Aamir Khan-Sonam Wangchuk: ‘চতুরের ভিডিয়ো দেখলাম, ওহ ভুল বলেছে, সোনাম ওয়াংচুককে চিনতাম না..’, বিস্ফোরক আমির
‘সোনম ওয়াংচুককে দেখে ‘৩ ইডিয়টস’-এর র্যাঞ্চো তৈরি হয়নি!’ ওমি বৈদ্যর দাবি উড়িয়ে বিস্ফোরক আমির খান। এতদিনে মুখ খুললেন সোনমের অনশন নিয়েও।
বলিউডের ব্লকবাস্টার ছবি ‘৩ ইডিয়টস’-এর কালজয়ী চরিত্র ‘ফুংসুখ ওয়াংডু’ ওরফে ‘র্যাঞ্চো’ (Rancho)-র আসল অনুপ্রেরণা কে? দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সিনেমা মহলের একাংশের বিশ্বাস ছিল, লাদাখের বিশিষ্ট শিক্ষাসংস্কারক ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)-এর জীবন অবলম্বনেই তৈরি হয়েছিল আমির খানের এই চরিত্রটি।

দিল্লির যন্তর মন্তরে যখন সোনমের আমরণ অনশন আন্দোলন ১৯তম দিনে পা দিয়েছে, ঠিক তখনই এই বহু পুরোনো জল্পনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন খোদ মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট। লন্ডন ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (LIFF)-এ যোগ দিয়ে আমির স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, র্যাঞ্চো চরিত্রটি সোনম ওয়াংচুকের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। তবে চরিত্রগত সংযোগ না থাকলেও, অনশনরত সোনমের বর্তমান স্বাস্থ্য নিয়ে তিনি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।
‘এটি একটি ভুল ধারণা’— ‘চতুর’-এর দাবি ওড়ালেন আমির
লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘লগান’ (Lagaan) ছবির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ প্রশ্নোত্তর পর্বে আমির খানকে সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং ছবির অনুপ্রেরণা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
উত্তরে আমির খান সাফ বলেন, ‘না, এটা আসলে সত্য নয়। এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। যখন আমরা ‘৩ ইডিয়টস’ ছবিটির শুটিং করছিলাম, তখন আমি মিস্টার সোনম সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। সম্প্রতি আমি ওমি বৈদ্যর (৩ ইডিয়টস ছবির চতুর) একটা ভিডিও দেখেছি, যেখানে ও এই দাবিটা করেছে। কিন্তু ও ভুল বলছে। হতে পারে চতুর নিজে এমনটা ভেবেছিল। তবে আমি আপনাদের জানাতে চাই যে, ছবির দুই লেখক— রাজু (রাজকুমার হিরানি) এবং অভিজাত জোশী, আমরা কেউই মিস্টার সোনম সম্পর্কে তখন জানতাম না।’
আমির আরও যোগ করেন, ‘তবে মিস্টার সোনম বর্তমানে যে কাজ করছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও ভালো কাজ। আমাদের মনে ওঁর প্রতি এবং ওঁর কাজের প্রতি শ্রদ্ধা থাকার জন্য কোনো সিনেমার চরিত্রের অনুপ্রেরণা হওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি স্রেফ তথ্যগত দিক থেকে সত্যিটা সবার সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম।’
সোনমের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ আমিরের
দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৮ জুন থেকে একটানা অনশন চালাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক, যার ফলে ওঁর শারীরিক অবস্থা দিন দিন অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ছে।
এই বিষয়ে আমির খান নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সবাই ওঁর স্বাস্থ্য এবং জীবন নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। আমরা আশা করি এর একটি ভালো সমাধান সূত্র বেরোবে। আমরা সবাই প্রার্থনা করছি যেন উনি দ্রুত এই অনশন ভঙ্গ করেন।”
৩. কী বলেছিলেন ওমি বৈদ্য (চতুর)?
চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ‘৩ ইডিয়টস’ খ্যাত অভিনেতা ওমি বৈদ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। সেই ভিডিওতে ওমি দাবি করেছিলেন যে, ছবিতে আমিরের ফুংসুখ ওয়াংডু চরিত্রটি আসলে লদাখের রিয়েল-লাইফ ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের জীবন থেকেই অনুপ্রাণিত। সোনমের রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood sugar) মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ওমি অনুরাগীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “আমি চাই না ফুংসুখ ওয়াংডু মারা যাক, আর আমার মনে হয় আপনারাও তা চান না।” ওমির এই দাবির পরই মূলত আমিরকে এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দিতে হলো।
১৯ দিনে পা দিল সোনমের অনশন
NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আমূল সংস্কারের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সাথে যৌথভাবে অনশন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯ দিনে পা দেওয়ায় সোনমের শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তবে শরীর ভাঙলেও মন ভাঙেনি সোনাম ওয়াংচুকের। তিনি সমর্থকদের অনুরোধ করেছেন, কেউ যেন তাঁকে অনশন ভাঙার কথা না বলেন, বরং আগামী ২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ ‘চলো সংসদ’ অভিযানে যেন সবাই শামিল হন। ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনে অভয় দেওল, অনুরাগ কাশ্যপ এবং স্বরা ভাস্করের মতো তারকাদের সমর্থন মিলেছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


