‘উনি স্রেফ ঘৃণার যোগ্য…’, রচনার ‘ফুটপাতের মেয়ে' মন্তব্যের জের, জোরালো তোপ ঋদ্ধির
রচনার মানসিকতাকে ‘পচে যাওয়া স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্য’ বলে কড়া আক্রমণ ঋদ্ধির। বললেন, 'ফুটপাথের মানুষের স্বপ্নকে শ্বাসরোধ করে দেয় এই স্টাররা!'
জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেতা ঋদ্ধি সেন (Riddhi Sen) বিনোদন জগতের পাশাপাশি সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার। এবার তাঁর নিশানায় ‘দিদি নম্বর ১’ খ্যাত অভিনেত্রী তথা লোকসভার সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee)। সম্প্রতি একটি ইন্টারভিউতে রচনার নির্দিষ্ট কিছু মন্তব্যের পরিপ্রক্ষিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত ঝাঁঝালো এবং তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন ঋদ্ধি।

রচনার মানসিকতাকে ‘পচে যাওয়া স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্য’ বলে উল্লেখ করে ঋদ্ধি সেন ঠিক কী কী লিখেছেন, তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
‘ফুটপাথের মেয়েকে কেন ভোটে দাঁড় করালেন না?’— রচনার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ঋদ্ধি
ঋদ্ধি সেন তাঁর পোস্টে রচনার নাম উল্লেখ করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি মনে করেন রচনা নিজের অপরিহার্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে চরম অপমান করেছেন। ঋদ্ধি লিখেছেন, ‘রচনা ব্যানার্জি নিজের অপরিহার্যতা এবং ঠুনকো দম্ভের রচনা পড়তে পড়তে বললেন যে নির্বাচনে তার বদলে কোনো ‘ফুটপাথের’ বা ‘গড়িয়াহাটের’ মেয়েকে কেন দাঁড় করালেন না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এই মনোভাব একমাত্র এবং একমাত্র এই রাজ্য, দেশ এবং পৃথিবীর সব থেকে বড় শত্রু।’
‘শাসকরা ভাবে ফুটপাথের মানুষের এমপি হওয়ার যোগ্যতা নেই’
ভোটারদের স্বার্থপরের মতো ব্যবহার করা এবং পরবর্তীতে তাঁদেরই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার এই রাজনৈতিক প্রবণতাকে এক হাত নিয়েছেন ঋদ্ধি। শাসক দল ও তারকা প্রার্থীদের দ্বিচারিতা ফাঁস করে তিনি বলেন, 'যে শাসক ফুটপাথের লোকের ভোটে জয়ী হয়, ফুটপাথে যায় ভোট চাইতে, ফুটপাথ আঁকড়ে বেঁচে থাকার লড়াই করা মানুষের কথা শোনার প্রতিশ্রুতি দেয়, ঠিক তারাই বিশ্বাস করে যে ফুটপাথ থেকে উঠে আসা কোনো মেয়ের কোনোদিন মেম্বার অফ পার্লামেন্ট (MP) হওয়ার ক্ষমতা নেই! তারাই সবার আগে ফুটপাথের মানুষের জীবিকার পথ বন্ধ করে, বাসস্থান ভেঙে দেয় বুলডোজার দিয়ে।’
ঋদ্ধি আরও যোগ করেন যে, বুলডোজার এসে মানুষের ঘরবাড়ি বা শরীরটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার বহু আগেই, এই তথাকথিত ‘স্টার পাওয়ার’ মনোভাবের বুলডোজার মানুষের ভেতরের মনটাকে গুঁড়িয়ে দেয়। ফুটপাথের মানুষ যাদের স্টার বা নেতা-নেত্রী বানায়, ক্ষমতা পাওয়ার পর তারা সবার আগে সেই ফুটপাথের হাজার হাজার মনের লালিত স্বপ্নের শ্বাসরোধ করে দেয়।
‘উনি স্রেফ ঘৃণার যোগ্য... সময় এদের ছুঁড়ে ফেলে দেবে’
পোস্টের শেষে রচনার প্রতি নিজের চরম ক্ষোভ ও বিতৃষ্ণা উগরে দিয়ে ঋদ্ধি লিখেছেন, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে গিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে নিজের মানসিকতার দৈন্যতাই প্রকাশ করে ফেলেছেন। ঋদ্ধির ভাষায়, 'ভালো হলো, রচনা ব্যানার্জি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ দিতে গিয়ে একটি জিনিস প্রমাণ করলেন— উনি স্রেফ ঘৃণার যোগ্য। একদিন ঠিক সময়ে আসবে, ফুটপাথের মানুষ এদের পচে যাওয়া স্টার পাওয়ারের ঔদ্ধত্যকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে ফুটপাথে, গড়িয়াহাট, হাটে বাজারে।’
টেলিভিশন শো থেকে বাদ পড়া নিয়ে রচনার কান্নাকাটি ও অভিমানের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই ‘শ্রেণিবিদ্বেষী’ মানসিকতার বিরুদ্ধে ঋদ্ধির এই নজিরবিহীন তোপ এই মুহূর্তে নেটপাড়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


