প্রায় ২৫ বছরের আলাপ, রাত পোহালেই দুজনের বিয়ে! কীভাবে প্রেম হয়েছিল গৌরী ও আমিরের?

দীর্ঘ ২৫ বছরের পরিচয়, মাঝখানে জীবনের আলাদা পথচলা, তারপর আবার নতুন করে যোগাযোগ। সেই বন্ধুত্বই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে সম্পর্কে। এবার সেই সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দিতে ৫ জুলাই মুম্বইয়ের বাড়িতেই ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করতে চলেছেন আমির খান।

Published on: Jul 4, 2026, 14:00:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

প্রায় আড়াই দশকের পরিচয়। তারপর দীর্ঘ সময় কোনও যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু ভাগ্যের টানে আবারও একে অপরের জীবনে ফিরে আসেন আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাট। সেই পুনর্মিলনের পর বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কই আজ পৌঁছেছে বিয়ের দোরগোড়ায়। আগামীকাল রবিবার ৫ জুলাই মুম্বইয়ের বাসভবনে একান্ত পারিবারিক আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন এই জুটি।

কীভাবে প্রেম হয়েছিল আমির ও গৌরীর?
কীভাবে প্রেম হয়েছিল আমির ও গৌরীর?

আমির খানের ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আলোচনার বিষয় হলেও গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন নিজেদের সম্পর্ককে জনসমক্ষে আনেননি তাঁরা। চলতি বছরের মার্চ মাসে নিজের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রথমবার গৌরীকে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন অভিনেতা। সেই সময় তিনি জানান, এই বিশেষ দিনটিকেই তিনি সঠিক মুহূর্ত বলে মনে করেছিলেন।

বেঙ্গালুরু-নিবাসী গৌরী স্প্র্যাট পেশায় একজন উদ্যোক্তা। ফ্যাশন এবং ফটোগ্রাফির জগতে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেও বলিউডের আলো থেকে তিনি বরাবরই দূরে থেকেছেন। বর্তমানে তিনি আমির খানের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। ফলে তাঁদের সম্পর্ক এখন শুধু ব্যক্তিগত নয়, পেশাগত ক্ষেত্রেও এক নতুন অধ্যায়ে পৌঁছেছে।

একাধিক সাক্ষাৎকারে আমির জানিয়েছেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি সম্পর্ককে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শিখেছেন। তাঁর কথায়, গৌরী তাঁর জীবনে মানসিক শান্তি ও স্থিরতা নিয়ে এসেছেন। তাঁদের সম্পর্ককে তিনি প্রচারের আলোয় নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া, বিশ্বাস এবং সঙ্গীর প্রতি নির্ভরতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক বলেই মনে করেন।

এক সাক্ষাৎকারে আমির বলেছিলেন, গৌরীর সঙ্গে পরিচয় হওয়াকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম সৌভাগ্য বলে মনে করেন। তাঁর ভাষায়, গৌরীর সঙ্গে থাকলে তিনি শান্তি অনুভব করেন এবং বর্তমানে তাঁরা একসঙ্গে খুব সুখে আছেন। এমনকী তিনি এ-ও বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তাঁর মনে হচ্ছে, তিনি যেন অবশেষে নিজেকে সম্পূর্ণ খুঁজে পেয়েছেন।

সম্প্রতি অভিনেতা নিজেই নিশ্চিত করেছেন, ৫ জুলাই তাঁর বিয়ে। জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান হবে অত্যন্ত ছোট পরিসরে এবং তাঁর মুম্বইয়ের বাড়িতেই। উপস্থিত থাকবেন শুধু দুই পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। নবদম্পতির ইচ্ছা, পুরো অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকুক। সকলের কাছে শুধু আশীর্বাদ চেয়েছেন আমির। জানা গিয়েছে, বিশেষ বিবাহ আইনের অধীনে তাঁদের বিয়ের নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।

এটি হবে আমির খানের তৃতীয় বিয়ে। ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তকে বিয়ে করেছিলেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট। সেই সংসারে জন্ম নেয় দুই সন্তান—ইরা খান ও জুনায়েদ খান। ২০০২ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্র নির্মাতা কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। ২০২১ সালে সেই সম্পর্কেরও ইতি ঘটে। সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া তাঁদের ছেলে আজাদ এখন দুই পরিবারেরই আদরের সদস্য। বিচ্ছেদের পরও রীনা দত্ত এবং কিরণ রাও—দু'জনের সঙ্গেই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন আমির খান। এবার গৌরী স্প্র্যাটকে জীবনসঙ্গী করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন বলিউডের এই অভিনেতা।

  • Tulika Samadder
    ABOUT THE AUTHOR
    Tulika Samadder

    হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More