'পাছা পেড়ে শাড়ি হয়ে দুলবো তোমার কোমরে….’, উত্তম-স্মরণে ঋতুপর্ণার শাড়ি বিতর্কে সরব অভিরূপ, ট্রোলারদের কড়া ধোলাই
Rituparna Sengupta's saree controversy: উত্তম-কুমারের জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে সবকিছুতে ছাপিয়ে গেল ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তর শাড়ি-বিতর্ক। অভিরূপ জানালেন, মহানায়কের পরিবারের অনুমতি নিয়েই ওই শাড়ি পরেছেন নায়িকা।
‘এবার মলে সুতো হবো, তাঁতির ঘরে জন্ম লবো। পাছা পেড়ে শাড়ি হয়ে দুলবো তোমার কোমরে….’, মৌছাক ছবিতে এমনই সুপ্ত বাসনা রেখেছিলেন উত্তম কুমার। সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে উত্তম কুমারের সেই রোম্যান্স আজও অমলিন। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারে সেই লেখনি মিলে গেল উত্তম কুমারের জন্ম শতবর্ষে। ঋতুপর্ণার 'পাছা'পেড়ে শাড়ি হয়ে কোমরে দুললেন উত্তম-সুচিত্রা। এমনকি নায়িকার শাড়ির পাড়েও মহানায়ক-মহানায়িকা। এই পথ যদি না শেষ হয় গানের নানান দৃশ্যের ছবি দিয়েই সাজানো ছিল ঋতুপর্ণার শাড়ি।

মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মরণে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ শাড়ি পরে উপস্থিত হয়ে তীব্র ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয় অভিনেত্রীকে।টলিউডের ‘কুইন’ ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এবং বিতর্ক— যেন একে অপরের পরিপূরক। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, স্রেফ প্রচারের আলোয় থাকার জন্যই নাকি এই ‘ফ্যাশন স্টেটমেন্ট’! চরম সমালোচনার মুখেও পড়েন ঋতুপর্ণা। তবে এবার আর চুপ থাকা নয়, অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রোলারদের যোগ্য জবাব দিলেন তাঁর ভ্রাতৃসম নৃত্যশিল্পী ও সহকর্মী অভিরূপ সেনগুপ্ত।
অভিনেত্রীর সমর্থনে অভিরূপের ক্ষোভ:
অভিনেত্রীকে ঘিরে চলা এই সস্তা সমালোচনার তীব্র বিরোধিতা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিরূপ। তিনি ট্রোলারদের মানসিকতা ও রুচি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কয়েকটি স্পষ্ট যুক্তি সামনে এনেছেন। অভিরূপ মনে করিয়ে দেন, দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে বাংলা, হিন্দি, তামিল, তেলুগু ও বাংলাদেশের ছবিতে দাপটের সঙ্গে কাজ করছেন ঋতুপর্ণা। প্রচারের আলোয় থাকার জন্য ওঁর আলাদা করে শাড়ি পরার প্রয়োজন পড়ে না।
শ্রদ্ধাঞ্জলি, ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়:
শাড়িটি কোনও ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে পরা হয়নি। মহানায়কের শতবর্ষ উদযাপনে তাঁকে সম্মান জানাতেই এই উদ্যোগ। এমনকী উত্তম কুমারের পরিবারের অনুমতি ও সম্মতি নিয়েই ঋতুপর্ণা এই শাড়িটি পরিধান করেছিলেন। পরিবারের যেখানে আপত্তি নেই, সেখানে বাইরের লোক প্রশ্ন তোলার কে?
শিল্পী হিসেবে যেকোনো সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া মানেই কোনো রাজনৈতিক দলের ছাপ গায়ে লেগে যাওয়া নয়। তিনি আগেও বিভিন্ন সরকারের অনুষ্ঠানে কাজ করেছেন, কিন্তু নিজে কোনোদিন সক্রিয় রাজনীতিতে আসেননি বা ভোটে দাঁড়াননি, জানান অভিরূপ।
সোশ্যাল মিডিয়ার সস্তা কটাক্ষ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিরূপ জানান, ট্রোল করার সময় মানুষ নিজেদের নিম্নমানের রুচি প্রদর্শন করেন। কিন্তু একজন শিল্পীর সারা জীবনের পরিশ্রম আর কাজের পরিধিকে এভাবে এক মুহূর্তে ধুয়ে মুছে ফেলা অত্যন্ত অন্যায়।
বিতর্ক যার পিছু ছাড়ে না, সেই ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত নিজে এ বিষয়ে মুখ না খুললেও, অভিরূপের এই কড়া ও যুক্তিনিষ্ঠ জবাব টলিপাড়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনুরাগী থেকে শুরু করে সংস্কৃতি জগতের অনেকেই অভিরূপের এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


