‘যার এক্স বয়ফ্রেন্ড…’! দেবের নাম নিয়ে শুভশ্রীকে আক্রমণ ‘মিশকা’ অহনার মা চাঁদনীর
টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে রোস্ট করলেন ছোট পর্দার দুঁদে খলনায়িকা অহনা দত্তের মা চাঁদনী গঙ্গোপাধ্যায়। যদিও মা-মেয়ের সম্পর্ক এতেবারেই তলানিতে। তবে নেটপাড়ার কাছে চাঁদনী এখনো অহনার মা হিসেবেই বেশি পরিচিত। তা শুভশ্রীকে কেন আক্রমণ হঠাৎ?
মেয়ে অহনা দত্তের কারণে একসময় বেশ খবরে ছিলেন চাঁদনী গঙ্গোপাধ্যায়। একমাত্র মেয়ের প্রেম ও বিয়ে মানতে পারেননি। সেইসময় মেয়ে ও তাঁর তৎকালীন লিভ ইন পার্টনারকে নিয়ে বহু বিস্ফোরক পোস্ট করেছিলেন চাঁদনী। তবে সেই বিতর্ক এখন অতীত। বরং মেয়ে অহনাকে নিয়ে কোনো মন্তব্য না করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় কখনো নাচ, কখনো রান্না, কখনো বাগান করার ভিডিয়ো ভাগ করে থাকেন। তবে এবার টলিউড অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে রোস্ট করলেন চাঁদনী। নির্বাচনের দিন অভিনেত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেবী দুর্গা বলেছিলেন, সেটিকে টেনেই কটাক্ষ অহনার মায়ের।

চাঁদনী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেন। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘মনটা ভালো নেই একদম। শুভশ্রীর জন্য। কে শুভশ্রী? বাংলা সিনেমার একজন বিখ্যাত হিরোইন। চেনেন না? যার স্বামী গো হারা হেরেছে, যার এক্স বয়ফ্রেন্ড গো হারা হেরেছে। আমাদের দিন যেনতেনভাবে কেটে যাচ্ছে, কিন্তু শুভশ্রীর মানসিক পরিস্থিতির কথা একবার ভাবুন তো! এত সুন্দর একজন অভিনেত্রী, এত সরল মনের মানুষ… আসলে শুভশ্রীই একজন আদর্শ নারী। এত সরল মনের না হলে কেউ এরকম উল্টোপাল্টা, যা খুশি তাই মনে আসল, বলে দেয় বলুন! ওর জন্য আমার সত্যিই খুব মায়া হচ্ছে। কারণ যা যা বলেছে, সবটাই তো ভালোবাসার খাতিরে বলেছে। মানুষ যখন অন্ধভাবে কাউকে ভালোবেসে ফেলে, চোখের সামনে রঙিন পর্দা পড়ে যায়। ঠিক-ভুল, কোনটা বলা উচিত, কোনটা বলা উচিত নয়, কিছুই তখন আর ব্রেনে আসে না। তখন মনে হয় গর্ব-অহঙ্কার দেখিয়ে বলবে, নিজের ভালোবাসার মানুষই শ্রেষ্ঠ। তার জন্য কুছ ভি বলে দেব! আজকের ডেটে দাঁড়িয়ে কতটা লজ্জা পেতে হচ্ছে বলুন তো! আমি তো ভাবছি উনি এই বছর ঠাকুর দেখতে বেরোবেন কী করে। উনিই না বলেছিল সিংঘমকে মা দুর্গার পায়ের তলায় লুটোপুটি খেতে হবে। ইসসসস কী লজ্জা বলুন তো। আজকে সিংঘম তো নিজের জায়গায় রাজ করছে। আর পুষ্পা, পুষ্পা তো ঝুক গ্যয়া শালা।’
বলে রাখা ভালো, এখানে সিংঘম বলতে চাঁদনী বোঝাতে চেয়েছেন উত্তর প্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট তথা আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মাকে। যাঁকে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে, ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) এই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে নিয়ে আসে। এবং শুভশ্রী ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর অসুর-মা দুর্গা নিয়ে একটি মন্তব্য করলেও, তাতে ‘অসুর’ বলতে কাকে বুঝিয়েছেন, তা বলা কঠিন!
কী বলেছিলেন শুভশ্রী? ২৯ এপ্রিল আরবানায় ভোটদানের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভশ্রী বলেছিলেন, ‘একজনকেই চিনি, তিনি হচ্ছেন আমাদের মা দুর্গা। প্রতিবারই মা দুর্গার সঙ্গে যেমন মহিষাসুরের লড়াই করতে আসে, প্রচুর বাহিনী নিয়ে আসে, মা দুর্গা একাই দমন করে। এবারেও করবে।’
তবে অহনার মা, অর্থাৎ চাঁদনী গঙ্গোপাধ্য়ায়ের এই রিল এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এবং তা একেবারেই মনে ধরেনি নেটিজেনদের। শুভশ্রীর ভক্তরা একহাত নিয়েছেন তাঁকে। কমেন্টে একজন লেখেন, ‘শুভশ্রীকে দেখে শিখুন কীভাবে সংসার করতে হয়… আপনার শেখা দরকার।’ তাতে চাঁদনীর জবাব, ‘না ভাই চুরির টাকায় গয়না পরে ভাট বকা শেখার আমার প্রয়োজন নেই।’ আরেকজন লেখেন, ‘আপনি বরং জীবনের কাছে, জীবনযুদ্ধে হেরে গিয়েছেন’। এই কমেন্টে চাঁদনীর জবাব, ‘ঠিক বললেন হ্যাঁ হেরে গেছি, কারণ জীবনের সবটা দিয়ে আমি একটা ভুল মানুষকে বড় করেছি। তবে তাও আজও মাথা উঁচু করে চলি, কারণ মানুষের পয়সা নিয়ে ঠকিয়ে বড়লোক হয়ে যাইনি’।
এমনকী, দেব ভক্তরাও চাঁদনীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভশ্রীর প্রাক্তন অর্থাৎ দেব একজন সাংসদ। উনি বিধানসভা ভোটে দাঁড়াননি, তাই হারার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি এখনো একজন সাংসদ। তবে এক্ষেত্রেও চাঁদনীর যুক্তি, ঘাটালের সব কেন্দ্রে যেহেতু তৃণমূলের হার হয়েছে, তাই সেই দায় বর্তায় এলাকার সাংসদের উপরেও।
ABOUT THE AUTHORTulika Samadderহিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন তুলিকা সমাদ্দার। সাংবাদিকতা জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। কেরিয়ার শুরু করেন ২০১৫ সালে, শুরু থেকেই বিনোদন জগত ও লাইফস্টাইল সেকশনে কাজ করে আসছেন। তারকা থেকে সিনেমা, টলিপাড়ার খুঁটিনাটি খবর রাখা, এমনকী অজানা হাঁড়ির খবরও গসিপ-প্রেমী পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই কাজ। এছাড়াও বলিউডের তারকাদের হালহাকিকতও তুলে ধরেন পাঠকদের সামনে। সঙ্গে সিনেমার রিভিউ, তারকাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, সমস্তটাই নখদর্পণে। সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে তুলিকা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিরাটি মৃণালিনী দত্ত মহাবিদ্যাপীঠ থেকে। এরপর মাস কমিউনিকেশন (Mass Communication) নিয়ে মাস্টার্স করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১০ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তুলিকার কাজের জগতে হাতেখড়ি হয় সংবাদপত্র দিয়ে। ডিজিটাল সাংবাদিকতায় কাজ শুরু হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাত ধরেই। ২০২১ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। সাহিত্যের প্রতি তুলিকার ঝোঁক ছোটবেলা থেকেই, সেই থেকেই সিনেমার প্রতি ভালোবাসা তৈরি। এছাড়াও ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন, আরও বিশেষভাবে বললে তুলিকা পাহাড়-প্রেমী। আর তাই পাঠককে দিতে পারেন নানা জানা-অজানা জায়গায় ভ্রমণের সুলুক সন্ধান, তাও পকেট বাঁচিয়ে কম খরচে। সঙ্গে নিজে গাছপ্রেমী, দিনের বড় একটা অংশ কাটে ছাদবাগানে, আর নিজের প্রাপ্ত জ্ঞান থেকেই তুলিকার গার্ডেনিংয়ের কপি লেখা শুরু।Read More
E-Paper


