেছনে ছুটলে সব সম্পর্কগুলো হারিয়ে যায়। সন্তানরা কখন বড় হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেল বুঝতেও পারিনি। এক গভীর শূন্যতা আমাকে গ্রাস করেছিল।’

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন: আমিরের এই কান্নার পর দর্শকরা করতালিতে তাঁকে অভিবাদন জানান। সামলে নিয়ে আমির বলেন, ‘আমি ভাগ্যবশত ৫৬ বছর বয়সে এই সত্যিটা বুঝতে পেরেছিলাম, ৮৬ বছর বয়সে নয়—তখন হয়তো আক্ষেপ করা ছাড়া আর কিছু করার থাকত না। গত চার বছর ধরে তাই পরিবার ও বন্ধুদের জন্য আলাদা করে সময় বের করছি।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরেই তৃতীয় বারের জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন আমির খান। গৌরী স্প্রাটের সঙ্গে সই-সাবুদ করে বিয়ে সারেন তারকা। আগের দুই স্ত্রী রিনা দত্ত এবং কিরণ রাও-এর সঙ্গেও বন্ধুত্ব অটুট আমিরের।

কেরিয়ারের শুরুর দিকের দুঃস্বপ্ন ও ফ্লপ পর্ব:

নিজের জীবনের আরেকটি দুর্বল পর্বের কথা বলতে গিয়ে আমির ১৯৮৮ সালে ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’ মুক্তির পরের সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। প্রথম ছবি সুপারহিট হওয়ার পর মাত্র ৬ মাসের মধ্যে তিনি ৯টি ছবি সই করে ফেলেছিলেন। শুটিং শুরু হতেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাড়ি ফিরে তৎকালীন স্ত্রী রিনা দত্তের সামনে কেঁদে ফেলতেন তিনি।

‘ওয়ান-ফিল্ম ওয়ান্ডার’ তকমা: একের পর এক ছবি ফ্লপ হওয়ায় তৎকালীন ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে ‘ওয়ান-ফিল্ম ওয়ান্ডার’ বলে তকমা দিয়েছিল। আমির বলেন— ‘সেসময় নিজেকে চোরাবালিতে আটকে পড়া মানুষের মতো মনে হতো, যত বের হওয়ার চেষ্টা করতাম ততই যেন ডুবে যেতাম।’

‘লগান’-এর ২৫ বছর উদযাপন:

৯ বছর পর সিঙ্গাপুর চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিলেন আমির খান। এই উৎসবে তাঁর প্রযোজক হিসেবে প্রথম ছবি ‘লগান’ (Lagaan)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। পুরস্কার পেয়ে পরিচালক পিটার চ্যান এবং উৎসব কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান মেগাস্টার।

  • Priyanka Mukherjee
    ABOUT THE AUTHOR
    Priyanka Mukherjee

    প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More