করিশ্মা-অভিষেকের বিয়ে কেন হয়নি? প্রবীণ সাংবাদিকের দাবিতে চর্চায় পুরনো সম্পর্ক
অভিষেক বচ্চন ও কারিশমা কাপুরের বাগদান ভেঙে যাওয়ার কারণ নিয়ে কথা বলেছেন এই প্রবীণ সাংবাদিক। তিনি বলেছিলেন যে ববিতা কাপুর কীভাবে এই বিয়ের বিরুদ্ধে ছিলেন। বিয়ের তারিখ প্রতিনিয়ত স্থগিত করা হচ্ছিল। এটিও একটি বড় কারণ এবং সম্পর্ক ভেঙে যায়।
একসময় বলিউডে সবচেয়ে আলোচিত সম্পর্কগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল অভিষেক বচ্চন ও করিশ্মা কাপুরের প্রেম। দুই পরিবারের সম্মতিতে জাঁকজমকপূর্ণ বাগদানও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের আগেই সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এতদিন এই বিচ্ছেদের জন্য করিশ্মার মা ববিতা কাপুরের আপত্তিকেই প্রধান কারণ বলে মনে করা হলেও, এবার সামনে এসেছে নতুন একটি দাবি। প্রবীণ সাংবাদিক জ্যোতি ভেঙ্কটেশের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্টও (বিবাহপূর্ব চুক্তি) নাকি এই সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ ছিল।

প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্টের কারণেই কি ভেঙেছিল সম্পর্ক?
সম্প্রতি 'হিন্দি রাশ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রবীণ সাংবাদিক জ্যোতি ভেঙ্কটেশ অভিষেক বচ্চন ও করিশ্মা কাপুরের ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেন। তাঁর দাবি, এই সম্পর্ক ভাঙার পেছনে যে একাধিক কারণ প্রচলিত রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল একটি প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট।
তিনি জানান, অভিষেক ও করিশ্মার বাগদান হয়ে যাওয়ার পরও বারবার তাঁদের বিয়ের দিন পিছিয়ে যাচ্ছিল। জ্যোতি বলেন, ‘করিশ্মা এবং অভিষেকের বাগদান হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বাগদানের পর বিয়ের দিন বারবার পিছোতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সেই বিয়ে আর হয়নি।’
বিয়ের বিরুদ্ধে ছিলেন ববিতা কাপুর?
জ্যোতি ভেঙ্কটেশ আরও বলেন, ‘এই সম্পর্ক ভাঙার পেছনে অনেক কারণের কথা শোনা যায়। তার মধ্যে একটি কারণ ছিল, ববিতা কাপুর এই বিয়ের পক্ষে ছিলেন না।’
তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমরাও শুনেছিলাম যে একটি প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্টে সই করার বিষয়টি সামনে এসেছিল। বিদেশে বিয়ের আগে এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করার রীতি রয়েছে। সেই চুক্তির মাধ্যমে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয় নির্ধারণ করা হয়। এই কারণেও নাকি শেষ পর্যন্ত বিয়েটি ভেঙে যায়।’
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই দাবি কোনও পক্ষের তরফে নিশ্চিত করা হয়নি। এটি সাংবাদিক জ্যোতি ভেঙ্কটেশের ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে।

কাপুর ও বচ্চন পরিবারের ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক
জ্যোতি ভেঙ্কটেশ জানান, অভিষেক ও করিশ্মার বাগদানের আগেই কাপুর ও বচ্চন পরিবারের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এই বিয়ের মাধ্যমে সেই পারিবারিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেই মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
বাগদান ভাঙার কয়েক মাসের মধ্যেই অন্য সম্পর্কে করিশ্মা
২০০২ সালের অক্টোবরে অভিষেক বচ্চন ও করিশ্মা কাপুরের বাগদান হয়। অমিতাভ বচ্চনের ৬০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বচ্চন পরিবার প্রকাশ্যে করিশ্মাকে তাঁদের ভবিষ্যৎ পুত্রবধূ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।
কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই, ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের বাগদান ভেঙে যায়। এরপর একই বছরের সেপ্টেম্বরে শিল্পপতি সঞ্জয় কাপুরকে বিয়ে করেন করিশ্মা। সেই দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুই সন্তানের জন্ম হলেও, ২০১৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, অভিষেক বচ্চন ২০০৭ সালে ঐশ্বর্য রাইকে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাঁদের এক কন্যা সন্তান, আরাধ্যা বচ্চন।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


