Anamika: ‘আমার বাঁ দিকের ডিম্বাশয় আর জরায়ু…’, শুনেছেন ‘মোটা হাতি’ কাটক্ষ, একাধিক নারীঘটিত রোগ রোগে আক্রান্ত অনামিকা!
‘যারা যারা আমাকে হাতি বলো, যারা বলো যে খেয়ে খেয়ে মোটা হচ্ছি…', লাগাতার বডি শেমিং। আর চুপ থাকলেন না অনামিকা। জানালেন কেন তিনি মোটা হচ্ছেন?
সামাজিক মাধ্যমে প্রায়শই তারকাদের শারীরিক গঠন বা ওজন নিয়ে ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়। সম্প্রতি এই ট্রোলিং ও 'বডি শেমিং'-এর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন টেলি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনামিকা চক্রবর্তী। এখানে আকাশ নীলের নায়িকা হিয়া হিসাবে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও আচমকাই যেন হারিয়ে গিয়েছেন অনামিকা। এরপর কিছু পার্শ্ব চরিত্রে দেখা মিললেও নায়িকা হিসাবে অনুরাগীরা তাঁকে দেখতে না পেয়ে হতাশ। তেমনই তাঁর ওজন বৃদ্ধি নিয়েও চলেছে কানাঘুষো। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা এবং চিকিৎসাধীন থাকার কারণে তাঁর শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে, যার জন্য সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে কটু কথা ও ট্রোলিং সহ্য করতে হয়েছে।

গঙ্গা সিরিয়ালের হাত ধরে ছোটপর্দায় ফিরছেন অনামিকা। এখানেও সাইড রোলেই দেখা মিলবে উদয় ঘরণীর। কামব্যাকের খবর জানানোর পর নিজের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে সব সত্যিটা জানালেন অনামিকা।
অভিনেত্রী জানান, : গত দুই-আড়াই বছর ধরে তিনি খুবই অসুস্থ ছিলেন। শুরুতে অনেক ডাক্তার দেখিয়ে ও পরীক্ষা করিয়েও আসল সমস্যা বোঝা যাচ্ছিল না। অবশেষে তিনি থাইরয়েড (Thyroid), হাই কর্টিসল লেভেল (High Cortisol Levels), হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (Hormonal Imbalance), বাইল্যাটারাল পিসিওডি (Bilateral PCOD) এবং অ্যান্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis) রোগে আক্রান্ত বলে ধরা পড়ে।
অনামিকা বলেন, ‘আমার লেফট ওভারি অ্যাটাচড রয়েছে আমার ইউটেরাসের সাথে, সেখান থেকে একটা টিস্য়ু গ্রো করছে। সেটা এই মুহূর্তে সিরিয়াস নয় ওতোটা, তবে কে জানে ভবিষ্যতে কী হবে’। নায়িকা বলেন, ‘আমার কোনও লজ্জা নেই। আমি জানিয়ে দিচ্ছি কেন আমি মোটা হচ্ছি, কেন আমার চোখের তলায় কেন কালি পড়ছে, কেন আমার এইটা (ডবল চিন দেখিয়ে) আছে’।
অনামিকা আরও বলেন, ‘ট্রিটমেন্টই ৬ মাসের। তাহলে রোগা হতে কত সময় লাগবে ভাবো? কারোর বডি তাড়াতাড়ি রিয়্যাক্ট করে, কারোর বডি তাড়াতাড়ি রিয়্যাক্ট করে না। আমি ওই ক্যাটাগরিতে পড়ি যেখানে আমার বডি তাড়াতাড়ি রিয়্যাক্ট করছে না। বাট আই অ্যাম ফাইটিং, আমি মেডিকেশনে আছি, আমি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ওজন বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে ক্রমাগত ট্রলিং ও মানসিক হেনস্তা প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি কটাক্ষকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা যারা আমাকে হাতি বলো, যারা বলো যে খেয়ে খেয়ে মোটা হচ্ছি... আসলে খেয়ে খেয়ে মানুষ মোটা হয় না। মানুষের ভেতরে নেগেটিভিটি থাকলে, মানুষকে মেন্টালি ট্রমাটাইজ করলে, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে কথা বললে... তোমরা একচুয়ালি উইক। তোমরা নিজেদের খুব স্ট্রং মনে করো, বাট ইউ গাইজ় আর ফুলস।’
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে একজন শিল্পীর পরিচয় তাঁর রূপ বা চেহারা নয়, বরং তাঁর অভিনয় দক্ষতা: ‘তোমার অভিনয় তোমার শেষ কথা, তোমার ক্রাফট তোমার শেষ কথা। তোমাকে কেমন দেখতে সেটা শেষ কথা নয়।’
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরণের বুলিং বা কটাক্ষের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘কতদিন আমি চুপ করে থাকব বা সহ্য করব? তাই আমি ক্লিয়ার করে দিলাম, এডুকেট করে দিলাম। যারা ট্রুল ওয়েলউইশার, তাদের জানা উচিত যে একচুয়ালি আমার কী সমস্যা হয়েছে। আমার মতো এরকম অনেক মেয়েরা আছে যারা সাফার করছে... বাট উই আর ফাইটিং।’
অবশেষে দর্শকদের কাছে নিজের কাজের মূল্যায়ন চেয়ে নিয়ে তিনি অনুরোধ জানান, ‘রোগা-মোটা নিয়ে প্লিজ় জাজ কোরো না, অভিনয়টা জাজ কোরো।’ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়কেই নিজের ধ্যানজ্ঞান মনে করে এগিয়ে চলছেন অনামিকা। আর এই জার্নিতে পরিবার থেকে তিনি দারুণ সমর্থন পাচ্ছেন। তার স্বামী উদয় প্রতাপ সিং, মা, দাদু, ঘরের চারপেয়ে সন্তান তার পাশে রয়েছে এবং তারা সবাই খুব যত্ন নেন অনামিকার, তাই তিনি নিজের জীবনে খুবই সুখী। ডিপ্রেশন তাঁকে ছুঁতে পারেনি।
ABOUT THE AUTHORPriyanka Mukherjeeপ্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার একজন অভিজ্ঞ কন্টেন্ট প্রোডিউসার। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ২০১৪ সালে তাঁর পেশাদার জীবন শুরু এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর বিচরণক্ষেত্র হলো বিনোদন জগৎ। টলিউড থেকে বলিউড— বিনোদন সাংবাদিকতায় তাঁর লেখনী ও অভিজ্ঞতা পাঠকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১২ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে প্রিয়াঙ্কা প্রথম ৫ বছর টেলিভিশন বা অডিও-ভিস্যুয়াল মাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০১৯ সালে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা-র যাত্রার শুরু থেকেই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এখানেই তাঁর ডিজিটাল সাংবাদিকতার (Digital Journalism) হাতেখড়ি। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিনোদন সংক্রান্ত খবর, ফিচার এবং ইন-ডেপথ স্টোরি তৈরিতে তিনি বিশেষ পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে প্রিয়াঙ্কা তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: পেশাগতভাবে বিনোদন সাংবাদিক হলেও প্রিয়াঙ্কার হৃদয়ের এক বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ক্রীড়া জগত। সব ধরণের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বইয়ের পাতায় ডুবে থেকে। এছাড়া অজানাকে জানতে দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানো তাঁর অন্যতম নেশা।Read More
E-Paper


